মনুসংহিতা অনুসারে দূত সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ বিবরণ দাও | Give a full account of the messenger according to the Manusanghita

মনুসংহিতা অনুসারে দূত সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ বিবরণ দাও | Give a full account of the messenger according to the Manusanghita

দূত সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ বিবরণ

দূত নিয়োগের কারণ


আচার্য মনু তার মনুসংহিতা গ্রন্থের সপ্তম অধ্যায়ের দূত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন রাজা পররাজ্যে অবস্থিত রাজার সংঙ্গে সংবাদ আদান প্রদান করার জন্য দূত নিয়োগ করবেন।

অর্থাৎ পররাষ্ট্র নিতীর সুষ্টু প্রনয়নের জন্য দূতের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। দূত রাজার কথা যথা যথ ভাবে উপস্থাপন করে বলে দূতকে বলা হয় রাজার মুখ ‘‘দূত মুখাহি রাজানঃ’’ এবং শাস্ত্রানুসারে দূতেরা হল অবধ্য।

দূত-এর গুণ

রাজা সর্বশাস্ত্র বিশারদ, আকার, ইঙ্গিত চেষ্টা সম্বন্ধে সখ্যান্ অভিজ্ঞ, শুচি, দক্ষ এবং সদ্ বংশজাত ব্যক্তিকে দূত হিসাবে নিয়োগ করবেন। ঐ দূতদের মধ্যে যারা আবার সর্বদা বিশ্বসী শুচি, দক্ষ সৃতি শক্তি সম্পন্ন দেশ কাল সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা বিশিষ্ট সুন্দর চেহারা যুক্ত নির্ভীক এবং বনন পুটু তাঁরাই সবচেয়ে প্রসংশনীয় দূত বলে গন্য হয়।

দূত প্রসঙ্গে মনু বলেছেন


অনুরক্তঃ শুচির্দক্ষঃ স্মৃতিমান্ দেশকালবিৎ ।
বপুষ্মান্ ঠীতভীর্বাগ্মী দূতে রাজ্ঞঃ প্রশসংতে।।


হস্তি, অশ্ব, রথরূপ সেনাদল সেনাপতির যেমন অধীন, স্বরাষ্ট্র পররাষ্ট্রের শাসন যেমন সেনা বলের অধির অর্থের সংরক্ষন ও স্বদেশ প্রতিপালন রাজার অধীন। তেমনি সন্ধি ও বিগ্রহ দূতের অধীন ‘‘দূতে সন্ধি বিপর্যয়ৌ’’।

দূত যদি বিনীত ভাবে কোন বিষয় শত্রু রাজার নিকট তুলে ধরে তাহলে যেমন শান্তি স্থাপনের সম্ভাবনা থাকে তেমনি আবার ঝগড়া বাঁধাবার ইচ্ছার বিকৃত ভাবে বিষয়বস্তুর অবতারনা করে তাহলে যুদ্ধও অনিবার্য হয়ে উঠে। সূতরাং দূতই বন্ধুকে শত্রু করে আবার শত্রুকে বন্ধুতে পরিনত করে।

দুতের কার্যাবলী

‘‘বুদ্ধা চ সর্বংতত্তে¡ন পররাজ চিকীর্ষিতম্।
তথা প্রযতœ মাতিষ্ঠেদ্ যথাত্মানং ন পীড়য়েৎ।।

দূত সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ বিবরণ মূল্যায়ন


দূত পররাজ্যে নিয়ে গুপ্তচরদের ইঙ্গিত ও আচরনের সাহায্যে শত্রু রাজার কার্যাবীল ও ভৃত্যদের অভিপ্রায় জানতে চেষ্টা করবে। শত্রু রাজার অভিপ্রেত সমস্ত ব্যাপার ভালোভাবে বুঝে নিয়ে দ‚তকে এরূপ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে, যাতে শত্রু পক্ষীয় রাজার তার বন্ধু রাজার কোন অনিষ্ট সাধন করতে না পারে।

Leave a Comment