সহযুক্তেঽপ্রধানে

করণ কারক বিধায়ক সূত্র ব্যাখ্যা সহযুক্তেঽপ্রধানে। সংস্কৃত ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারক। আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিত রচিত সিদ্ধান্তকৌমুদী গ্রন্থের কারক প্রকরণের করণ কারক বিধায়ক সূত্র সহযুক্তেঽপ্রধানে।

সহযুক্তেঽপ্রধানে

উ:- বৈয়াকরণ আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিতকৃত সিদ্ধান্তকৌমুদী গ্রন্থের কারক প্রকরণের করণ কারক বিধায়ক সূত্র এটি।

সূত্রটির অর্থ হল-

‘সহার্থেন যুক্তে অপ্রধানে তৃতীয়া স‍্যাৎ’

সহার্থক শব্দের সাকম্, সমম্, সার্ধম্ এই সহার্থক শব্দের যোগে অপ্রধানে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। এই সূত্রে অপ্রধান এই শব্দটি নিয়ে কিছুটা সমস‍্যা তৈরী হয়েছে। বিদ‍্যা বয়স পারিবারিক সম্বন্ধ আভিজাত‍্য, ঐশ্বর্য সামাজিক মর্যাদা প্রভৃতিতে যিনি শ্রেষ্ঠ বা জ‍্যৈষ্ঠ তাকেই প্রধান বলা হয়। এই সূত্রানুসারে প্রধান নয়, অপ্রধানে তৃতীয়া বিভক্তি হওয়ার কথা ।

  • যেমন- ‘পুত্রেন সহ পিতা গচ্ছতি। ‘

বয়স ও সম্বন্ধে পিতা অপেক্ষা পুত্র ছোট। পুত্র এখানে অপ্রধানে। তাই পুত্রেন সহ পুত্র আগতঃ’ এইরূপ উদাহরণও দৃষ্ট হয়।

সুতরাং পিতা এখানে শুধু অর্থগত নয়, বাক‍্যগত যে অপ্রধান তাকেই গ্রহণ করতে হবে। উপরিউক্ত উদাহরণটিতে পিতা অর্থগতভাবে প্রধান হলেও তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

সূত্রটির ব‍্যাখ‍্যায় আরো একটি সমস‍্যার সম্মুখীন হতে হয়। তা হল- সহার্থক শব্দের প্রয়োগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে।

কিন্তু সহার্থক শব্দের অপ্রয়োগেও তৃতীয়া বিভক্তি হয়ে থাকে কীভাবে?

  • যেমন- পিতা পুত্রেন আগতঃ।’

এখানে সহার্থক পদের উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও পুত্রেণ পদে তৃতীয়া বিভক্তি হয়েছে, তা কীভাবে সম্ভব?

তার উত্তরে দীক্ষিত বলেছেন-

‘বিনাপি তদযোগং তৃতীয়া’-

অর্থাৎ সহার্থক শব্দের সঙ্গে প্রত‍্যক্ষ সংযোগ না থাকলেও তৃতীয়া হবে। সহ শব্দের প্রত‍্যক্ষ যোগ না থাক, সহ শব্দের অর্থ প্রকাশ পেলেই তৃতীয়া হবে।

এটাই সূত্রটির মূল অর্থ।

Leave a Comment