সমাস: অর্থ পার্থক্য

সমাস হতে অর্থ পার্থক্য

সমাস হতে অর্থ পার্থক্য

১) সুগন্ধি/সুগন্ধঃ

সুগন্ধি– (স্বাভাবিক গন্ধ যুক্ত) গন্ধস‍্যেদুৎপুতিসু সুরভিভ‍্যঃ – এই সূত্রানুসারে বহুব্রীহি উৎ, পুতি, সু ও সুরভি শব্দের পরস্থিত গন্ধ শব্দের উত্তর ইৎ হয়।
যেমন- বালিকা সুগন্ধি পুষ্পং চিনোতি।

সুগন্ধঃ – (কৃত্রিম গন্ধ যুক্ত) গন্ধস‍্যেত্ত্বেতদেকান্ত গ্রহণম্ অর্থাৎ একান্ত বা কৃত্তিম গন্ধ বোঝালে গন্ধ শব্দের উত্তর ইৎ হয় না।
যেমন- সুগন্ধঃ পবনঃ বাতি।

২) ভার্যামীর্ষ‍্যাতি/ভার্যায়ৈ ঈর্ষ‍্যাতি

ভার্যামীর্ষ‍্যাতি:- (ভার্যা বিষয়ে অন‍্যকে ঈর্ষ‍্যা করছে) কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম- এই সূত্রানুসারে ভার্যা বিষয়ে অন‍্যকে ঈর্ষ‍্যা করছে। যেহেতু এখানে ভার্যা ক্রোধের বিষয় নয় বা ঈর্ষ‍্যার বিষয় নয়। তাই ভার্যাম্ পদে কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

ভার্যায়ৈ ঈর্ষ‍্যাতি :- ভার্যাকে ঈর্ষ‍্যা করছে। ক্রুধ- দ্রুহের্ষ‍্যাসূয়ার্থানাং যং প্রতি কোপঃ- এই সূত্রানুসারে ভার্যার প্রতি ঈর্ষ‍্যা বা কোপ প্রকাশ পাওয়ায় ভার্যা সম্প্রদান হয়েছে। তাই ভার্যায়ৈ পদে সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

৩) ত্রিফলী/ত্রিফলা

ত্রিফলী:- দ্বিগোঃ – এই সূত্রানোসারে অ-অ-কারান্ত দ্বিগু সমাসের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে ঙীপ্ প্রত‍্যয় হয়ে থাকে। ত্রীণি ফলানি যস‍্যম্ – এই রূপ বহুব্রীহি সমাসে ত্রিফলী পদটি নিষ্পন্ন হয়েছে।

ত্রিফলী শব্দের অর্থ তিনটি একত্রিত ফল।

ত্রিফলা:- অজাদিগণের পাঠবশত ত্রয়াণাং ফলানাং সমাহারঃ – এইরূপ দ্বিগু সমাস করে ত্রিফলা পদটি নিষ্পন্ন হয়েছে।

ত্রিফলা শব্দের অর্থ তিনটি ফলের সমাহার।

৪) গ্রামার্ধঃ/অর্ধগ্রামম্

গ্রামার্ধঃ – গ্রামস‍্য অর্ধঃ ‘ষষ্ঠী তৎপুরুষ’ – এই সূত্রানসারে সুবন্তপদের সঙ্গে ষষ্ঠন্ত‍্যপদের সমাস হয়েছে।

এর অর্থ হল- A part of the village.

অর্ধগ্রামম্– অর্ধং গ্রামস‍্য। অর্ধং ন পুংসকম্। এই সূত্রানুসারে সমুদায়বাচক শব্দের সঙ্গে ক্লীবলিঙ্গ অর্ধ শব্দে একদেশী সমাস হয়েছে।

যার অর্থ হল- Half of the village.

৫) অবিঘ্নঃ/অবিঘ্নম্

অবিঘ্নঃ – ন বিঘ্নঃ = অবিঘ্নঃ – নঞ্ তৎপুরুষ সমাস। নঞ্ সূত্রে সুবন্ত পদের সঙ্গে নঞ্ এর সমাস হয়েছে।

অবিঘ্নম্:- বিঘ্নস‍্য অভাবঃ = অবিঘ্নম্। অব‍্যয়ীভাব সমাস। অব‍্যয়ীভাবশ্চ এই সূত্রানুসারে ক্লীবলিঙ্গ হয়েছে।

৬) পূর্বরাত্রিঃ/পূর্বরাত্রঃ

পূর্বরাত্রিঃ :- পূর্বা রাত্রিঃ – এই ব‍্যাসবাক‍্য করে এখানে কর্মধারয় সমাস হয়েছে। এর অর্থ হল- পূর্বদিনের রাত্রি ভাগ।

পূর্বরাত্রঃ :- রাত্রাহ্নাহাঃ পুংসি- এই সূত্রানুসারে সমাসে রাত্রাভাগান্ত শব্দ পুংলিঙ্গ। তাই পূর্বং রাত্রেঃ – এইরকম ব‍্যাসবাক‍্য করে পূর্বরাত্রঃ পদটি নিষ্পন্ন হয়েছে। এখানে একদেশী তৎপুরুষ সমাস হয়েছে।

৭) স্ত্রীসভম্/স্ত্রীসভা

স্ত্রীসভম্:- স্ত্রীণাং সভা- এইরূপ ব‍্যাসবাক‍্যে অশালা চ- এই সূত্রানুসারে শালা অর্থে ভিন্ন সভা শব্দ তৎপুরুষ সমাসে ক্লীবলিঙ্গ হয়ে স্ত্রীসভম্ পদটি গঠিত হয়েছে।

স্ত্রীসভা:- স্ত্রীণাং সভা- ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে হয়েছে। এখানে সভা শব্দের অর্থ সমবায়।

৮) পূর্বাহ/পূর্বাহ্ন

পূর্বাহ:- রাজা হঃ সখিভ‍্যষ্ট চ্- এই সূত্রানুসারে ত‍ৎপুরুষ সমাসেন রাজন্ অহন্ প্রভৃতি শব্দের উত্তর চি প্রত‍্যয় হয়ে থাকে। এই নিয়মানুসারে পূর্বম্ অহঃ – এই ব‍্যাসবাক‍্য করে ‘পূর্বাহঃ’ পদটি নিষ্পন্ন হয়েছে। যার অর্থ হল আগের দিন।

পূর্বাহ্ন:- পূর্বম্ অহ্নঃ – রাত্রাহ্নাহাঃপুংসি- এই সূত্রানুসারে সমাসের ক্ষেত্রে রাত্র, অহ্ন প্রভৃতি শব্দ পুংলিঙ্গ হয়ে থাকে। এর অর্থ হচ্ছে -দিনের পূর্বাভাগ।

Leave a Comment