মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে শ্লোক বাখ্যা-8

“একমেব দহত‍্যাগ্নির্নরং দুরুপসর্পিণম্।
কুলং দহতি রাজাগ্নিঃ সপশুদ্রব‍্যসঞ্চয়ম্।।”

মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে বাংলা শ্লোক বাখ্যা-8

“একমেব দহত‍্যাগ্নির্নরং দুরুপসর্পিণম্।
কুলং দহতি রাজাগ্নিঃ সপশুদ্রব‍্যসঞ্চয়ম্।।”

বঙ্গানুবাদ:-

অতিনিকটে যে যায়, একমাত্র তাকেই অগ্নি দগ্ধ করে। রাজারূপে অগ্নি (অন‍্যায়চরনকারীকে) বংশ (গরু খোড়া প্রভৃতি) পশু এবং (সোনারত্ন প্রভৃতি) সম্পত্তিসহ দগ্ধ করে।

উৎস:-

উদ্ধৃত শ্লোকটি ধর্মশাস্ত্রকার মনু প্রণীত মনুসংহিতার সপ্তম অধ‍্যায় থেকে সংগৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গ:-

রাজার প্রভাব আলোচনা প্রসঙ্গে এখানে রাজার প্রতি কুলাচরণ দ্বারা জনরোষ উৎপাদনের কুফল প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।

ব্যাখ্যা

অগ্নির প্রখর দাহিকা শক্তি আছে একথা সর্বজন বিদিত। তাই যে ব‍্যাক্তি অসাধারন বশত অথবা প্রমাদ বশত জ্বলন্ত অগ্নির নিকটে উপস্থিত হয় অগ্নি কেবল তাকেই দগ্ধ করে। পুত্র, জ্ঞাতি ও ভৃত‍্যদের দগ্ধ করেনা। কিন্তু রাজরোষ রূপ করাল অগ্নি কেবল অপরাধী ব‍্যাক্তিকেই বিনষ্ট করে শান্ত হয় না। তাঁর সঙ্গে তাঁর জ্ঞাতিবর্গকে, স্বজনদের, গবাদীপশু, ধনসম্পদ প্রভৃতি সবই ধ্বংস করে দেয়। রাজক্রোধরূপ অগ্নি দ্বারা যে ব‍্যাক্তি প্রভাবিত সেই ব‍্যাক্তি নিকটে থাকুক বা দূরে থাকুক, সে উচ্চবংশে বা নীচ বংশে জন্ম গ্রহণ করুক তাঁর বিনাশ অবশ‍্যম্ভাবী। বস্তুত রাজা দাহিকাশক্তিতে অগ্নির অপেক্ষা বিশিষ্টতর। এ প্রসঙ্গে ভাষ‍্যকার মেধাতিথির মতটি বিশেষ প্রণিধানযোগ‍্য -‘ অগ্নিতোঅপি রাজা দাহশক্তৌ বিশিষ্টতরঃ।’ সুতরাং প্রত‍্যেকেরই উচিত রাজার অনুকূল আচরন করে রাজার সন্তোষ বিধান করা।

আলোচ‍্য শ্লোকটিতে অনুষ্টুপ্ ছন্দ পরিলক্ষিত হয়েছে।

মনুসংহিতা রাজধর্ম সপ্তম অধ্যায় হতে অন্যান্য প্রশ্ন ও উত্তর

Leave a Comment