ভবভূতি (Bhavabhuti)-সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস

সংস্কৃত নাট্যজগতে ভবভূতির (Bhavabhuti) স্থান আলোচনা প্রসঙ্গে ভবভূতির পরিচয় , আবির্ভাবকাল ও তার রচিত নাটক গুলির পরিচয় দেওয়া হল ।

ভবভূতি (Bhavabhuti)-টীকা


সংস্কৃত নাট্যজগতে ভবভূতির স্থান

সংস্কৃত নাট্যজগতে কালিদাসের পরেই ভবভূতির স্থান এবং অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ এর পরেই তাঁর উত্তররামচরিতম্ এর স্থান। তাঁর রচিত নাটক তিনটি মালতীমাধব, মহাবীরচরিত এবং উত্তররামচরিত।

ভবভূতির পরিচয়

ভবভূতি মালতিমাধব-এ নিজের কিছু পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কাশ্যপ গোত্র নীলকন্ঠ ও জাতুকনীয় পুত্র।

ভবভূতির আবির্ভাবকাল

তাঁর আবির্ভাবকাল সম্ভবতঃ খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শেষভাগ অথবা অষ্টম শতকের প্রথম ভাগ। নিজের রচনা শক্তির উপর তাঁর আস্থা ছিল, তাই তিনি বলেছেন-

“যৎ ব্রহ্মানমিয়ং দেবী বাগবশ‍্যেবানুবর্ততে”।

ভবভূতি রচিত নাটক গুলির পরিচয়

ভবভূতি রচিত নাটকগুলি হল মালতীমাধব মহাবীরচরিত ও উত্তররামচরিত।

মালতীমাধব নাটক (Bhavabhuti Malatimadhava)

দশ অংকে বিরচিত শৃঙ্গার রস প্রধান প্রকরন শ্রেণীর দৃশ্যকাব্য মালতীমাধব সম্ভবত ভবভূতির প্রথম দৃশ্যকাব্য। পদ্মাবতী রাজের মন্ত্রী ভূরিবসু এবং বিদর্ভরাজের মন্ত্রী দেবরাত পরস্পর বন্ধু ছিলেন। ভূরিবসুর কন‍্যা মালতীর সঙ্গে দেবরাজের পুত্র মাধবের বিয়ের ব্যাপারে এই দুই বন্ধু প্রতিশ্রুতি দিলেন। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে মালতি ও মাধবের এবং মকরন্দ ও মদয়ন্তিকার বিবাহ হয়।মালতীমাধবের প্রণয়ই এই নাটকের মূল বিষয়।

মালতীমাধব নাটকের রচনা বৈশিষ্ট‍্য

চরিত্র চিত্রণে কবি যথেষ্ট নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। করুন ও বীভৎস রসের বর্ণনাতেও তা নৈপুণ্য এখানে প্রকাশিত হয়েছে। সেই যুগের সমাজ চিত্র রূপে এই দৃশ্য কাব্যটির ঐতিহাসিক মূল্য যথেষ্ট।

মহাবীরচরিত নাটক (Bhavabhuti Uttararamacharita)

সাত অঙ্কে বিরচিত বীররসপ্রধান এই নাটকটি রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে রচিত। তাড়কা বধের পর থেকে রাবণ বধের পর অযোধ্যা প্রত্যাগত রামের রাজ্যভিষেক পর্যন্ত কাহিনী নাটকটির বিষয়বস্তু। তবে এতে পরম নৈপুন‍্যের সঙ্গে কবি নানা অভিনবত্বের অবতারণা করেছেন। যেমন-শূর্পনখাই এখানে মন্থরার রূপ ধরে কৈকেয়ীর নাম করে দশরথের বর নিকট প্রার্থনা করে রামচন্দ্রের বনবাসের ব‍্যবস্থা করেছে এবং বালির সঙ্গে রাবণের মন্ত্রী মাল‍্যবানের সন্ধি হয়েছে। এইভাবে কবি কৈকেয়ী ও রামচন্দ্রের (বালিবধ) অপযশ নিবারণ করেছেন।

মহাবীরচরিত নাটকের রচনা বৈশিষ্ট‍্য

এই নাটকের নায়ক রামচন্দ্র একজন মহাবীর বলেই নাটকের নাম হয়েছে মহাবীরচরিত। মালতীমাধব-এ যে সকল ত্রুটি দুর্বলতা দেখা যায়, সেগুলি এখানে কবি অনেকটা কাটিয়ে উঠেছেন।

উত্তররামচরিত নাটক ( Bhavabhuti Uttararamacharita )

সাত অঙ্কে বিরচিত করুণরস প্রধান নাটক উত্তরামচরিত ভবভূতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। রামায়ণের উত্তরকাণ্ড নাটকের কাহিনীর উৎস। কিন্তু অরণ্যবাসের চিত্রদর্শন,জনস্থানে রামের ছায়াসীতার অর্থাৎ অদৃশ্য সীতার স্পর্শভাবাক, লব ও চন্দ্রকেতুর যুদ্ধ, বাল্মিকির উদ্যোগে রামচন্দ্র ও সর্বসাধারণের সামনে রামচরিত অবলম্বনে নাট্যাভিনয় ও তার মাধ্যমে সীতার অপবাদ দূরীকরণ এবং পরিশেষে রামসীতার পুনর্মিলন প্রভৃতি নাট্যকারের অনবদ্য স্বকীয় সৃষ্টি। এগুলি তাঁর অসামান্য নাট্য দক্ষতার পরিচয়।

উত্তররামচরিত নাটকের রচনা বৈশিষ্ট‍্য

নাট্যোৎকর্ষ ও যথার্থ কাব‍্যিক ভাবানুভূতির প্রগাঢ়তায় বিশেষত গভীর করুণ রসের চিত্রণে উত্তররামচরিত সমগ্র সংস্কৃত সাহিত্যে একটি গৌরবময় স্থান অধিকার করে আছে। দাম্পত্য প্রেমের এমন করুণমধুর চিত্র বিশ্বসাহিত্যেই বিরল। শেলীর মতে, ভবভূতির করুনরসই একমাত্র রস এবং তার চিত্রনে তিনি অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।

সংস্কৃত নাট্যজগতে ভবভূতির স্থান নির্ণয়

কালিদাসের পরই নাট্যকার হিসাবে ভবভূতির নাম আগে মনে আসে। প্রকৃতির রুদ্র ও কমনীয় রূপের বর্ণনা ভবভূতি সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। মানুষের মনের গহনে প্রবেশ করে কোমল বৃত্তিগুলির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মরূপ ও রেখার বর্ণনা এমনটি আর কোথাও দেখা যায় না।

তথ্য সুত্র –

আরো পড়ুন

ভবভূতি শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর-সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস

Leave a Comment