কেন্তুম্ ও সতম্ সম্বন্ধে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা-ভাষাতত্ত্ব

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE ) কর্তৃক প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত  ভাষাতত্ত্ব ( Higher Secondary Sanskrit kentum o satam sambandhe natidirgho prabandha rachana ) এর বড় প্রশ্ন কেন্তুম্ ও সতম্ সম্বন্ধে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা লেখো।

কেন্তুম্ ও সতম্ সম্বন্ধে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করো।

উঃ পৃথিবীর প্রায় চার হাজার ভাষাকে তাদের উৎসগত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিশেষত তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের পদ্ধতির সাহায্যে যে কটি ভাষাবংশে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে ইন্দো-ইউরোপীয় বা আর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগুলিকে প্রধানত দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল কেন্তুম্ শাখা এবং অপরটি হল সতম্ শাখা।

এই ভাষাগোষ্ঠীর দশটি উপশ্রেণি হল— (1) ইন্দো-ইরানীয়, (2) আর্মেনীয় (3) আলবানীয় (4) বাল্‌তো-স্লাভিক, (5) গ্রিক, (6) ইতালিক (7) কেলতিক, (৪) জামানিক, (9) হিটইট এবং (10) তোখারীয়।

কেন্তুম্ শাখা

পুরুঃকণ্ঠ্য স্পৃষ্ট ধ্বনিগুলি গ্রিক, লাতিন, জার্মানিক, কেন্‌টিক ও তোখারীয় শাখায় পশ্চাত্ কণ্ঠা ধ্বনিগুলির সঙ্গে একীভূত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আর্য, বাল্‌ল্টো-স্লাভিক, আলবানীয় ও আর্মেনীয় শাখার মূল ভাষার

(ক) ধ্বনি শ-কারে অথবা স-কারে পরিণত হয়েছে। মূলভাষার পুরঃকন্ঠ্য ধ্বনির এরূপ পরিবর্তন ধরে ইন্দো-ইউরোপীয় বংশের ভাষাগুলিকে দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যে ভাষাগুলিতে এটি কণ্ঠ্যধ্বনি থেকে গিয়েছে সেগুলিকে বলা হয় ‘কেতুম্’ শাখা।

সতম্ শাখাঃ

 যে ভাষাগুলিতে (ক) ধ্বনি শ-কারে অথবা স-কারে পরিণত হয়েছে সেগুলিকে বলা হয় সতম্ শাখা। মূল ভাষার ‘শত’ বাচক শব্দের লাতিন এবং আবেস্তীয় প্রতিরূপ দুটি নিয়ে এই নামকরণ করা হয়েছে।

যেমন – মূল ইন্দো-ইউরোপীয় kmtom> ল্যাটিন কেমে, গ্রিক-hekaton হেক্‌তোন, প্রাচীন আইরিশ- Ce-t গথিক-khund, তুখারীয় Kand। ইংরেজি hundred, জার্মানিক tausend, ফরাসি cent।

কিন্তু একই * kmtom শব্দ হতে > সংস্কৃত শতম্-আবেস্তা সতম্। লিথুয়ানীয়-জিস্তাস্ স্লাকি-সুতো।

কেস্তম্ এবং সতম্ ভাষাগুচ্ছ সম্পর্কে আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-সতম শাখায় পশ্চাৎ কণ্ঠ্য এবং কন্ঠেীষ্ঠ্য বর্ণসমূহের বিবর্তনে কোনো প্রভেদ নেই অর্থাৎ সতম্ শাখায় তারা একীভূত হয়ে গেছে। কারণ সতম্ শাখায় কণ্ঠৌষ্ঠ্য বর্ণগুলি তাদের ওষ্ঠ্য উপাদান হারিয়ে কেবলমাত্র কণ্ঠ্যবর্ণে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment