কর্ম কারক: দ্বিতীয়া বিভক্তি

সংস্কৃত ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারক । কারকের জ্ঞান ছাড়া সংস্কৃত ব্যাকরণের জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় না । নিম্নে কর্ম কারক ও দ্বিতীয়া বিভক্তি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হল ।

কর্ম কারক ও দ্বিতীয়া বিভক্তি আলোচনা করে কারকের অন্য পোস্টগুলির লিংক নিম্নে দেওয়া হল ।

কর্ম কারক ও দ্বিতীয়া বিভক্তি

কর্তা ক্রিয়ার সাহায্যে যা করে তাই কর্ম । এই কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় ।

কর্ম কারক (কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম) কাকে বলে?

উ:- কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম– অর্থাৎ কর্তার ইপ্সিততম বিনয়কেই কর্ম বলে।

উদা- বালকঃ চন্দ্রং পশ‍্যতি।

কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম– এই সূত্রানুসারে কর্তা বালকের ইপ্সিততম বিষয় চাঁদ দেখা। তাই চন্দ্রং পদে কর্ম কারক হয়েছে। এবং কর্মাণি দ্বিতীয়া এই সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।

পয়সা ওদনং ভুঙক্তে।

কর্তুরীপ্সিততমং কর্ম– এই সূত্রানুসারে কর্তার অধিক ইপ্সিত ওদনং, তাই ওদনং পদে কর্ম কারক হয়েছে এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

তথাযুক্তং চানীপ্সিতম্

ইপ্সিততমের মতো অনিপ্সিত বস্তু বা বিষয়ও যখন দ্বেষ‍্য ও উদাসীন বশত ইপ্সিত হয় তাতেও কর্ম কারক হয়।

উদা:- ওদনং বুভুক্ষুঃ বিষং ভক্ষয়তি।(দ্বেষ‍্য)
তথাযুক্তং চানীপ্সিতম্– এই সূত্রানুসারে বিষ কর্তার ইপ্সিত নয় অথচ দ্বেষ‍্য বশত বিষ কর্তার ইপ্সিত হওয়ায় বিষং পদে কর্ম কারক হয়েছে। কর্মণি দ্বিতীয়া এই সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

গ্রামং গচ্ছন্ তৃণং স্পৃশ‍্যতি।
তথাযুক্তং চানীপ্সিতম্- এই সূত্রানুসারে তৃণকে স্পর্শ করা কর্তার ইপ্সিত নয় অথচ উদাসীনবশত তৃণকে স্পর্শ করা কর্তার ইপ্সিত হওয়ায় তৃণং পদে কর্ম কারক হয়েছে। কর্মণি দ্বিতীয়া এই সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে ।

অকথিতং চ

১৬টি দ্বিকর্মক ধাতুর যোগে অকর্মক ধাতুও কর্মত্ব প্রাপ্ত হয়। তাকে গৌণ কর্ম, অকথিত কর্ম বা অপ্রধান কর্ম বলে।

দ্বিকর্মক ধাতু কী?

দুহ্,যাচ্, পচ্, দন্ড,রুধ্, প্রচ্ছ, চি, ব্রূ, শাস্, জি, মন্থ ও মুষ্ – এই ১২টি এবং ণী, হৃ, কৃষ্ ও বহ্ এই ৪ টি দ্বিকর্মক ধাতু।

গোপো গাং দুগ্ধং দোগ্ধি। (দুহ্)

অকথিতং চ এই সূত্রানুসারে দুহ্ এই দ্বিকর্মক ধাতুর যোগে গাং পদে গৌণ কর্মত্ব প্রাপ্ত হয়েছে এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

বালিকা বৃক্ষং পুষ্পং চিণোতি।( চি)

অকথিতং চ এই সূত্রানুসারে চি এই দ্বিকর্মক ধাতুর যোগে বৃক্ষং পদে গৌণ কর্মত্ব প্রাপ্ত হয়েছে। এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

পাচকঃ তন্ডূলান্ ওদনং পচতি।( পচ্)

অকথিতং চ- এই সূত্রানুসারে পচ্ এই দ্বিকর্মক ধাতুর যোগে তন্ডূলান্ পদে গৌণ কর্মত্ব প্রাপ্ত হয়েছে এবং কর্মণি দ্বিতীয়া এই সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

অধিশীঙ্ স্থাসাং কর্ম

অধি- শী,স্থা, আস্ ধাতু থাকলে অধিকরণ স্থলে কর্ম কারক প্রাপ্ত হয়।

যেমন:- শিশুঃ শয‍্যাম্ অধিশেতে। (অধি-শী ধাতু)

অধিশীঙস্থাসাংকর্ম – এই সূত্রানুসারে অধি পূর্বক শী ধাতুর যোগে শয‍্যাম্ পদে অধিকরণ স্থলে কর্ম কারক প্রাপ্ত হয়েছে। এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

কৃষ্ণঃ দ্বারকাম্ অধিতিষ্ঠতি। (অধি-স্থা ধাতু )
নৃপঃ সিংহাসনম্ অধ‍্যাস্তে। (অধি-আস্ ধাতু)

অভিনিবিশশ্চ

অভি -নি- পূর্বক বিশ্ ধাতুর আধার কর্মসংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়।

উদা- সাধুঃ সন্মার্গম্ অভিনিবিশতে।

অভিনিবিশশ্চ– এই সূত্রানুসারে অভি-নি পূর্বক বিশ্ ধাতুর যোগে সন্মার্গম্ পদে আধার স্থলে কর্মকারক প্রাপ্ত হয়েছে। এবং কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

উপান্বধ‍্যাঙ্ বসঃ

উপ, অনু, অধি, আ এই উপসর্গের পর বস্ ধাতু থাকলে আধার স্থলে কর্ম সংজ্ঞা প্রাপ্ত হয়।

উদা:- হরিঃ বৈকুন্ঠম্ উপবসতি(উপ-বস্ ধাতু) আবসতি, অনুবসতি, অধিবসতি।

উপান্বধ‍্যাঙ্ বসঃ- এই সূত্রানুসারে উপ পূর্বক বস্ ধাতুর যোগে বৈকুন্ঠম্ পদে আধার স্থলে কর্মকারক হয়েছে। কর্মণি দ্বিতীয়া সূত্রানুসারে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

দ্বিতীয়া বিভক্তি

কর্মণি দ্বিতীয়া

অনুক্ত কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।

অনুক্ত কর্ম কী?

কর্তৃবাচ‍্যের কর্মকে অনুক্ত কর্ম বলে।

যেমন:- চন্দ্রং পশ‍্যতি।
আলোচ‍্য বাক‍্যটি কর্তৃবাচ‍্য। তাই চন্দ্রং এই পদটি অনুক্ত কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

উক্ত কর্ম কী?

কর্মবাচ‍্যের কর্মকে উক্ত কর্ম বলে। উক্ত কর্মে প্রথমা বিভক্তি হয়।

যেমন- চন্দ্রঃ দৃশ‍্যতে।

যেহেতু এটি কর্মবাচ‍্য তাই চন্দ্রঃ পদে উক্ত কর্মে প্রথমা বিভক্তি হয়েছে।

‘ক্রিয়াবিশেষণানাং কর্মত্বমেকত্বং ন পুংসকত্বং চ’

অর্থাৎ ক্রিয়াবিশেষণে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। এবং ক্লীবলিঙ্গে একবচনও হয়।

দ্রুতং গচ্ছতি।

ক্রিয়াবিশেষণানাং কর্মত্বমেকত্বং ন পুংসকত্বং চ- এই সূত্রানুসারে দ্রুতং পদে ক্রিয়া বিশেষণে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

কালাধ্বনোরত‍্যন্তসংযোগে

কালবাচক (মাস, বষং) পথের পরিমাণবাচক (যেমন-ক্রোশ) প্রভৃতি শব্দের যোগে অত‍্যন্তসংযোগে বা ব‍্যাপ্তি বোঝালে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।

উদা:- মাসং রামায়ণং পঠতি।
কালাধ্বনোরত‍্যন্তসংযোগ এই সূত্রানুসারে কালবাচক মাসং পদে ব‍্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

ক্রোশং কুটিলা নদী।
কালাধ্বনোরত‍্যন্তসংযোগ- এই সূত্রানসারে পথের পরিমাণবাচক ক্রোশং পদে ব‍্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

অভিতঃ-পরিতঃ-সময়া-নিকষা-হা-প্রতিযোগেঽপি (বার্তিক)

অভিত(সম্মুখে),পরিত(চতুর্দিকে) সময়া(নিকটে) নিকষা(নিকটে) হা(ধিক অর্থে বা দুঃখ অর্থে) প্রতি (দিকে) এই শব্দগুলির যোগে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।

উদা- হা পাপিনম্, পৃথিবীং পরিতঃ অর্নবঃ, গ্রামং সময়া বনম্।

অভিতঃ- পরিতঃ- সময়া- নিকষা-হা-প্রতিযোগেঅপি- এই বার্তিকানুসারে হা এই শব্দের যোগে পাপিণম্ পদে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

কর্মপ্রবচনীয়যুক্তে দ্বিতীয়া

আমরা জানি, ধাতুর পূর্বে উপসর্গ বসে ধাতুর অর্থকে প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ স্বতন্ত্র ভাবে বসেও নিজের অর্থকে প্রকাশ করে। তখন তাতে কর্মপ্রবচনীয় হয়। কর্মপ্রবচনীয় যোগে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়।

যেমন- জপমনু প্রাবর্ষৎ।(জপের পরে বৃষ্টি হচ্ছে)
সুখম্ অনুভূয়তে।

কর্মপ্রবচনীয়যুক্তে দ্বিতীয়া এই সূত্রানুসারে কর্মপ্রবচনীয় যোগে জপম্ পদে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

কর্ম কারক ও দ্বিতীয়া বিভক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য(FAQ)

কর্ম কাকে বলে?

কর্তা ক্রিয়ার সাহায্যে যা করে তাই কর্ম ।

উক্ত কর্ম কাকে বলে?

যে কর্ম উক্ত অর্থাৎ কর্ম বাচ্যের কর্ম উক্ত কর্ম ।

গৌণ কর্ম কাকে বলে?

অপাদান করণ প্রভৃতি কারক বক্তার ইচ্ছার অভাবে কখনো কখনো কর্ম কারক হয় । প্রধান কর্ম কারকের সাথে যুক্ত অন্য কারক কর্ম কারক হয়ে যায় । অন্য কারকের স্থানে যে কর্মটি তার নাম অপ্রধান কর্ম বা গৌণ কর্ম বা অকথিত কর্ম ।

অনুক্ত কর্ম কাকে বলে?

কর্তৃ বাচ্যের কর্ম অনুক্ত কর্ম । (যদিও এটি ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা নয় । )

সংস্কৃত কারক বিভক্তির অন্যান্য পোস্টগুলি

Leave a Comment