তর্কসংগ্রহ: উপাধি

তর্কসংগ্রহ হতে উপাধি সম্পর্কে টিকা লেখ ।

তর্কসংগ্রহ হতে উপাধি সম্পর্কে টিকা

উপাধি:- উপাধি হলো ন্যায় বৈশেষিক দর্শনের একটি গুঢ়ার্থবহ ও পারিভাষিক শব্দ।  যে নিজ ধর্ম সমীপবর্তী  বস্তুতে আরোপিত হয় তাকে উপাধি বলে। যেমন জবাকুসুমের লোহিত্বধর্ম উপাধি বলে। যেমন- জবা কুসুমের  লোহিত্বধর্ম স্ফটিকে  সংক্রমিত হলে স্ফটিক রক্তবৎ রূপে প্রতীত হয়। অতএব জবাকুসুম এখানে উপাধি।

উপাধির লক্ষণ

উপাধির লক্ষণে বলা হয়েছে।

“সাধ‍্যব‍্যাপকত্বে সতি সাধনব‍্যাপকত্বমুপাধিত্বম্।”

অর্থাৎ যা সাধ‍্যের ব্যাপক হয়ে সাধন হেতুর ব্যাপক হয় তাকে উপাধি বলে। ‘পর্বতো ধূমবান বহ্নেঃ’ এই অনুমানে হেতু বহ্নি ও সাধ‍্য ধূমের উপাধি হল আর্দ্রেন্ধনসংযোগ উপাধি। যেখানে যেখানে ধূম থাকে সেখানে সেখানেই বহ্নি থাকে। কিন্তু যেখানে যেখানে বহ্নি থাকে সেখানে সেখানে ধূম নাও থাকতে পারে। যেমন- উত্তপ্ত অয়োগোলকে বহ্নি আছে কিন্তু ধূম নেই। অতএব, সাধনের অব‍্যাপক এবং হেতু সোপাধিক হওয়ায় অনুমান দোষ দুষ্ট হয়েছে।

যা সাধ‍্যের ব‍্যাপক হয়েও হেতুর অব‍্যাপক হয় তার নাম উপাধি।

       দীপিকায় আচার্য অন্নংভট্ট চার প্রকার উপাধির উল্লেখ করেছেন।

যথা-

  • i) কেবল সাধ‍্যব‍্যাপক
  • ii) সাধনাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক,
  • iii) উদাসীন ধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক।

i) কেবল সাধ‍্যব‍্যাপক:-

যে উপাধি কেবল সাধ‍্যের ব‍্যাপক হয় অর্থাৎ সর্বদাই সেই সাধ‍্যের অধিকরণে বর্তমান থাকে তাকে কেবল সাধ‍্যব‍্যাপক উপাধি বলে। যেমন- ‘পর্বতো ধূমবান বহ্নে।’

ii) পক্ষধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক:-

যে উপাধি পক্ষ ধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যের ব‍্যাপক হয়ে হেতুর অব‍্যাপক হয় তাকে পক্ষধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক উপাধি বলে।  যেমন-”  বায়ুঃ প্রত‍্যক্ষঃ স্পর্শশ্রয়ত্বাৎ।”

iii) সাধনাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক:-

যে উপাধি সাধনা বচ্ছিন্ন সাধ‍্যের ব‍্যাপক হয়ে হেতুর অব‍্যাপক হয় তাকে সাধনাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক উপাধি বলে। যেমন- ” প্রাগভাবঃ বিনাশী জন‍্যত্বাৎ।”

iv) উদাসীন ধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্যব‍্যাপক উপাধি:-

এখানে উদাসীন ধর্ম বলতে বোঝায় যে ধর্মটি পক্ষেও থাকেনা। আবার হেতুতেও থাকেনা এমন নিরপেক্ষ ধর্ম। সুতরাং উদাসীন ধর্মাবচ্ছিন্ন হয়ে সাধ‍্যের ব‍্যাপক হয় কিন্তু হেতুর অব‍্যাপক হয় তাকে উদাসীন ধর্মাবচ্ছিন্ন সাধ‍্য ব‍্যাপক উপাধি বলে। যেমন- প্রাগভাবঃ বিনাশী প্রমেয়ত্বাৎ।”

Leave a Comment