সাধকতমং করণম্ (১/৪/৪২)

সাধকতমং করণম্ (১/৪/৪২): আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিত কৃত বৈয়াকরণ সিদ্ধান্তকৌমুদী গ্রন্থের কারক প্রকরণের করন কারক বিধায়ক সূত্র এটি। এই সূত্রটির সাধারণ অর্থ হল- ‘ক্রিয়াসিদ্ধৌ প্রকৃষ্টোপকারকং কারকং করণসংজ্ঞা স‍্যাৎ’। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনে যে কারক প্রকৃষ্ট অর্থাৎ সর্বাধিক উপকারক তাকেই বলা হয় করণ কারক।

যা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকেই বলে সাধক। প্রতিটি কারক মাত্রই ক্রিয়া সম্পন্ন করে, অতএব তা সাধক। তাদের মধ্যে যেটি সাধকতম অর্থাৎ প্রকৃষ্ট সাধক তাকেই বলে করণ কারক। এই করণ কারকেই তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে।

যে কারকে ক্রিয়ার অব্যবহিত পরেই ক্রিয়া-নিষ্পত্তি ও ফলোৎপত্তি ঘটে তাকেই বলা হয় সাধকতম। এই জন্যই করণ হলো সাধকতম। এর উদাহরণ হল- ‘হস্তেন বস্ত্রং গৃহ্নাতি।’ এই বাক‍্যে হস্তের ক্রিয়ার অব‍্যবহিত পরেই গ্রহণ ক্রিয়া নিষ্পন্ন হচ্ছে। তাই হস্তেন পদে করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

‘করোতীতি কারকম্। সাধয়তি ইতি সাধকম্। ‘ কারক ও সাধক হল দুটি সমার্থক শব্দ। তাই সূত্রের মধ‍্যে কারক পদের ব‍্যবহার থাকা সত্ত্বেও সাধক পদের ব‍্যবহার নিষ্প্রয়োজন বলে মনে হয়। তা সত্ত্বেও যদি লক্ষণে লক্ষণে কারক পদের সাথে সাধক পদের ব‍্যবহার করা হয় তাহলে সাধক পদের অর্থ হবে সাধকতম্। তাহলে ‘সাধকং করণম্’ লক্ষণে করলে ‘সাধকতমং করণম্’ -এর অর্থই প্রকাশ পেত, অতিরিক্ত তমপ্ প্রত‍্যয়ের প্রয়োগের কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তাই করনের লক্ষণে- তমপ্ গ্রহণ না করলে কোনো সমস‍্যা দেখা দিত। তাই তমপ্ গ্রহণ করা হয়েছে।

এটাই হল সূত্রকারের অভিপ্রায়।

Leave a Comment