কূর্ম অবতারের পৌরাণিক কাহিনী

উচ্চ মাধ্যমিক একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ দশাবতারস্তোত্রম্  অনুসারে দশাবতারের ভগবান বিষ্ণুর কূর্ম অবতারের পৌরাণিক কাহিনী বিবৃত করা হয়েছে ।

বিষ্ণুর কূর্ম অবতারের পৌরাণিক কাহিনী বিবৃত করো।


উঃ- দেবগন সুমেরু পর্বতের শিখর প্রদেশের অবস্থান পূর্বক অমৃত প্রাপ্তি বিষয়ক মন্ত্রণা করেছিলেন। এরূপ মন্ত্রনাকালে নারায়ণ ব্রহ্মাকে বললেন যে, দেবগন এবং অসুরগণ একত্র হয়ে সমুদ্র মন্থন করলে সমুদ্র থেকে অমৃত উত্থিত হবে। অতঃপর দেবতাদিগকে বললেন – হে দেবগণ সমুদ্র মন্থন করো কিন্তু বহুবিধ ঔষধি ও রত্নসমূহ পেয়েও মন্থন থেকে ক্ষান্ত হও না। পরিশেষে অমৃত লাভ হবে।

নারায়ণের বাক্যে দেবগন ও অসুরগণ সম্মিলিতভাবে সমুদ্র মন্থনে প্রবৃত্ত হন। মন্দার পর্বত কে মন্থন দন্ড এবং বাসুকি কে মন্থনরজ্জু করে সমুদ্র মন্থনে যত্নবান হন। কিন্তু মন্দর পর্বতের ঘর্ষণে পৃথিবী ব্যথিত হতে লাগল। তিনি নারায়ণের শরণাপন্ন হলেন- নারায়ন পৃথিবী কে রক্ষা করার মানসে স্বয়ং কূর্মরূপ ধারণ করে সমুদ্রে অবতরণ করে মন্দর পর্বতের ভার আপন বিশাল পৃষ্ঠে ধারণ করেন। মন্থনের ফলে একে একে সমুদ্র থেকে চন্দ্র লক্ষ্মী উচ্চৈঃশ্রবা নামক অশ্ব,মহোজ্জ্বল কৌস্তুভ মনি ইত্যাদি বস্তুনিচয় উত্থিত হতে লাগল। পরিশেষে মূর্তিমান ধন্বন্তরি অমৃতপূর্ণ শ্বেত বর্ণ কমন্ডলু হস্তে নিয়ে সমুদ্র থেকে আবির্ভূত হলেন। দেবতারা অমৃতের সন্ধান পেলেন।

এদিকে মন্দর পর্বতের ঘর্ষণের ফলে কূর্মরূপধারী নারায়ণের পৃষ্ঠে চাকার মতো বড়-বড় ক্ষতের সৃষ্টি হল। পড়ে ক্ষত শুকিয়ে গেলেও সেই গোলাকার ক্ষতচিহ্ন গুলি চিরতরে কূর্ম পৃষ্ঠে অঙ্কিত হলো। সেই জন্য আজও সকল কূর্মের পৃষ্ঠে ওইরূপ চক্রাকার দাগ পরিলক্ষিত হয়।

দশাবতারস্তোত্রম্ পদ্যাংশ শ্লোকগুলির শব্দার্থ ও বঙ্গানুবাদ বাংলা

একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ দশাবতারস্তোত্রম্ হতে বড় প্রশ্ন ও উত্তর

Leave a Comment