ভারতীয় দর্শন: অধ‍্যাস

ভারতীয় দর্শন হতে মায়া বা অজ্ঞান বা অধ‍্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হল ।

মায়া অজ্ঞান বা অধ‍্যাস – ভারতীয় দর্শন

অধ‍্যাস:- জগতের মূলে আছে মায়া অজ্ঞান বা অধ‍্যাস। অজ্ঞান বা অধ‍্যাস জগৎ ভ্রমের কারণ। কোনো কিছুকে অন‍্য কিছুরূপে প্রতীতি হল অধ‍্যাস –

‘অধ‍্যাসঃ নাম ততস্মিন্ তৎবুদ্ধিঃ’।

অধ‍্যাসের নামই মায়া বা অজ্ঞান। এই মায়াবাদ অতি প্রাচীন হলেও শংকরের নামের সঙ্গেই যুক্ত। তিনি সর্বসত্তাময় আত্মার জ্ঞানকে মায়াবাদের দৃঢ় ভিত্তিরূপে প্রতিষ্ঠা  করেছেন। বেদান্তের চরম বাণী হল ব্রহ্ম এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া যখন কেউ নেই তখন তার থেকে ভিন্নকে দেখা যেতে পারে না। আর এটা যদি মেনে নেওয়া হয় তাহলে ব্রহ্ম হলেন অদ্বৈত। তাহলে জগৎ বৈচিত্র‍্যের ব্যাখ্যা কীভাবে দেওয়া সম্ভব। শংকর এই জটিল সমস্যার সমাধান করেছেন। তাঁর মতে মায়া ও অবিদ্যা একই জিনিস।

মায়ার দুটি কাজ। যেমন –

  • i) এটি বস্তুর স্বরূপ আবৃত করে রাখে।
  • ii) অন‍্য একটি বস্তুকে প্রথম বস্তুতে নিক্ষেপ করে।

যেমন- ‘রজ্জুতে সর্পভ্রম’। এখানে মায়া রজ্জুর স্বরূপ আমাদের কাছে আবৃত রাখছে এবং সেখানে সাপের বিক্ষেপ হয়ে সাপ প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে। ভ্রান্তিতে যেমন আমরা একটি বস্তুর স্থলে অপর একটি বস্তু দেখি, তেমনি ব্রহ্ম এক অদ্বিতীয়- ‘একমেবাদ্বিতীয়ম্।’ তিনি ভিন্ন দ্বিতীয় বস্তু নেই। তবু আমরা ভুল করে বহু বস্তু সমন্বিত জগত দেখি- ‘একোঅহং বহুস‍্যাম্।’ এই ভ্রান্তির কারণ মায়া।

        মায়া একদিকে যেমন কারণের স্বরূপকে আবৃত করে, তেমনি আবার আবৃত কারণের ওপর একটি জিনিস বিক্ষেপ করে। শঙ্করের মতে মায়া দ্বারা ব্রহ্মের কোনো বিকার হয়না। মায়া ঈশ্বরের শক্তি। এটি অনাদি অনির্বচনীয় ভাবরূপ অজ্ঞান।  যে কোন বস্তুর অনির্বচনীয় বলে তা মায়া।

Leave a Comment