মনুসংহিতা অনুসারে রাজার মন্ত্রনা বিধি

মনুসংহিতা অনুসারে রাজার মন্ত্রনা বিধি আলোচনা করা হল ।

মনুসংহিতা অনুসারে রাজার মন্ত্রনা বিধি মন্ত্রনা কর?

মনুসংহিতা অনুসারে রাজার মন্ত্রনা বিধি মন্ত্রনা কর? According to the Monusonghita Rules of Advice (mantrana) as per The Code of Conduct
‘অথবা’
‘মন্ত্রয়েৎ সহমন্ত্রিভিঃ’ মন্ত্রীদের সংঙ্গে রাজার মন্ত্রনা এ বিষয়ে গোপনীয়তার গুরুত্ব সম্পর্কে মনুর মতামত বর্ননা কর ?


উত্তর – মনুসংহিতার ‘রাজধর্ম’ শীর্ষক সপ্তম অধ্যায়ে রাজার মন্ত্রীর সাথে মন্ত্রনার স্থান কাল বিষয়ের উল্লেখের মাধ্যমে মন্ত্রনা বিধির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা হল এরূপ —

রাজার মন্ত্রনা বিধি

রাজকার্য পরিচালনায় মন্ত্রগুপ্তি সর্বপেক্ষা গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় তাই রাজা রাত্রির শেষ প্রহরে শয্যা থেকে উঠে প্রাতঃ কৃত্যাদি সমাপনান্তে অগ্নিতে আহুতি প্রদান করে, ব্রাহ্মনদের পূজা শেষ করে শুভলক্ষন বিশিষ্ট রাজসভায় প্রবেশ করবেন। সেখান অন্যান্য রাজকর্তব্য শেষ করে প্রজাদের তুষ্ট করে বিদায় দিবেন। পরে মন্ত্রীদের সাথে মন্ত্রনা করবেন।

মন্ত্রীদের সংঙ্গে রাজার মন্ত্রনা এ বিষয়ে গোপনীয়তার গুরুত্ব সম্পর্কে মনুর মতামত

পর্বতে আরোহন করে জনশূন্য গৃহে বা নির্জন অরন্যে অপরের অলক্ষিতে অবস্থান করে রাজা মন্ত্রীদের সাথ মন্ত্রনা করবেন। সাধারন লোকেরা রাজার মন্ত্রনা জানাতে পারে না এবং তিনি দরিদ্র হলেও ধীরে ধীরে সকল পৃথিবী ভোগ করতে পারেন।

যথা
যস্য মন্ত্রং ন জানন্তি সমাগম্য সমাগম্য পৃথগ্জনাঃ ।
স বৃৎ স্নাং ভ‚ঙক্তে কোষ হীনো ইপি পার্থিবঃ ।।

মন্ত্রনার চেয়ে মন্ত্রনা গোপনীয়তা আরো বেশী, তাই রাজা মন্ত্রীদের সাথে মন্ত্রনা কালে জড়, মূক, অন্ধ, বধির, পশু, পক্ষী, অতিবৃদ্ধ, স্ত্রীলোক, ম্লেচ্ছ, পিড়ীত ও অঙ্গহীন বা বিকলাঙ্গ এদেরকে দুরে সরিয়ে দেবেন। কেননা জড়, মূক প্রভৃতি অপমানিত হলে এবং পুশু, পাখি প্রভৃতি বিশেষ করে স্ত্রী লোকেরা মন্ত্রনা প্রকাশ করে থাকে।

অতএব তাদের থেকে সর্বদাই গোপনীয়তা অবলম্বন করা রাজার একান্ত আবশ্যক। দীনে মধ্যভাগে অথবা মাঝরাতে শরিরীক মানসিক ক্লান্তি দূর হলে পর ক্লান্তি শূন্য হয়ে রাজা মন্ত্রীদের সাথে অথবা একাকী ধর্ম, অর্থ, কাম ও অন্যান্য সম্বন্ধ বিষয় চিন্তা করবেন।

মনুসংহিতা সপ্তম অধ্যায় রাজধর্ম হতে অন্যান্য পোস্ট গুলি

Leave a Comment