মনুসংহিতা অনুসারে ষড়গুণ -এর প্রয়োগ নির্দেশ

Application instructions of ‘ ṣaḍaguna ‘ as per the Manusamhita | षड़गुण | मनुसंहिता | মনুসংহিতা অনুসারে ষড়গুণ -এর প্রয়োগ নির্দেশ

ষড়গুন কারে বলে? মনুসংহিতা অনুসারে ষড়গুণ -এর প্রয়োগ নির্দেশ কর?


ষড়গুন কি? রাজার রাজ্য পালন, রাজ্যশাসন ও রাজ্য বিস্তারের প্রধান অবলম্বন হল ষড়গুন।

আচার্য মনু ষড়গুণ সম্পর্কে বলেছেন

সন্ধিঞ্চ বিগ্রহঞ্চৈব যানমাসন মেব চ।
দ্বৈধীভাব সংশ্রয়ঞ্চ ষড়্গুনাংশ্চিন্ত রেয়ৎ সদা।।


অর্থাৎ সন্ধি, বিগ্রহ, যান, আসন, দ্বৈধীভাব ও সংশ্রয়কে এক সংঙ্গে বলা হয় ষড়গুণ ।

সন্ধি

সন্ধি হল শত্রুরাজার সঙ্গে পরস্পরের উপকার করবে এরূপ নিয়ম।

বিগ্রহ হল যুদ্ধের জন্য শত্রুরাজার প্রতি অভিমান বিগ্রহ যাত্রা।

আসন

শত্রুকে উপেক্ষা করে গৃহে অবস্থান করার নাম আসন

দ্বিতীয়ত নিজের সৈন বাহিনী দ্বিধা করাকে বলে দ্বৈধ বা দ্বৈধী ভাব

শত্রুদ্বারা পিড়ীত হয়ে অপর বলবান রাজার আশ্রয় গ্রহনকে বলে সংশ্রয়।

এই ছয়টি রাজাদের উপকারক বলে এগুলি গুন নামে কথিত।


আচার্য মনু প্রতিটি গুণকে আবার দুই ভাগে ভাগ করেছেন। সমান মান কর্মা ও অসমান মান কর্মা ভেদে সন্ধি দুই প্রকার।

বিগ্রহ আবার দুই প্রকার- সময়ে অসময়ে কার্য সিদ্ধির জন্য স্বয়ং কৃত বিগ্রহ অথবা মিত্রের অপকার হেতু কৃত বিগ্রহ।

যানকেও দুই ভাগে ভাগ করা হয়। হঠাৎ কোন প্রয়োজন হলে একাকী অভিযান অথবা মিত্র রাজার সহিত অভিমান।

আসনও পর্যাপ্ত শক্তিশালী মিত্রের অনুরোধ বশত: অবলম্বিত হয়ে দুই প্রকার।

নিজের প্রয়োজন সিদ্ধির জন্য একস্থানে সৈন সমাবেশ অন্যত্র রাজার নিজের অবস্থিতি এভাবে দ্বৈধী দুই প্রকার।

সংশ্রয়কেও দুইভাগে ভাগ করা হয়। শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে আক্রান্ত নিবারনের জন্য অন্যরাজাকে আশ্রয় করে একরকম

এবং শত্রুদ্বারা আক্রমনের সম্ভাবনা রাজার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে এরূপ প্রচারের জন্য অন্য রাজাকে আশ্রয় করা এই ভাবে আর এক রকম।


রাজা যখন জানবেন যে যুদ্ধের শেষে তার প্রাবল্য নিশ্চিত এবং ক্ষতি অল্প তখন রাজা সন্ধি করবেন। রাজা নিজের অমাত্যাদি প্রকৃতি বৃন্দকে অনুরক্ত এবং নিজেকে কোষ সম্বদে বলবান মনে করবেন তখন যুদ্ধ করবেন।

যদা মন্যেত ভাবেন হাষ্টং পুষ্টং বলং স্বকম্।
পরস্য বিপরীতঞ্চ তদা জায়াদ রিপুং প্রতি।।


অর্থাৎ রাজা যখন নিজের সৈনদের প্রফুল্ল ও ধনাদিতে সমৃদ্ধ এবং শত্রুপক্ষের সৈন্যদের এর বিপরীত সমৃদ্ধ এবং শত্রুপক্ষের সৈন্যদের এর বিপরীত বলে মনে করবেন তখন যুদ্ধ যাত্রা করবেন।

রাজা যখন নিজ বাহনে ও সৈন বলে দুর্বল হন তখন উপটোকনাদির দ্বারা শত্রুরাজাকে ক্রমে ক্রমে শান্তনা পূর্বক আসন অবলম্বন করবেন।

দ্বৈধী হল যখন রাজা শত্রুকে সর্বত্র ভাবে অধিকতরবলবান মনে করবেন তখন সৈনদের দুই ভাগে বিভক্ত করে নিজের কার্য সম্পন্ন করবেন।

সংশ্রয় হল রাজা নিজেকে শত্রু সৈন দ্বারা পরাভ‚ত হবার আশঙ্কা করবেন তখন অবিলম্বে ধার্মিক বলবান রাজাকে আশ্রয় করবেন।

এছাড়া সংশ্রয় সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে যে সকল প্রকৃতি ও শত্রুসৈন দ্বারা বিপন্ন হয়ে রাজা যে বলবান রাজার আশঅরয়ে ঐ সকল প্রকৃতি ও শত্রু সৈন্যদের নিগ্রহ করতে পারেন।

সেই বলবান রাজাকে যতœ সহকারে গুরুর ন্যায়। সেবা করবেন। সেই অবস্থাতে যদি আশ্রকে দোষ যুক্ত বা অমঙ্গলকর মনে হয় তাহলে তিনি নির্ভয়ে যুদ্ধই করবেন।

Leave a Comment