ভারতীয় দর্শন: পরার্থানুমান

ভারতীয় দর্শন অনুসারে পরার্থানুমান সম্পর্কে (টিকা) আলোচনা করা হল।

(টিকা) পরার্থানুমান -ভারতীয় দর্শন

পরার্থানুমান:- ন‍্যায় দর্শনের অনুমান পদ্ধতি পাশ্চাত্য তর্ক বিজ্ঞানীদের আরোহ ও অবরোহ অনুমানের এক মিলিত পদ্ধতি।নৈয়ায়িকগণ অনুমানের শ্রেণীবিভাগ করেছেন।

উদ্দেশ্য বিচারে অনুমান দু’ভাগে বিভক্ত। যথা

  1. স্বার্থানুমান
  2. পরার্থানুমান।

ন্যায় দর্শনে অনুমান বলতে সাধারনত পরার্থানুমানকেই মনে করা হয়। কেননা পরার্থানুমানের গঠনপ্রণালী বিধিসম্মত। পরার্থানুমান হলো অপরের জন্য অনুমান। ধূম থেকে বহ্নি অনুমান করার পর কোন ব্যক্তি যখন নিজের অনুমানলব্ধ জ্ঞানটিকে অপরের কাছে প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে পঞ্চাবয়ব বাক‍্যের প্রয়োগ করে তখন তাকে পরার্থানুমান বলে।  এই প্রকার অনুমানের পাঁচটি বচন বা অবয়ব  থাকে বলে একে পঞ্চ অবয়বী ন‍্যায় বলে। 

পঞ্চ অবয়বী ন‍্যায়ের পাঁচটি অবয়ব হলো –

  1. প্রতিজ্ঞা,
  2. হেতু,
  3. উদাহরণ,
  4. উপনয়ন
  5. নিগমন।

       পঞ্চ অবয়বী ন‍্যায়ের উদাহরণ নিম্নরূপ –

i) প্রতিজ্ঞাপর্বতটি বহ্নিমান
ii) হেতু যেহেতু পর্বতটি ধূমবান
iii) উদাহরণযেখানে ধূম সেখানেই বহ্নি। যথা- পাকশালা
iv) উপনয়বহ্নিব‍্যাপ‍্য ধূম ঐ পর্বতে আছে
v) নিগমন অতএব পর্বতটি বহ্নিমান
পঞ্চ অবয়বী ন‍্যায়ের উদাহরণ


          এরূপ বাক্য প্রয়োগের ফলে শ্রোতার জ্ঞান হয়। পর্বতটি ‘অগ্নিব‍্যাপ‍্যধূমবিশিষ্ট’ এরই নাম পরার্থানুমান।

Leave a Comment