অর্থশাস্ত্র: ব্যাখ্যা – ৩

অর্থশাস্ত্র হতে ব্যাখ্যা – ৩। ব‍্যবস্থিতার্যমর্যাদঃ কৃতবর্ণাশ্রমস্থিতিঃ। ত্রয‍্যা হি রক্ষিতো লোকঃ প্রসীদতি ন সীদতি।।

অর্থশাস্ত্র হতে ব্যাখ্যা – ৩

ব‍্যবস্থিতার্যমর্যাদঃ কৃতবর্ণাশ্রমস্থিতিঃ।
ত্রয‍্যা হি রক্ষিতো লোকঃ প্রসীদতি ন সীদতি।।

অনুবাদ

যে লোক সমাজে আত্মমর্যাদা অর্থাৎ সদাচার প্রতিষ্ঠিত থাকে, যে সমাজে বর্ণ ধর্ম ও আশ্রমধর্ম পরিপালিত হয়, যে প্রজাকূল ত্রয়ীর বিধান দ্বারা সুরক্ষিত হয় সে প্রজালোক প্রসন্ন অর্থাৎ সুখ সমৃদ্ধ থাকে এবং কখনোই নষ্ট হয় না।

উৎস

আচার্য কৌটিল্য রচিত অর্থশাস্ত্রম্ গ্রন্থের বিনয়াধিকারিকের ত্রয়ীস্থাপনা অংশ থেকে এই শ্লোকটি নেওয়া হয়েছে। তিনটি বেদের দ্বারা রক্ষণ এবং প্রজা সমূহ প্রসন্ন থাকে তা এই শ্লোকে বলা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

ত্রয়ী বলতে- ‘সামৃগযজুর্বেদাস্ত্রয়স্ত্রয়ী’ অর্থাৎ ঋক, সাম যজু- এই তিনটি বেদকে বলা হয়েছে ত্রয়ী। এই তিনটি বেদের উপযোগিতা সম্বন্ধে আচার্য কৌটিল‍্য সবিশেষ বর্ণনা করেছেন। ত্রয়ীর মধ্যে বলা হয়েছে যে রাজ্যের সমস্ত প্রজা দায়িত্ব পালন করবেন এবং চার আশ্রমের মধ্যে ব্রহ্মচর্য গার্হস্থ‍্য বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস এর মধ্যে এখানে যা যা নিয়ম লিপিবদ্ধ আছে শাস্ত্র অনুযায়ী তা সমস্ত প্রজা বর্গকে মেনে চলতে হবে। যে সমস্ত প্রজারা ত্রয়ীর এই বিধান মেনে চলেন তারা সর্বদাই রাজ্যে প্রসন্ন থাকেন। অর্থাৎ সুখে দিনযাপন করে থাকেন। কখনোই বিনাশ প্রাপ্ত হন না। সুতরাং আচার্য কৌটিল‍্যের রাজা সহ সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে নির্দেশ হলো যে শাস্ত্রানুযায়ী যে নিয়ম নীতির প্রবর্তন করা হয়েছে তা সকলের মেনে চলা উচিত। তবেই শান্তি শৃঙ্খলা ভাবে একটি রাজ্য পরিচালিত হতে পারে।

এটাই হল শ্লোকটির অর্থ।

Comments