মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে শ্লোক বাখ্যা-9

কার্যং সোহবেক্ষ‍্য শক্তিঞ্চ দেশকালৌ চ তত্ত্বতঃ।
কুরুতে ধর্ম সিদ্ধ‍্যর্থং বিশ্বরূপং পুনঃ পুনঃ।।”

মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে বাংলা শ্লোক বাখ্যা-9

কার্যং সোহবেক্ষ‍্য শক্তিঞ্চ দেশকালৌ চ তত্ত্বতঃ।
কুরুতে ধর্ম সিদ্ধ‍্যর্থং বিশ্বরূপং পুনঃ পুনঃ।।”

বঙ্গানুবাদ:-

তিনি (সেই রাজা ) প্রয়োজন, শক্তি, দেশ ও কাল উত্তমরূপে বিচার করে কার্যসিদ্ধির জন‍্য বারবার বিশ্বরূপ (নানাবিধ রূপ বহুরূপ) ধারন করেন।

উৎস:-

আলোচ‍্য শ্লোকটি সুপ্রসিদ্ধ ধর্মশাস্ত্রকার মহর্ষি মনু প্রণীত মনুসংহিতার সপ্তম অধ‍্যায় থেকে গৃহীত।

প্রসঙ্গ:-

আচার্য মনুর মতে রাজা রাজ‍্যের কর্ণধার। তাই তার উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন‍্য স্থান, কাল, পাত্রানুসারে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারন করেন। উক্ত শ্লোকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা

     রাজা তার প্রয়োজন সিদ্ধির জন‍্য সৈন‍্যাদি শক্তি, স্থান এবং সময় প্রভৃতি উত্তমরূপে বিচার বিবেচনা করে বিবিধরূপ ধারন করেন। কারন রাজকার্য জটিল, বিশাল এবং একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সম্পাদনযোগ‍্য। রাজার আচরন কখনো একরকম থাকে না। প্রয়োজনবশে রাজা কখনো শত্রুর প্রতি মিত্রের মতো আচরন করেন। এই প্রসঙ্গে কুল্লূকভট্ট বলেছেন- ‘ রাজবল্লভোঅহমিতি বুদ্ধ‍্যা নাবজ্ঞেয়ঃ।’ এইভাবে রাজা একই সময়ে একই স্থানে প্রয়োজনবশত শত্রু, মিত্র কিংবা উদাসীন হতে পারেন। সর্বজ্ঞ নারায়ণের মতে-
“বিশ্বরূপং মিত্রেঅপি শত্রুতাং শত্রাবপি মৈত্রীম্।”
      মনুসংহিতার অন‍্যতম প্রসিদ্ধ ভাষ‍্যকার রাঘবনন্দ শ্লোকস্থ কার্য , শক্তি, দেশ, কাল, শব্দগুলির ব‍্যাখ‍্যা প্রসঙ্গে বলেছেন- ‘কার্যমনুগ্রহনিগ্রহৌ। শক্তিং বাল‍্যযৌবনাদ‍্যনুরূপাম্। দেশো দূরনিকটাদিঃ। কালং সুভিক্ষদুর্ভিক্ষাদিঃ।’

আলোচ‍্য শ্লোকে অনুষ্টুপ্ ছন্দ পরিলক্ষিত হয়েছে।

মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে অন্যান্য প্রশ্ন ও উত্তর

Leave a Comment