মনুমৎস্যকথা হতে প্লাবন কাহিনী

মনুমৎস্যকথা হতে (manu matsya katha Long Notes Sanskrit Hons Pass college) ছাত্র ছাত্রীদের জন্য – প্লাবন কাহিনী নিজের ভাষায় বর্ণনা

মনুমৎস্যকথা হতে প্লাবন কাহিনী বর্ণনা

প্লাবন কাহিনী


স ঔঘ উত্থিত নাবমাপেদে ‘- এই পঙক্তিটির উৎস কি? স বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? মনুমৎস্যকথা য় বিবৃত প্লাবন কাহিনীটি নিজের ভাষায় বর্ণনা কর।

উঃ- স ঔঘ উত্থিত নাবমাপেদে– মনুমৎসকথা-য় উল্লেখিত আলোচ্য পঙক্তিটির উৎস হল শুক্লযজুর্বেদের মাধ্যন্দিন শাখার শতপথ ব্রাহ্মণ।


     এখানে স বলতে মহর্ষি মনুকে বোঝানো হয়েছে।ঔঘ কথাটির অর্থ হল মহাপ্লাবন।


মনুমৎস্যকথা হতে প্লাবন কাহিনীটি বর্ণনা


      শুক্লযজুর্বেদের মাধ‍্যন্দিন শাখার  শতপথ ব্রাহ্মণ এর অন্তর্গত – শীর্ষক আখ‍্যানে এক ভয়ঙ্কর প্লাবন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনাটি নিম্নরূপ-


    প্রাতঃকালে মনুর হাত ধোয়ার জন্য পরিচারকেরা জল নিয়ে আসে তিনি সেই জল দিয়ে হাত ধুতে থাকলে হঠাৎ তার হাতে ছোট মাছ এসে পড়ে সেই মাছটি তৎক্ষণাৎ মানুষের গলায় মনু কে বলে তুমি আমাকে পালন করো আমি তোমাকে রক্ষা করব-

বিভৃতি মা পারয়িষ‍্যামি ত্বেতি।


মনু জিজ্ঞাসা করলেন তুমি আমাকে কিভাবে রক্ষা করবে?-

কস্মাৎ মা পারয়িষ‍্যাসি ইতি

মাছটি বলল এক মহা প্লাবন সমস্ত জীব কে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আমি সেই বিপদ/বন্যা থেকে রক্ষা করবো। –

ততস্ত্বা পারয়িতাস্মীতি।


             তখন মনু জানতে চাইলো কিভাবে মাছটিকে পালন করতে হবে-

কথং তে ভৃতিরিতি।

তখন মাছটি বলল আমরা যতদিন ছোট থাকি ততদিন আমাদের বিপদ কারণ বড় মাছেরা ছোট মাছের গিলে ফেলে-

উত মৎস‍্য এব মৎস‍্যং গিলতি।

তাই তুমি প্রথমে আমাকে একটি কলসিতে রাখো তারপর আমি যখন কলসি অপেক্ষা বড় হয়ে যাব তখন একটি গর্ত করে আমাকে সেখানে রাখবে পরে আরো বড় হয়ে গেলে সমুদ্রে ছেড়ে দেবে তাহলে আমি বিপদ থেকে রক্ষা পাবো-

তর্হি বা অতিনাষ্ট্রো ভবিতাস্মীতি

মাছটি মনুকে ভয়ঙ্কর বন্যার সময় জানিয়ে দিল এবং মনুকে ওই নির্দিষ্ট দিনের পূর্বে একটি নৌকা তৈরি করে তার জন্য অপেক্ষা করতে বলল।

অতঃপর মনু মাছটির কথামতো মাছটিকে বড়ো করে তুলল এবং মাছটি দ্রুতগতিতে বেড়ে উঠল। কারন সে অতিদ্রুত বেড়ে ওঠে। এরপর মাছটিকে মনু সমুদ্রে ছেড়ে দিলন।

এরপর মাছটির নির্দেশ মতো নৌকা তৈরি করে বন‍্যার অপেক্ষায় রইলেন।

মাছটির নির্দেশিত বছরে বন‍্যা হল। তখন মনু মাছটির কথামতো তৈরি করা নৌকাটিতে চেপে বসল- স ঔঘ উথ্থিতে নাবমাপেদে। এবং মৎস‍্যের জন‍্য অপেক্ষা করতে লাগল।


একসময় সেই মাছটি মনুর কাছে উপস্থিত হল। মনু মাছটির শৃঙ্গে নৌকারদড়ি বাঁধলেন।

মাছটি তখন নৌকাটিকে উত্তর হিমালয় পর্বতের চূড়ায় নিয়ে গেল। মনু একটি গাছে নৌকার দড়ি বাঁধলেন এবং মাছটির কথামতো কালযাপন করতে লাগল।

মাছটি বলেছিল বন‍্যার জল যখন যেমন যেমনভাবে নেমে আসবে,তেমন তেমন ভাবে নীচে নেমে আসবে। এরপর বন‍্যার জল যখন নামতে থাকে মনু মাছের নির্দেশমতো নামতে লাগলেন।

মনুর এই অবতরন মনোরবসর্পণম্ নামে পরিচিত। এইভাবে মনুই একমাত্র জীবিত থাকলেন এবং নতুন সৃষ্টিতে তিনি হলেন আদিমানব।

মনুমৎস্যকথা হতে ছোট প্রশ্ন-উত্তর

মনুমৎস্যকথা ছোট প্রশ্ন-উত্তর

Leave a Comment