স্পৃহেরীপ্সিতঃ (১/৪/৩৬)

স্পৃহেরীপ্সিতঃ (১/৪/৩৬): আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিত কৃত বৈয়াকরণ সিদ্ধান্তকৌমুদী গ্রন্থের কারক প্রকরণে সম্প্রদান কারক বিধায়ক সূত্র এটি। সূত্রটির অর্থ- “স্পৃহয়তেঃ প্রয়োগে ইষ্টঃ সম্প্রদানং স‍্যাৎ।” অর্থাৎ স্পৃহ ধাতুর যোগ থাকলে ইপ্সিত বস্তু সম্প্রদান হবে।

যদি এটা হয় তাহলে – ‘কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম'(১/৪/৪৯) এই সূত্রটির স্পৃহ ধাতুর ক্ষেত্রে বাধিত হয়। কারণ কর্তার ঈপ্সিততম যদি কর্ম হয়ে থাকে তাহলে স্পৃহ ধাতুর যোগে কর্তার ইপ্সিতকর্ম হওয়া উচিত।

যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে কর্মের যে লক্ষণ করা হয়েছে- “কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম’ স্পৃহ ধাতুর ব্যতিক্রম হয়ে পড়ে তাহলে মূল অর্থ দাঁড়াচ্ছে, স্পৃহ ধাতুর প্রয়োগ না থাকলে কর্তার ইপ্সিতকর্ম হবে এবং যদি স্পৃহ ধাতুর প্রয়োগ থাকে তাহলে কর্তার ইপ্সিত চতুর্থী বা সম্প্রদান হবে।

কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কর্মের যে সাধারণ লক্ষণ তা অব‍্যাপ্তি দোষে দুষ্ট হয়ে পড়েছে। অব্যক্ত দোষ তাকেই বলা হয় যা লক্ষ্য স্থলে সর্বত্র প্রযুক্ত হয় না। এখানেও কর্মের লক্ষণ অব‍্যাপ্তি দোষে দুষ্টু হলে কর্মের লক্ষণ লক্ষ্য স্থলে সর্বত্র প্রযুক্ত হবে না। তাহলে এখন প্রশ্ন আসতেই পারে স্পৃহ ধাতুর যোগের কর্ম হবে, না সম্প্রদান হবে? সেক্ষেত্রে পাণিনী বলেছেন-‘বি প্রতিষেধে পরং কার্যম্’। এই ব্যাপ্তি অনুসারে কর্মই হওয়া উচিত।

কারণ- স্পৃহেরীপ্সিতঃ(১/৪/৩৬)
কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম(১/৪/৪৯)

সুতরাং ‘কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম’ এটিই পরবর্তী সূত্র। পরবর্তী সূত্রের দ্বারা পূর্ববর্তী সূত্র বাধিত হয়। যদি তাই হয় তাহলে ‘স্পৃহেরীপ্সিতঃ’ ব্যর্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু সূত্রটি ব্যর্থ হতে পারেনা, যাতে সূত্রটি ব্যর্থ না হয়, তাই দীক্ষিত বলেছেন-ইপ্সিতমাত্রে ইয়ং সংজ্ঞা’- অর্থাৎ স্পৃহ ধাতুর ক্ষেত্রে ইপ্সিত সামান‍্যে বা সাধারণভাবে ইপ্সিত বোঝায় তা সম্প্রদানে চতুর্থী হবে।

আর ‘প্রকর্ষবিবক্ষায়াং তু পরত্বাৎ কর্মসংজ্ঞা’ – অর্থাৎ ইপ্সিত বিশেষে যা ইপ্সিততম বোঝাবে সেখানে কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হবে।

এর উদাহরণ হল- ‘বালিকা পুষ্পানি স্পৃহয়তি’। এখানে বালিকা ফুল পেতে ইচ্ছা করে তাই পুষ্পানি পদে কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

স্পৃহ ধাতুর যোগে ইপ্সিতই কর্ম হবে অন‍্য কেউ নয়। যেমন- ‘বালিকা পুষ্পেভ‍্যঃ বনে স্পৃহয়তি’ – এই বাক্যে পুষ্পই ইপ্সিত, বন নয়। তাই বনে সম্প্রদানে চতুর্থী না হয়ে অধিকরণে সপ্তমী হয়েছে। স্পৃহ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী এবং ইপ্সিত তম বোঝালে কর্মকারকে দ্বিতীয় হবে। এটিই হল সূত্রটির অর্থ।

Leave a Comment