ভারতীয় দর্শন: ত্রিপিটক

ভারতীয় দর্শন ত্রিপিটক

ভারতীয় দর্শন অনুসারে ত্রিপিটক

বৌদ্ধ দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন বুদ্ধদেব। বুদ্ধদেবের প্রচারিত উপদেশ ও বাণীসমূহের মর্ম কথাই বৌদ্ধধর্ম বা বৌদ্ধ দর্শন রূপে পরিচিত। বুদ্ধদেব তাঁর শিষ‍্যদের কথোপকথনের মাধ্যমে উপদেশ দিতেন। তিনি নিজে কোন ধর্মগ্রন্থ, দর্শনশাস্ত্র অথবা নীতিশাস্ত্র রচনা করেননি। তার উপদেশ ও বাণী গুলি শিষ‍্যদের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচারিত হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর উপদেশাবলীকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে তার শিষ্যগণ পালি ভাষায় পিটক নামক গ্রন্থাকারে এগুলি লিপিবদ্ধ করেন।  বুদ্ধের বাণী ও উপদেশ সম্পর্কে যথাযথ ভাবে জানবার জন্য এই পিটকগুলি সহায়ক।  এই পিটক গুলি হল পেটিকা বা ঝাঁপি। তিনটি পিটক আছে, যা ত্রিপিটক নামে সুপ্রসিদ্ধ। 

পিটকগুলি হল বিনয় পিটক, সূত্রপিটক ও অভিধর্ম পিটক।

i) বিনয় পিটক:-

এই গ্রন্থে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আচার আচরণ সম্পর্কিত বিধিনিষেধের উল্লেখ আছে। বিনয় শব্দের অর্থ আচার।  সংযত জীবনযাপনের জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আচার-আচরণ সংক্রান্ত যেসব নিয়ম অনুসরণীয় গ্রন্থটিতে তারই উল্লেখ আছে।

ii) সূত্র পিটক:-

এই গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত কাহিনীর মাধ্যমে বুদ্ধের উপদেশ গুলিকে প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র শব্দের অর্থ সংক্ষিপ্ত বচন। সূত্র পিটক বৌদ্ধ ধর্মের উদ্দেশ্য সাধনা ও ফল।  সূত্র পিটক পাঁচটি অংশে বিভক্ত।  এদের এক একটিকে নিকায় বলে। যথা-  দীর্ঘনিকায়, মঝঝিম নিকায়,  সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায়, খুদ্দকনিকায়।

iii) অভিধর্ম পিটক

এ গ্রন্থে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা লিপিবদ্ধ আছে। সূত্র পিটকের অন্তর্গত বুদ্ধের উপদেশ গুলি দার্শনিক ব্যাখ্যাই এই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে। অভিধর্ম পিটকে বুদ্ধদেবের বচনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও ভাষ‍্য লিপিবদ্ধ হয়েছে। অভিধর্ম পিটকের মুখ্যত পরাতাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে।

      এই গ্রন্থ ত্রয়ই আদি বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ভিত্তি।

ভারতীয় দর্শন হতে অন্য পোস্ট গুলি

Leave a Comment