মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে শ্লোক সংস্কৃত বাখ্যা-7

মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে শ্লোক সংস্কৃত বাখ্যা-7 , এবং বৃত্তস‍্য নৃপতে শিলোঞ্ছেনাপি জীবতঃ।
বিস্তীর্য‍্যতে যশঃ লোকে তৈলবিন্দুরিবাম্ভসি।

মনুসংহিতা রাজধর্ম হতে শ্লোক সংস্কৃত বাখ্যা-7

সংস্কৃত বাখ্যা-7

এবং বৃত্তস‍্য নৃপতে শিলোঞ্ছেনাপি জীবতঃ।
বিস্তীর্য‍্যতে যশঃ লোকে তৈলবিন্দুরিবাম্ভসি।

উৎস

মনুসংহিতায়াঃ সপ্তম অধ‍্যায়াৎ গৃহীত অয়ং মন্ত্র।

প্রসঙ্গ

অস্মিন্ শ্লোকে রাজ যশঃ কথং সর্বত্র বিরাযতে তৎ অত্র  বর্ণিতম্।

বাখ্যা

রাজা আত্মবিষয়ে নিয়তং যথা শাস্ত্র ব‍্যবহারি তিক্ষ্নদন্ডঃ ভবেৎ। স শত্রুষু দন্ড পরায়ণঃ, মিত্রেষু অকুটিলঃ, ব্রাহ্মণেষু চ ক্ষমাবান্ ভবেৎ। রাজা শীল-উঞ্ছজীবিকাং নির্বায়তঃ অপি রাজ্ঞঃ যশসা জগৎ পরিব‍্যাক্তঃ ভবতি। যথা জলে পতিত তৈলবিন্দুঃ অনায়াসেন সমগ্র জলতলে পরিব‍্যক্তং ভবতি। অত রাজ্ঞঃ যশঃ সর্বথা বিরাজতে ইতি।

মনুসংহিতা রাজধর্ম হতে শ্লোক বাংলা বাখ্যা-7

এবং বৃত্তস‍্য নৃপতেঃ শিলোঞ্ছেনাপি জীবতঃ।
বিস্তীর্যতে যশো লোকে তৈলবিন্দুরিবাম্ভসি।।”

অনুবাদ:- এরকম আচরনকারী রাজা শিলোঞ্ছ দ্বারা জীবন যাপন করলেও (ক্ষীনবৃত্ত হলেও) তার যশ জলে তৈলবিন্দুর মতো বিস্তারলাভ করে।

উৎস:- আলোচ‍্য শ্লোকটি স্মৃতিকার মনু প্রণীত মনুসংহিতা গ্রন্থের রাজধর্ম নামক সপ্তম অধ্যায় থেকে গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গ:- রাজধর্ম পর্যালোচনা করে আচার্য মনু কিপ্রকারে রাজার যশ চতুর্দিকে বিস্তার লাভ করে তা সুন্দর উপমার সাহায্যে তুলে ধরেছেন।
       রাজাকে সর্বদা শাস্ত্রানুসারে আচরণ করতে হবে।তাকে স্বরাজ্যের কর্ম সাফল্যমন্ডিত করতে ন‍্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। শত্রুর প্রতি তীক্ষ্ণদন্ড, মিত্রের প্রতি সরল ব্যবহার সম্পন্ন ও ব্রাহ্মণের প্রতি ক্ষমাশীল হবে, প্রজাদের সর্বপ্রকারের রক্ষা ও তাদের মনোরঞ্জন করায় রাজার একমাত্র কর্তব্য। কর্তব্য পরায়ন রাজা রাজকোষহীন হয়ে পড়তে পারেন,  যথাযথ রাজকর্তব্য করতে গিয়ে রাজাকে যদি ভিক্ষাবৃত্তিও অবলম্বন করতে হয় তাও ভালো।  কিন্তু রাজ কর্তব্য ভ্রষ্ট হওয়া উচিত নয়।  রাজার দুরবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে মনু  শিলোঞ্ছ শব্দের ব্যবহার করেছেন।  ধানের মঞ্জরি মাঠ থেকে কুড়িয়ে তার চাল দ্বারা জীবিকা অর্জনকে বলে শিল এবং একটি একটি করে ধান কুড়িয়ে সেই অন্নের  দ্বারা জীবিকা অর্জন করা হলো উঞ্ছ। পারিভাষিক অর্থে শিলোঞ্ছ শব্দের দ্বারা স্বল্প বৃত্ত সম্পন্ন বা ক্ষীণকোশ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝায়, এইসব শ্লোকের ব্যাখ্যায় কুল্লূকভট্ট তাই  বলেছেন- ‘শিলোঞ্ছেনেতি ক্ষীনকোশত্বং বিবক্ষিতম্। যে রাজা স্বল্পবিত্ত বিশিষ্ট অথচ নিজ রাজ্যে শাস্ত্রসম্মতভাবে দণ্ডবিধান করেন, শত্রুদের উপর কঠোর দণ্ডবিধান করেন, সহজ-মিত্রদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও অকপট আচরণ করেন এবং ব্রাহ্মণদের প্রতি ক্ষমাশীল, তার খ্যাতি জলে পতিত তৈল বিন্দুর মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।তাই ভাষ‍্যকার কুল্লূখভট্ট বলেছেন- ‘ক্ষীনকোশস‍্যাপি নৃপতেরুক্তাচারবতো জলে তৈলবিন্দুরিব কীর্তিলোকে বিস্তারমেতি।’ জলে তেল পড়লে তা ক্রমশ ভেঙ্গে ভেঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে যথাযথ দণ্ড বিধান কারী রাজার খ‍্যাতিও চারিদিকে অর্থাৎ স্বরাজ্যে ও পররাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আলোচ‍্য শ্লোকে  অনুষ্ঠুপ্ ছন্দ পরিলক্ষিত হয়েছে। 

মনুসংহিতার অন্যান্য প্রশ্ন গুলি পড়ুন-

Leave a Comment