ভাস সমস্যা বলতে কি বোঝ ? ভাসসমস্যা সম্বন্ধে প্রবন্ধ রচনা কর

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভাসসমস্যা। এখানে ভাস সমস্যা কি বা ভাস সমস্যা বলতে কি বোঝ ? ভাসসমস্যা সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

ভাস সমস্যা সম্বন্ধে প্রবন্ধ রচনা

সংস্কৃত সাহিত্যে বহুল সমালোচিত বিষয় হল ভাসসমস্যা । এই বিষয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল ।

ভাসের নাটক চক্র আবিষ্কার সম্পর্কে আলোচনা।

       সূচনা:-  কালিদাস পূর্বযুগের একজন প্রথিতযশা নাট্যকার হলেন ভাস। দীর্ঘকাল ধরে ভাসের নামটির সঙ্গেই ছিল মানুষের পরিচয়- তার নাট্যকৃতির সঙ্গে নয়। ১৯০৯-১৯১১ খ্রী: মধ্যে মহামহোপাধ্যায় টি গনপতিশাস্ত্রী দক্ষিণ ভারতের “পদ্মনাভপুরম”-এর কাছে “মনলিক্করমঠম্” নামক স্থানে “মালয়ামলম” হরফে লেখা একটি তালপাতার পুথিতে মোট ১৩খানি নাট্যগ্রন্থ উদ্ধার করেন। বহু আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও গবেষনার পর শাস্ত্রী মহাশয় এই নাটকগুলিকে ভাসের নামেই প্রকাশ করেন।

ভাস সমস্যা কি ? ভাসসমস্যা বলতে কি বোঝ?

আবিস্কৃত এই ১৩টি নাটক -এর কোথাও নাট্যকারের নাম উল্লেখ না থাকায় নাটকগুলির রচয়িতা কে ? তা নিয়ে পণ্ডিত মহলে বহু তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো সমালোচকগনের মতে, নাটকগুলির রচয়িতা ভাস, আবার কেউ কেউ বলেন, এই ১৩টি নাটকের রচয়িতা অতি সাধারন কোনো ব্যাক্তি। সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে এই বিরাট সমস্যা ” ভাসসমস্যা ” নামে পরিচিত।

 ভাস সমস্যা সম্পর্কে স্বপক্ষে যুক্তি 

            (¡) নাটকগুলি কালিদাস, অশ্বঘোষ প্রমূখ নাট্যকারের রচনা অপেক্ষা স্বতন্ত্র।                

            (¡¡) অনেকক্ষেত্রেই নাটক গুলিতে নাট্যশাস্ত্রের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে।      

             (¡¡¡) নাটকগুলিতে পাণিনি ব্যাকরণের নির্দেশ মানা হয়নি।

             (iv) কোনো কোনো নাটকের প্রথমে নান্দী শ্লোক নেই।

             (v) প্রায় সবকটি নাটকেরই রচনাকৌশল একইরকম। সুতরাং, নাটকগুলির রচয়িতা একজনই।

             (vi) ভাসের নাটকচক্র সমালোচনার আগুনে নিক্ষিপ্ত হলেও “স্বপ্নবাসবদত্তা”-কে সেই আগুন  দগ্ধ করতে পারেনি। কারণ, “স্বপ্নবাসবদত্তা” কোনো সাধারণ মানুষের রচনা হতে পারেনা।

পণ্ডিত রাজশেখর তাই বলেছেন-

           

“ভাসনাটকচক্রে অপিচ্ছেকৈ: ক্ষিপ্তে পরিক্ষিতুম্।

 স্বপ্নবাসবদত্তস্য দাহকোহভূন্ন পাবক:।।”

            (vii) প্রতিটি নাটকেই প্রস্তাবনার স্থলে “স্থাপনা” কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।

 ভাস সমস্যা সম্পর্কে বিপক্ষে যুক্তি

           কিন্তু বার্ণেট, জনস্টন, পিশারতি, রামাবতার, হীরানন্দ প্রমুখ পন্ডিতগণ নাটগুলি ভাসের লেখা বলে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক হন। তাদের মতে,

             (i) নাটকগুলি কোনো সাধারণ লোকের রচনা বলেই নাট্যকারের নাম নেই।

             (ii) বিভিন্ন গ্রন্থে উদ্ধৃত ভাস-এর শ্লোকগুলি বর্তমান নাটে পাওয়া যায় না।

             (iii) পাণিনি ব্যাকরণের নির্দেশ না মানায় গ্রন্থের প্রাচীনত্ব প্রমাণ হয় না।

             (iv) কোনো কোনো সমালোচকগনের মতে, নাটগুলি ভাসের রচনা হলেও, পরবর্তীকালে

                 অন্যকোনো পণ্ডিত কিছু রচনা নাটগুলির সঙ্গে সংযোজন করেছিলেন।

   ভাস সমস্যা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, স্বপক্ষের সবল যুক্তিগুলি অপেক্ষা বিপক্ষের যুক্তিগুলি অনেক দুর্বল । তাই যতদিন পৃথিবীতে ভাসের নাম প্রচলিত থাকবে, ততদিন নাটকগুলি ভাসের রচনাই থাকবে।

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট গুলি দেখুন

Leave a Comment