করণ কারক: তৃতীয় বিভক্তি

সংস্কৃত ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারক । কারকের জ্ঞান ছাড়া সংস্কৃত ব্যাকরণের জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না । নিম্নে করণ কারক ও তৃতীয় বিভক্তি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হল ।

করণ কারক ও তৃতীয় বিভক্তি আলোচনা করে কারকের অন্য পোস্টগুলির লিংক নিম্নে দেওয়া হল ।

করণ কারক ও তৃতীয় বিভক্তি

করণ কী?

কোনো ক্রিয়ার যা প্রকৃষ্ট (প্রধান) উপকারক (উপায়) তাকে করণ বলে।

সূত্র:- সাধকতমং করণম্।

উদা:- চক্ষুষা পশ‍্যতি। (চোখের দ্বারা দেখছে)

আলোচ‍্য বাক‍্যে দেখা এই ক্রিয়াটির প্রধান উপায় চক্ষু । তাই সাধকতমং করণম্ এই সূত্রানুসারে চক্ষুষা পদে করণ কারক হয়েছে। এবং কর্তৃকারকয়োস্তৃতীয়া এই সূত্রানুসারে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

যদি কখনো বাক‍্যে ক্রিয়াপদ ঊহ‍্য থাকে তাতেও করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
যেমন- ধনেন কিম্।

আলোচ‍্য বাক‍্যে ক্রিয়াপদটি ঊহ‍্য অবস্থায় থাকায় ‘গম‍্যমানাপি ক্রিয়া কারকবিভক্তৌ প্রযোজিকা‘ – এই সূত্রানুসারে ধনেন পদে করণ কারক হয়েছে। কর্তৃকরণয়োস্তৃতীয়া এই সূত্রানুসারে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

কর্তৃকরণয়োস্তৃতীয়া

কর্মবাচ‍্য ও ভাববাচ‍্যে অনুক্ত কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

যেমন:- রামেন বাণেন হতো বালী।
কর্তৃকরণয়োস্তৃতীয়া – এই সূত্রানুসারে রামেণ পদে অনুক্ত কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

দিবঃ কর্ম চ

দিব্ ধাতুর প্রয়োগে করণ কারক বিকল্পে কর্মসংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়।
যেমন:- অক্ষান্ দীব‍্যতি।
দিবঃ কর্ম চ – এই সূত্রানুসারে দিব্ ধাতুর যোগে অক্ষান্ পদটি কর্মসংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়েছে। এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

তৃতীয়া বিভক্তি

প্রকৃত‍্যাদিভ‍্য উপসংখ‍্যানম্ (বার্তিক)

প্রকৃতিবাচক(প্রকৃত‍্যা, প্রায়েণ, গোত্রেণ, সমেন, বিষমেন, দ্বিদ্রোণেন, সুখেন, দুঃখেন) প্রভৃতি শব্দে তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

যেমন:- প্রকৃত‍্যা চারুঃ (প্রকৃতিতে সুন্দের)
প্রকৃত‍্যাদিভ‍্য উপসংখ‍্যানম্ – এই বার্তিকানুসারে প্রকৃতিবাচক প্রকৃত‍্যা শব্দে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

অপবর্গে তৃতীয়া

কালবাচক ও পথের পরিমাণবাচক শব্দের যোগে যদি কার্য উৎপত্তি এবং ফলপ্রাপ্তি ঘটে তাহলে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। একে ব‍্যাপ্তি অর্থে তৃতীয়া বা অপবর্গে তৃতীয়া বলে।

যেমন:- স মাসেন ব‍্যাকরণম্ অপঠৎ।
ক্রোশেন কূটিলা নদী।

অপবর্গে তৃতীয়া এই সূত্রানুসারে কালবাচক মাসেন পদে ফল প্রাপ্তি ঘটায় অপবর্গে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

সহযুক্তেঽপ্রধানে

সহ শব্দের যোগে ( সাকম্, সাধম্, সমম্) অপ্রধান তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
যেমন:- পিত্রা সহ আগতঃ পুত্রঃ।
সহযুক্তেঽপ্রধানে -এই সূত্রানুসারে পিত্রা পদে সহ শব্দের যোগে অপ্রধানে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

যেনাঙ্গবিকারঃ

যে অঙ্গের বিকৃতির দ্বারা অঙ্গির বিকার পরিলক্ষিত হয়, তাকে যেনাঙ্গ বিকার বলে।

যেমন:- পাণিনা কুণিঃ ( হাতে খোড়া)
যেনাঙ্গ বিকারঃ – এই সূত্রানুসারে অঙ্গবিকার পাণিনা পদে যেনাঙ্গবিকারে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

আমরা জানি হানি অর্থে অঙ্গবিকারে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। কিন্তু আধিক‍্য অর্থে কী হবে প্রশ্নের সম্মুখীন হলে আচার্য বামন এই প্রশ্নের সমাধান করে বলেছেন-
“হানিবৎ আধিক‍্যমপি অঙ্গানাং বিকারঃ” অর্থাৎ হানির মতো আধিক‍্য অর্থেও অঙ্গের বিকার হয়।

যেমন- মুখেন ত্রিলোচনঃ, বপুষা চতুর্ভুজঃ।

হানিবৎ আধিক‍্যমপি অঙ্গানাং বিকারঃ বামনে এই মত অনুসারে মুখেন পদে আধিক‍্য অর্থে যেনাঙ্গ বিকারে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

ইত্থংভূতলক্ষণে (উপলক্ষণে তৃতীয়া বিভক্তি)

যে লক্ষণ বা চিহ্নের দ্বারা কোনো ব‍্যাক্তি বা বস্তুকে চিহ্নিত করা হয় তাকে ইত্থংভূতলক্ষণ বলে। ইত্থংভূতলক্ষণে তৃতীয়া বিভক্তি হয়।

যেমন:- জটাভিঃ তাপসঃ । শিখয়া পরিব্রাজকঃ। অস্ত্রেন সৈনিক‍ং জানামি।

ইত্থংভূতলক্ষণে এই সূত্রানুসারে জটাভিঃ পদে তাপসের লক্ষণ চিহ্নিত হওয়ায় উপলক্ষণে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

হেতৌ (হেতু অর্থে তৃতীয়া বিভক্তি )

হেতুবাচক শব্দের উত্তর কখনো কখনো তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যা ফলসাধন যোগ‍্য পদার্থ তাই হেতু। হেতু কথার অর্থ হল কারণ। আমরা জানি কোনো কারণ ছাড়া কোনো কার্যের উৎপত্তি হয় না।

উদা:- দন্ডেন ঘটঃ, পুণ‍্যেন দৃষ্টো হরিঃ, শোকেন দুঃখম্।
হেতৌ – এই সূত্রানুসারে হেতুবাচক দন্ডেন পদে হেতু অর্থে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

করণ কারক ও তৃতীয় বিভক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য(FAQ)

করণ কারক কাকে বলে?

কর্তা যা দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করেন তাতে করণ কারক হয় ।

করণ কী?

কোনো ক্রিয়ার যা প্রকৃষ্ট উপকারক তাকে করণ বলে।

করণ কারক চেনার উপায় কি ?

ক্রিয়া পদের সাথে কিসের দ্বারা দিয়ে প্রশ্ন করলে যেটি উত্তর পাওয়া যায় সেটি করণ কারক ।

করণ কারকে কোন বিভক্তি হয় ?

সংস্কৃতে সাধারনত তৃতীয়া বিভক্তি হয় ।

সংস্কৃত কারক বিভক্তির অন্যান্য পোস্টগুলি

Leave a Comment