রুচ‍্যর্থানাং প্রীয়মানঃ

রুচ‍্যর্থানাং প্রীয়মানঃ সুত্র ব্যাখ্যা ।

রুচ‍্যর্থানাং প্রীয়মানঃ

আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিত কৃত বৈয়াকরণ সিদ্ধান্তকৌমুদী গ্রন্থের কারক প্রকরণের সম্প্রদান কারক বিধায়ক সূত্র এটি।

সূত্রটির অর্থ হল-

‘রুচ‍্যর্থানাং ধাতুনাং প্রয়োগে প্রীয়মানঃ অর্থঃ সম্প্রদানং স‍্যাৎ।”।

এর অর্থ হল রুচ‍্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে যে ব‍্যাক্তি প্রীত বা আনন্দিত হয়, তাতে সম্প্রদান কারক হয়।

পাণিনি সূত্রে রুচ‍্যর্থক ধাতুর কথা উল্লেখ করেছেন। এই রুচি শব্দের অর্থ হল অভিলাষ। কিন্তু আমরা যেকোনো অভিলাষকে রুচি শব্দের দ্বারা অভিহিত করতে পারি না। সাধারন যে অভিলাষ তার সঙ্গে রুচির কিছু পার্থক‍্য পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

কোনো প্রিয় বস্তুর সান্নিধ‍্যে এলে এবং তাকে দেখার পর যে অভিলাষ বা প্রীতি উৎপন্ন হয়, তাকেই বলা হয় রুচি। রুচি বলতে বোঝায় যে অভিলাষ পূর্বে থাকে না রুচিকর বস্তু দেখবার পর তা উৎপন্ন হয়।

যেমন- শিশবে মিষ্টান্নং রোচতে। এই বাক‍্যটিতে মিষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষা শিশুর পূর্বে ছিলনা। কিন্তু মিষ্টি দেখবার পর সে জন‍্যই শিশবে পদে সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে। কারণ যিনি প্রীয়মাণ তিনি সম্প্রদান।

কিন্তু কোনো বস্তু দেখার আগে তার প্রতি অভিলাষ জন্মালে তাতে সম্প্রদান হয় না। যেমন- ‘হরিঃ ভক্তিম্ অভিলষতি।’ এই বাক‍্যে ভক্তি পাবার পূর্বেই ভক্তির জন‍্য হরির অভিলাষ বোঝাচ্ছে। তাই এখানে হরি পদে সম্প্রদান হতে পারে না।

কারণ এই বাক‍্যে হরি প্রীয়মান নয়। অতএব রুচি শব্দে আকাঙ্ক্ষা নয় প্রীতিকেই বুঝিয়ে থাকে। আকাঙ্ক্ষা কোনো বস্তুর প্রাপ্তির পূর্বে জন্মায়। আর প্রীতি কোনো বস্তুর প্রাপ্তির পর উৎপাদিত হয়।

রুচ‍্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে যিনি প্রীয়মান তিনিই সম্প্রদান অন‍্য কেউ নন। যেমন- ‘দেবদত্তায় রোচতে মোধকঃ পথি।’ এই বাক‍্যটিতে মোদক প্রাপ্তিকেই প্রীত পথ নয়। তাই প্রীয়মান দেবদত্তে সম্প্রদানে চতুর্থী হয়েছে এবং পথ আধার বলে সপ্তমী বিভক্তি হয়েছে।
এটাই হল সূত্রটির মূল অর্থ।

সংস্কৃত কারক বিভক্তির অন্যান্য পোস্টগুলি

Comments