অগ্নিদেবতার স্বরূপ বর্ণনা কর। (অগ্নিসূক্ত) Describe the nature of the ‘Agnidevata’

অগ্নিসূক্ত(ঋষি-মধুচ্ছন্দা,ছন্দ-গায়ত্রী,দেবতা-অগ্নি)অগ্নিদেবতার স্বরূপ বর্ণনা কর। (অগ্নিসূক্ত) Describe the nature of the ‘Agnidevata’


1) স নঃ পিতেব সুনবে- এখানে সঃ পদের দ্বারা কোন দেবতা উদ্দিষ্ট? রাজান্তমধ্বরানাং গোপাম্ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে তোমার পাঠ‍্যাংশে প্রতিফলিত ঐ দেবতার স্বরূপ বর্ণনা কর।


উঃ- স নঃ পিতবে সুনবে- অর্থাৎ আমাদের নিকট পুত্রের কাছে পিতার মতো সহজলভ্য হও- প্রশ্নোদ্ধৃত মন্ত্রাংশে সঃ পদের দ্বারা অগ্নি দেবতা কে বোঝানো হয়েছে।


রাজান্তমধ্বরানাং গোপাম্- বলতে অগ্নি দেবতা কে বোঝানো হয়েছে।

ভূমিকাঃ-

পৃথিবীর স্থান গত দেবতাদের মধ্যে অগ্নি প্রথম ও প্রধান যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিরুক্তকার যাস্ক তাই বলেন অগ্নিকেই প্রথম ব্যাখ্যা করব। কেননা তিনি পৃথিবীর স্থানের দেবতা- অগ্নিঃ পৃথিবীস্থানস্তং প্রথমং ব‍্যাখ‍্যাস‍্যামঃ। পৃথিবীর এই দেবতা দেবতাদের মধ্যে প্রথম। তাই বেদসংহিতা আরম্ভ অগ্নিসূক্ত দিয়ে।আবার ঐতরেয় ব্রাহ্মণ আরম্ভ অগ্নি কথা দিয়ে- অগ্নির্বে প্রথমা দেবতানাম্। আবার তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণে বলা হয়েছে- অগ্নিরগ্রে প্রথমো দেবতানাম্। বৈদিক ঋষি এই লোহিত বর্ণ পিঙ্গল নয়ন, রুদ্রাক্ষধারী, অন্তর্জ‍্যোতি ঐশী শক্তির আরাধনায় প্রথম আত্মনিয়োগ করেছিলেন। অগ্নি’র অপর নাম বহ্নি। কেননা তিনি দেবতাদের হবি বহনকারী। আসলের যাগ কর্মে তার একচেটিয়া প্রাধান্য।
ঋষি,ছন্দ,দেবতাঃ- ঋকসংহিতার প্রথম মন্ডলের প্রথম সূক্তটি প্রথম নয়টি মন্ত্রের সমাহার।এই সূক্তের ঋষি বিশ্বামিত্রের পুত্র ঋষি মধুচ্ছন্দা,ছন্দ হল গায়ত্রী এবং দেবতা হল অগ্নি।


অগ্নি দেবতার স্বরূপঃ-

এই সূক্তে অগ্নি দেবতার যে স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে তা নিম্নে বর্ণিত হল-

যজ্ঞের পুরোহিতঃ-

অগ্নি হলেন যজ্ঞের পুরোহিত। সায়নাচার্য বলেছেন – রাজার পুরোহিত যেমন যজ্ঞসম্পাদনের দ্বারা অভিষ্ঠ পূরণ করেন। অগ্নিও সেইরূপ যজ্ঞের অঙ্গীভূত সম্পাদক হন। এই হেতু অগ্নিকে পুরোহিত বলা হয। ঋষির দৃষ্টিতে-
“অগ্নিমীলে পুরোহিতং যজ্ঞস‍্য দেবমৃত্বিজম্
হোতারং রত্নধাতমম্।।”

ধনদাতাঃ-

অগ্নি দ্বারা যজমান ধনলাভ করেন সে ধন দিন দিন বৃদ্ধি প্রাপ্ত ও যশোযুক্ত হয় ও তার দ্বারা অনেক বীরপুরুষ নিযুক্ত করা যায় –

“অগ্নিনা রয়িমশ্নবৎ পোষমেব দিবে দিবে
যশসং বীরবত্তমম্”।

যজ্ঞের রক্ষাকর্তাঃ-


যজমান যে যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন অগ্নিদেব সেই যজ্ঞকে রাক্ষসাদির আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন অগ্নির দ্বারা রক্ষিত যজ্ঞে আহূত যজমানের হবি নিশ্চয়ই দেবতাদের সমীপে পৌঁছায।ঋষির দৃষ্টিতে-

” অগ্নে যং যজ্ঞমধ্বরং বিশ্বতঃ পরিভূরসি।
স ইদ্দেবেষু গচ্ছতি।।”

সত‍্যপরায়ণঃ-

অগ্নি ক্রান্তপ্রজ্ঞ, সত‍্যপরায়ণ, বিবিধ শ্রেষ্ট কীর্তিযুক্ত। ঋষির দৃষ্টিতে-

” অগ্নির্হোতা কবিক্রতুঃ সত‍্যশ্চিত্রশ্রবস্তমঃ।
দেবো দেবেভিরাগমৎ।।’

কল‍্যানকারীঃ-

অগ্নি হব‍্যদাতা যজমানের সর্বদা কল্যাণ সাধন করে।

সকলের পূজনীয়ঃ-

অগ্নি দেবতা কে সকলে প্রতিদিন দিবারাত্র মনের সহিত নমস্কার জানায়। মননই হল অগ্নির সান্নিধ্য লাভের শ্রেষ্ট উপায। ঋষির দৃষ্টিতে-

” উপত্বাগ্নে দিবেদিবে দোষাবস্তর্ধিয়া বয়ম্
নমো ভরন্ত এমসি।”

সহজলভ‍্যঃ-

পুত্রের নিকট পিতা যেরূপ অনায়াসে অধিগম্য, অগ্নি আমাদের নিকট সেইরূপ শোভন প্রাপ্তি যুক্ত হয় মঙ্গলার্থে আমাদের নিকট সমবেত হন। ঋষির দৃষ্টিতে-

” স নঃ পিতবে সুনবেঅগ্নে সূপায়নো ভব।
সচস্বা নঃ স্বস্তয়ে।।”

উপসংহারঃ-

পরিশেষে বলা যেতে পারে মানুষের পরম আত্মিয়ের তূল‍্য, সদা তরুণ, নিত‍্যধনের অধিকারী এই অগ্নিদেবের স্বরূপ শুধু বাহ‍্যিক অনুষ্ঠান সর্বস্বতার মধ্যে পূর্ণতা পায়নি। তার নিত‍্যধন সদাপুষ্ট হয়ে যজমানকে শুধু বাহ্যিক ভাবে পূর্ণ করেনা রূপ থেকে অরূপে পৌঁছে তা মানুষের অন্তরকে পবিত্রতার স্পর্শমণি দিয়ে নির্মল রাখে। অকলঙ্ক পুণ্যের ঐশ্বর্যে মানুষ পূর্ণতা লাভ করে। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও অনুভব করেন-
” আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
এ জীবন পুণ্য করো দহন দানে।।’
অতএব অগ্নির স্বরূপ অফুরান।

1 thought on “অগ্নিদেবতার স্বরূপ বর্ণনা কর। (অগ্নিসূক্ত) Describe the nature of the ‘Agnidevata’”

Leave a Comment