রাজার প্রাত্যহিক কৃত‍্যগুলি কী কী ( মনুসংহিতা )

রাজার প্রাত্যহিক কৃত‍্যগুলি কী কী

রাজার প্রাত্যহিক কৃত‍্যগুলি কী কী? রাজধর্মের বিনয়ী শিক্ষার লিপিবদ্ধ কর। পুরানে উল্লিখিত বিনীত ও অবিনীত রাজার পরিনাম মনুসংহিতা অবলম্বনে লিখ।


উঃ- আচার্য মনু রাজার কর্তব্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে তার গ্রন্থের সপ্তম অধ্যায় বলেছেন-


” বৃদ্ধাংশ্চ নিত‍্যং সেবতে বিপ্রান্ বেদবিদঃ শূচীন্।
বৃদ্ধসেবী হি যততং রক্ষোভিরপি পূজ‍্যতে।।”


অর্থাৎ, রাজা বেদজ্ঞ দেহ ও মনে পবিত্র  বৃদ্ধ ব্রাহ্মণদের নিত্য সেবা করবেন। কারণ হিংস্র রাক্ষসরাও রাজার পূজা করে

এ প্রসঙ্গে আচার্য মনু রাজার প্রাত্যহিক কর্তব্য গুলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তাহলো-


“ব্রাহ্মনান্ পযুর্পাসীত প্রাতরুথ্থায় পার্থিবঃ।
ত্রৈবিদ‍্যবৃদ্ধান্ বিদুষস্তিষ্টেৎ তেষাঞ্চ শায়নে।।”


অর্থাৎ, রাজা প্রতিদিন প্রাতঃকালে গাত্রোত্থান পরে বেদবিদ‍্যায় অভিজ্ঞ নীতিশাস্ত্রজ্ঞ  বয়োবৃদ্ধ ব্রাহ্মণদের সেবা করবেন এবং তাদের আদেশ প্রতিপালন করবেন।


বিনয় শিক্ষার ভূমিকাঃ-

রাজার জীবনে বিনয় শিক্ষা আবশ্যক। তিনি ব্রাহ্মণদের কাছ থেকে বিনয় অর্থাৎ সংযমী শিক্ষা লাভ করবেন। কারণ বিনয়ী রাজা অবিনাশী।  অর্থাৎ দুর্দিনের সময় আত্মসংযমের দ্বারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে পারেন। কিন্তু অবিনয়ী রাজা সহায়সম্বলহীন হয়ে বিনাশপ্রাপ্ত হন।

বিনীত রাজার পরিনামঃ-

আচার্য মনু বিনীত ও অবিনীত রাজন্যবর্গের পরিণাম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুরাণের কাহিনী উল্লেখ করেছেন। বিনয়ী রাজারা কর্তব্য বিষয়ে অধিক দক্ষ এবং কর্তব্যজ্ঞান দৃঢ়তর  হয। বিনয়বশত অর্থাৎ আত্মসংযমের জন্য পৃথ, মনু,কুবের,বিশ্বামিত্র প্রভৃতি রাজারা বিনয়ের জন্য ব্রহ্মণত্ব লাভ করেছিলেন।

পৃথুঃ-

বিষ্ণুপুরাণে বর্ণিত আছে পৃথু একজন আদর্শ বিনয়ী শাসক। তিনি ধনুর্বান হস্তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।  তার বিনয়ের জন্য সসাগরা ধরিত্রীর রাজা হয়েছিলেন।


মনুঃ-

পুরানে 14 জন মনুর নাম পাওয়া যায়। এই মনু বিনয়বশত  রাজ্য লাভ করেছিলেন।


কুবেরঃ-

কুলস্ত্র পুত্র কুবের বিশ্রবা এবং ইলবিলার পুত্র কুবের। কুৎশ্চিৎ শব্দের কু আর শরীর এর “বের’ এরূপ ভাবে নামকরন হয়েছে কুবের। তার আকৃতি ছিল তিনটি পা, আটটি হাত এবং অশুরের মতো শক্তি। তার বিনয়বশত ব্রহ্মাবরে লোকপালত্ব অধিকার লাভ করেন।


বিশ্বামিত্রঃ-

গাধির  অর্থাৎ গাজীর পুত্র বিশ্বামিত্র । বিশ্বামিত্র ক্ষত্রিয় হয়েও তপস‍্যার দ্বারা ব্রহ্মত্ব লাভ করেছিলেন এবং ইন্দ্রের সাথে একসঙ্গে বসে সোমরস পান করেছিলেন।

অবিনীত রাজার পরিনামঃ-

অবিনয়ের  ফলে রাজারা অনেক সম্পত্তি যুক্ত থাকলেও বিনষ্ট হয়ে পড়েন। অবিনয়ী রাজারা হলেন- বেন,নহুষ,সুমুখ ও নিমি।


বেনঃ-

অঙ্গপুত্র বেন অত্যন্ত অধার্মিক ছিলেন। তিনি সমস্ত পৃথিবীর রাজা ছিলেন।  তিনি যজ্ঞ পদ্ধতি বদলে ব্রাহ্মণদের নিন্দা করতে থাকেন ফলে মহর্ষিরা কুশের আঘাতে তাকে হত্যা করেন।


নহুষঃ-

আয়ুর ছেলে নহুষ তিনি নিজের দুর্বুদ্ধির ফলে অর্থাৎ বিনয়ের অভাবে অগস্ত মুনির অভিশাপে 10 হাজার বছর সাপ হয়ে জীবন অতিবাহিত করেন।


সুমুখঃ-

ইনি হলেন গড়ুরের পুত্র। এর অবিনয়ের  উদাহরণ পাওয়া যায়নি।

নিমিঃ-

ইক্ষাকুপুত্র নিমি, তার অপর নাম বিদেহ। তিনি একসময় যজ্ঞের আয়োজন করেন।

কিন্তু বশিষ্টের বিলম্ব হলে তার জন‍্য অপেক্ষা না করে অন‍্যান‍্য মুনিদের দ্বারা যজ্ঞ সম্পাদন করেন। ফলে তিনি বশিষ্ট কর্তৃক অভিশপ্ত হন।

       রাজা যদি সহায় সম্বলহীন বনবাসিও হয়। বিনয়বশত রাজ্য লাভ করতে পারেন।  জিতেন্দ্রিয় রাজা বিনয়ের দ্বারা প্রজাগনকে এমনকি শত্রুর রাজাকে বশীভূত করতে পারেন।

মনুসংহিতা সপ্তম অধ্যায় রাজধর্ম হতে অন্যান্য পোস্ট গুলি

Leave a Comment