কর্তৃ কারক: প্রথমা বিভক্তি

সংস্কৃত ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারক । কারকের জ্ঞান ছাড়া সংস্কৃত ব্যাকরণের জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না । নিম্নে কর্তৃ কারক ও প্রথমা বিভক্তি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হল ।

কর্তৃ কারক ও প্রথমা বিভক্তি আলোচনা করে কারকের অন্য পোস্টগুলির লিংক নিম্নে দেওয়া হল ।

কর্তৃকারক

স্বতন্ত্রঃ কর্তাঃ

যে নিজে নিরপেক্ষভাবে কোন ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে স্বতন্ত্রঃ কর্তা বলে। এটাই কর্তৃকারক বলে।

উদাহরণ

বালকঃ চন্দ্রং পশ‍্যতি।
স্বতন্ত্রঃ কর্তাঃ- এই সূত্রানুসারে বালকটিহ নিজে চাঁদ দেখা কাজটিসসম্পন্ন করায় বালকঃ পদে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

ত‍ৎপ্রযোজকো হেতুশ্চ

প্রযোজ‍্য কর্তা

যে ব্যক্তি অপরের আদেশ পেয়ে কোনো কার্যে প্রবর্তিত হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। প্রযোজ্য কর্তায় দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

উদাহরণ-

মাতা শিশুং চন্দ্রং দর্শয়তি।
তৎ প্রযোজকো হেতুশ্চ- এই সূত্রানুসারে শিশু মায়ের দ্বারা আদেশ পেয়ে চাঁদ দেখা কাজটি সম্পন্ন করায় শিশুং পদে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

প্রভুঃ ভৃত‍্যেন কার্যং কারয়তি।
তৎ প্রযোজকো হেতুশ্চ- এই সূত্রানুসারে ভৃত‍্য প্রভুর দ্বারা আদেশ পেয়ে কোন কর্মে প্রবর্তিত হওয়ায় ভৃত‍্যেন পদে প্রযোজ্য কর্তায় তৃতীয় বিভক্তি হয়েছে।

প্রযোজক কর্তা

যে ব্যক্তি অপরকে কোন কাজে প্রবর্তিত করে তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। প্রযোজক কর্তায় প্রথমা বিভক্তি হয়।

উদা- শিক্ষকঃ ছাত্রান্ পাঠ‍ং পাঠয়তি।
তৎ প্রযোজকো হেতুশ্চ – এই সূত্রানুসারে শিক্ষক ছাত্রদের আদেশ দেওয়ায় শিক্ষক পদে প্রযোজক কর্তায় প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

প্রথমা বিভক্তি

” প্রাতিপদিকার্থ লিঙ্গ পরিমাণ বচনাত্রে প্রথমা” –

প্রাতিপদিক:- যা ধাতু নয় অথচ যার একটা নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে তাকে প্রাতিপদিক বলে। যেমন- কৃষ্ণঃ, শ্রীঃ, জ্ঞানম্,উচ্চৈঃ-নীচৈঃ(বিভক্তি যুক্ত নয়)।

লিঙ্গ:- যে চিহ্নের দ্বারা কোনো পুরুষ বা স্ত্রীকে নির্দিষ্ট করা যায় তাকে লিঙ্গ বলে। লিঙ্গকে সাধারণত তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা- নিয়ত, অনিয়ত, অলিঙ্গ।

  • নিয়ত:- যে স্থলে লিঙ্গ নির্দিষ্ট তাদেরকে নিয়ত লিঙ্গ বলে। যেমন- পুং-কৃষ্ণঃ, স্ত্রী- শ্রীঃ, ক্লীব- জ্ঞানম্।
  • অনিয়ত:- একাধিক লিঙ্গে প্রযুক্ত যে শব্দ তাকে অনিয়ত লিঙ্গ বলে।

উদা-

পুংলিঙ্গ- তটঃ, সুন্দরঃ।
স্ত্রীলিঙ্গ- তটী,সুন্দরী।
ক্লীবলিঙ্গ- তটম্,সুন্দরম্।

  • অলিঙ্গ:– যে শব্দের নিজস্ব কোন লিঙ্গ নেই সকল লিঙ্গেই যার রূপ সমান তাকে অলিঙ্গ বলে। এক কথায় অব্যয় শব্দ অলিঙ্গ।যেমন- উচ্চৈঃ- নীচৈঃ।

পরিমাণ:- দ্রোণঃ ব্রীহিঃ- (এক দ্রোণ পরিমাণ শস‍্য)
দ্রোণ রূপে যে পরিমাণ তার দ্বারা ব্রীহি পরিমিত হচ্ছে।

বচন:- বচন শব্দের অর্থ সংখ্যা। সংখ‍্যা বোঝাতে এই শব্দগুলিকে প্রাতিপদিকার্থ বলে অভিহিত করা হয়। যেমন – একঃ, দ্বৌ, বহবঃ।

উদাহরণ

দ্রোণঃ ব্রীহিঃ :- এখানে প্রাতিপ্রদিকার্থ -লিঙ্গ- পরিমাণ- বচন মাত্রে প্রথমা” এই সূত্রানুসারে পরিমান মাত্রাধিক‍্যে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

অভিধানং তু প্রায়েণ তিঙ্ কৃত্তদ্ধিতসমাসৈঃ –

অর্থাৎ অধিকাংশ স্থলেই তিঙ্ বিভক্তি, কৃত‍্য প্রত‍্যয় তদ্ধিত প্রত‍্যয় এবং সমাসের দ্বারা কর্তৃত্ব এবং কর্মত্ব প্রাপ্ত হয়।
হরিঃ সেব‍্যতে- এখানে কর্মবাচ‍্যে সেব‍্যতে এই তিঙ্ বিভক্তি প্রত‍্যয়ের দ্বারা কর্ম হরি অভিহিত হওয়ায় তাতে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

সূত্র:- অভিধানং তু প্রায়েণ তিঙ্ কৃত্তদ্ধিতসমাসৈঃ

প্রথমা বিভক্তি বিধায়ক সূত্র:- প্রাতিপদিকার্থ লিঙ্গ পরিমাণ বচনমাত্রে প্রথমা।
হরি সেব‍্যতে- অভিধানং তু প্রায়েন তিঙ্ কৃত্তদ্ধিত সমাসৈঃ- এই সূত্রানুসারে সেব‍্যতে এই তিঙ্ বিভক্তি যোগে হরিঃ পদে প্রাতিপদিকার্থ লিঙ্গ পরিমাণ বচনমাত্রে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

অহম্ অন্নং খাদামি।
এখানে অহম্ পদে স্বতন্ত্র কর্তায় কর্তৃকারকে প্রাতি প্রদিকার্থ লিঙ্গ পরিমাণ বচনমাত্রে প্রথম বিভক্তি হয়েছে।

ভোঃ ঈশ্বর!
এখানে সম্বোধনে চ এই সূত্রানসারে ঈশ্বর পদে প্রাতিপদিকার্থ লিঙ্গ পরিমাণ বচনমাত্রে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

লক্ষ্ম‍্যা সেবিতঃ।
অভিধানং তু প্রায়েন তিঙ্ কৃত্তদ্ধিতসমাসৈঃ– এই সূত্র অনুসারে সেবিত এই কৃৎ প্রত‍্যয়ের যোগে লক্ষ্ম‍্যা পদে পরিমাণ বচনমাত্রে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

Leave a Comment