শরৎবর্ণনম্ পাঠ্যাংশ হতে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকগুলির বাখ্যা

শরৎবর্ণনম্ পাঠ্যাংশ হতে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকগুলির বাখ্যা দেওয়া হল।

শরৎবর্ণনম্ পাঠ্যাংশ হতে বাখ্যা-1


১) তর্পয়িত্বা সহস্রাক্ষঃ…..ব‍্যবস্থিতঃ(শ্লোক-২)


উৎস:-

আলোচ্য শ্লোকটি আদি কবি বাল্মিকী রচিত রামায়ণম্ মহাকাব্যের কিষ্কন্ধ‍্যাকান্ডের অন্তর্গত ত্রিংশ সর্গের অন্তর্গত শরৎবর্ণনম্ নামে পাঠ‍্যাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে।


প্রসঙ্গ:-

পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্র প্রিয়তমা পত্নী সীতা ও লক্ষণের সাথে বনবাসে গমন করেন।এরপর রাক্ষসরাজ রাবণ সীতাকে হরণ করে নিয়ে যান। সীতার অন্বেষণ এর জন্য সুগ্রীব এর সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। এরপর যুদ্ধযাত্রার পূর্বে বর্ষার আগমন হয়।তখন রামচন্দ্র লক্ষণ এর সাথে মাল্যবান পর্বতে বর্ষাকাল অতিবাহিত করেন। এরপর এল শরৎকাল। তখন রামচন্দ্র শরৎকালীন সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে আলোচ‍্য শ্লোকে নিজ হৃদয়ের বেদনা লক্ষণের উপর ব্যক্ত করেছেন।


তাৎপর্য বা বাখ্যা

সহস‍্রাক্ষ ইন্দ্র বর্ষাকালে বারি বর্ষণ করে ধরণীকে পরিতৃপ্ত করে, তাকে শস্যপূর্ণ করে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করেছেন। তাই তিনি এখন পরিতৃপ্ত হয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করছেন। অর্থাৎ শরৎকালের আগমনে ইন্দ্র পৃথিবীকে বারিদান করছেন না।
উপসংহার:-  এই শ্লোকের দ্বারা রামচন্দ্র তাঁর মনের  ব্যথা পরোক্ষভাবে লক্ষণ এর কাছে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ইন্দ্র পৃথিবীকে পরিতৃপ্ত করলেও রামচন্দ্র সীতাকে পরিতৃপ্ত করতে পারেনি। তাই তিনি সীতা উদ্ধারের জন্য লক্ষণকে ইঙ্গিত করেছেন।

শরৎবর্ণনম্ পাঠ্যাংশ হতে বাখ্যা-2

২) দীর্ঘগম্ভীরনির্ঘোষাঃ শৈলদ্রুমপুরোগমাঃ।
বিসৃজ‍্য সলিলং মেঘাঃ পরিশ্রান্তা নৃপাত্মজ।।


উৎস:-

আলোচ্য শ্লোকটি আদি কবি বাল্মিকী রচিত রামায়ণম্ মহাকাব্যের কিষ্কিন্ধ‍্যাকান্ডের সর্গের অন্তর্গত শরৎবর্ণনম্ নামক পাঠ্যাংশ থেকে গৃহীত।


প্রসঙ্গ:-

পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্র প্রিয়তমা পত্নী সীতা ও লক্ষনের সাথে বনবাসে গমন করেন। এরপর রাক্ষসরাজ রাবণ সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রামচন্দ্র সীতা অন্বেষণের জন্য সুগ্রীবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। এরপর যুদ্ধযাত্রার পূর্বে বর্ষার আগমন ঘটে, তখন রামচন্দ্র লক্ষণের সাথে মাল‍্যবান পর্বতে বর্ষাকাল অতিবাহিত  করেন। এরপর আসে শরৎকাল। তখন রামচন্দ্র শরৎকালীন সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে আলোচ্য শ্লোকে নিজ হৃদয়ের বেদনা লক্ষণের উপর ব্যক্ত করেছেন।


বাখ্যা বা তাৎপর্য:-

বর্ষাকালে মেঘগুলি দীর্ঘ গম্ভীর গর্জন করে পর্বত ও বৃক্ষ সমূহকে আচ্ছাদন করে অবিরত বর্ষণ করে থাকে। এখন বারি বর্ষণ করে তারা পরিশ্রান্ত হয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করছে।


উপসংহার:-

প্রতিটি জীবের কর্তব্য কর্ম সম্পাদনের পর বিশ্রাম নেয়। অবচেতন হলেও মেয়েরা তাদের কর্তব্য সম্পাদন না করে বিশ্রাম গ্রহণ করে না। সুতরাং এই শ্লোকে রামচন্দ্র বোঝাতে চেয়েছেন তিনি মানুষ হয়েও প্রধান কর্তব্য শত্রুকে ধ্বংস না করে বিশ্রাম গ্রহণ করছেন। তাই তিনি সীতা উদ্ধারের জন্য লক্ষণকে ইঙ্গিত করেছেন।

শরৎবর্ণনম্ পাঠ্যাংশ হতে বাখ্যা-3

৩) সম্প্রত‍্যনেকাশ্রয়চিত্রশোভা লক্ষ্মীঃ শরৎকালগুনোপপন্না।
সূর্যাগ্রহস্তপ্রতিবোধিতেষু পদ্মাকরেষ্বভ‍্যধিকং বিভাতি।


উৎস:-

আলোচ্য শ্লোকটি আদিকবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণম্ মহাকাব‍্যের কিষ্কিন্ধ‍্যা কান্ডের ত্রিংশ  সর্গের অন্তর্গত শরৎবর্ণনম্ নামে পাঠ‍্যাংশ থেকে গৃহীত।


প্রসঙ্গ:-

পিতৃসত্য পালনের জন্য রামচন্দ্রের সাথে তার প্রিয়তমা পত্নী সীতা ও লক্ষণ বনবাসে গমন করেন।  এরপর রাক্ষসরাজ রাবণ সীতাকে অপহরণ করে নিয়ে যান।  রামচন্দ্র সীতা হরণের জন্য সুগ্রীব এর সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। এরপর যুদ্ধযাত্রার পূর্বে বর্ষার আগমন হয়। তখন রামচন্দ্র লক্ষণ এর সাথে মাল্যবান পর্বতে বর্ষাকাল অতিবাহিত করেন। এরপর এল শরৎকাল। শরৎকালীন সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে আলোচ‍্য শ্লোকটিতে নিজ হৃদয়ের বেদনা লক্ষণের কাছে ব্যক্ত করেছেন।


তাৎপর্য বা বাখ্যা

রামচন্দ্র শরৎ শোভা দর্শন করে তার সৌন্দর্য গুলি আলোচনা করেছেন। তিনি দেখেছেন শরতকালের সৌন্দর্য গুলি বিভিন্ন আশ্রয়ে বিভক্ত করে প্রকাশিত হয়েছে। যেমন ছাতিম গাছের শাখায় শাখায় চন্দ্র-সূর্যের ও নক্ষত্রদের প্রভায় এবং উত্তম হস্তীদের লীলায় শরৎলক্ষ্মীর সৌন্দর্য বিভক্ত করে প্রকাশিত হয়েছে। তাহলেও সূর্যের কিরণে বিকশিত পদ্মবনে অধিকমাত্রায় শোভা ধারণ করেছে।


উপসংহার:- 

পদ্মিনী হল সূর্যের পত্নী। অর্থাৎ  শরৎকালে সূর্যের কিরণে পদ্মিনী সৌন্দর্য লাভ করে। কিন্তু অপরদিকে রামচন্দ্র তার পত্নী সীতাকে উদ্ধার করে শোভাময়ী করতে পারেননি। এটিই হল তাঁর উক্তির অভিপ্রায়।

Leave a Comment