কর্মপ্রবচনীয়

কর্মপ্রবচনীয় কাকে বলে । কর্মপ্রবচনীয় শব্দের অর্থ । কর্মপ্রবচনীয় কি?

কর্মপ্রবচনীয় কি

মূল ক্রিয়ার প্রয়োগ না থাকলেও প্র, পর, অপ, অনু প্রভৃতি কতগুলি উপসর্গ একক প্রযুক্ত হয়ে একটি বিশেষ উপসর্গ যুক্ত হলে তাদের কর্মপ্রবচনীয় বলে।

এরা সম্বন্ধের বাচক নয়। সম্বন্ধের ভেদক মাত্র। এককথায় উপ, অনু, প্রতি, পনি, অভিঠ অতি, অতি, অপি -এই কয়েকটি অব‍্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত না হয়ে উপপদের ন‍্যায় প্রযুক্ত হলে তাদের কর্মপ্রবচনীয় বলে।

কর্মপ্রবচনীয় পদটির বুৎপত্তি

কর্মপ্রবচনীয় পদটির বুৎপত্তির হল- কর্ম- প্র- √বচ্ + অনীয়র্।

কর্মপ্রবচনীয় উদাহরণ

একটি উদাহরণের মাধ‍্যমে বিষয়টিকে পরিষ্কার করা যায়। জপম্ অনু প্রাবর্ষৎ – এই বাক‍্যে অনু অব‍্যয়ের কর্মপ্রবচনীয় সংজ্ঞা হয়েছে। এই অনু শব্দের দ্বারা ক্রিয়া বিশেষের বোধ হয় না।

যেমন- অনুভূয়তে সুখম্- এই বাক‍্যে অনুভব এই ক্রিয়া বিশেষের দ‍্যোতক করে। অনু অব‍্যয়ের দরুন অনুভব ক্রিয়ার বোধ হয়। কেবল ভূ ধাতুটির দ্বারা সত্তা এই সামান‍্য ক্রিয়ার প্রতীতি হয়।

ষষ্ঠী বিভক্তির মত এর দ্বারা সম্বন্ধ বিভক্তিই সম্বন্ধকে বোঝায়। প্রাদেশং বিপরিলিখতি – এই বাক‍্যে যেমন বি শব্দ মান ক্রিয়ার আক্ষেপ করে, সেইরূপ অনু অন‍্য কোন ক্রিয়ার আক্ষেপ করে না।

প্র, পরা প্রভৃতি কুড়িটি অব‍্যয় ধাতুর পূর্বে ব‍্যবহৃত হলে সেগুলিকে উপসর্গ ও গতি নামে অভিহিত করা হয়। এই সমস্ত উপসর্গ ঠিক ধাতুর পূর্বে বসে।যেমন- রামম্ অনুগচ্ছতি।

উপসর্গের ক্ষেত্রে যেসব ষত্ববিধান ও ণত্ববিধানমূলক ব‍্যাকরণ ঘটিত নিয়ম প্রবর্তিত হয় কর্মপ্রবচনীয় এর ক্ষেত্রে সেই সকল নিয়ম প্রযোজ‍্য নয়। যেমন- বৃক্ষং পরিসিঞ্চতি।

Leave a Comment