বৈদিক সন্ধি

বৈদিক সংস্কৃত সন্ধি সম্পর্কে আলোচনা করা হল । বৈদিক সংস্কৃত সন্ধির নিয়মাবলী উদাহরণ সহ আলোচনা করা হল ।

সংস্কৃত বৈদিক সন্ধি

বৈদিক সংস্কৃত সন্ধির নিয়মাবলী অধিকাংশ স্থানে লৌকিক সংস্কৃতের সন্ধির নিয়মের অনুরূপ।

লৌকিক সংস্কৃতে সন্ধির  নিয়মাবলী হল-

সংহিতৈকপদে নিত‍্যা নিত‍্যা ধাতুপসর্গয়োঃ।
সমাসেঅপি চ নিত‍্যা স‍্যাৎ সা চান‍্যএ বিভাষিতা।।”

একপদীকরণ, ধাতু, উপসর্গ ও সমাসের ক্ষেত্রে সন্ধি আবশ‍্যক। এছাড়া অন‍্যস্থলে সন্ধি করা বা না করা লেখকের ইচ্ছাধীন।

ঠিক তেমনি বৈদিক সন্ধিতে স্বরসন্ধির ক্ষেত্রে দুই সমানাক্ষরের মধ্যে অবস্থিত সন্ধিতে হ্রস্বস্বর দীর্ঘ হয়ে যায়।
যেমন-

  • ইহ+অস্তি = ইহাস্তি।
  • ত্ব + অগ্নে = ত্বাগ্নে।
  • সু + উক্তম্ = সূক্তম্।

ঋ – কখনোই সন্ধি হয় না।  কারণ সংহিতায় দুটি ঋ কখনো মিলিত হয় না। কিন্তু বিশেষ বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে সন্ধির বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন-

বৈদিক সংস্কৃত সন্ধির নিয়মাবলী

i) অম্নর, ঊধর- অবর ইত‍্যুভয়থা ছন্দসি:- 

এই সূত্র অনুসারে বৈদিক সাহিত্যে অম্নর, ঊধর, অবর ইত‍্যাদি শব্দের পর  যদি স্বরবর্ণ থাকে তাহলে অ এর রুত্ব প্রাপ্ত হয়। 
যেমন-

  • অম্ন+ এব = অম্নরেব।
  • ঊধ+ এব = ঊধরেব।
  • অব + এব = অবরেব।

ii) দীর্ঘপদটি সমানপদে:-

এই সূত্রানুসারে দীর্ঘ স্বরের পরে  যদি ন্ কার থাকে এবং তারপর অট্ অর্থাৎ স্বরবর্ণ হ,য,ব,র, ল থাকে তাহলে ঐ ন্ এর রুত্ব প্রাপ্ত হয়। পরে ‘অতোঅটি নিত‍্যম্‘- এই সূত্রানুসারে র এর লোপ এবং তৎস্থানে আনুনাসিক চন্দ্রবিন্দু যুক্ত হয়। যেমন-

  • দেবান্ + অচ্ছা>দেবারঅচ্ছা>দেবাঁঅচ্ছা।
  • মহান্ + ইন্দ্রঃ> মহারইন্দ্রঃ > মহাঁইন্দ্রঃ।

iii) কঃ – করৎ – করতি- কৃধি- কৃতোস্বেন দিতে:-

এই সূত্রানুসারে কঃ,করৎ, করতি, কৃধি ও কৃত শব্দ পরে থাকলে বিসর্গ স্থানে স কার হয়।
যেমন-

  • অপঃ + কঃ = অপস্কঃ।
  • নঃ + কৃতম্ = নস্কৃতম্।

কিন্তু অদিতি শব্দের পর বিসর্গ থাকলেও স হয় না। যেমন- অদিতিঃ করৎ।

iv) ষষ্ঠ্যাঃ পতিপুত্র পৃষ্ঠপার পদপয়স্ পোষেষু :-

এই সূত্রানুসারে ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত পদের পর বিসর্গ থাকলে
সেই স্থানে স কার হবে যদি পতি, পুত্র, পৃষ্ঠ, পার, পদ, পয়স, পোষ শব্দ পরে থাকে।
যেমন-

  • বাচঃ + পতিম্ = বাচস্পতিম্।
  • দিবঃ + পুত্রায় = দিবস্পুত্রায়।

v) ইড়ায়া বা:-

এই সূত্রানুসারে ইড়ায়া পদের পর উপরিউক্ত পতি, পুত্র, পৃষ্ঠ প্রভৃতি শব্দ থাকলে ইড়ায়া শব্দের পর বিসর্গ স্থানে স কার হবে। যেমন-

  • ইড়ায়াঃ + পুত্র= ইড়ায়াস্পুত্র।
  • ইড়ায়াঃ + পদম্ = ইড়ায়াস্পদম্।

vi) বিসর্জনীয়দ্বয়ের লোপ

  স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্জনীয়দ্বয়ের লোপ হয়।  এবং লোপের পর আবার সন্ধি হয়।
যেমন-

  • পিতঃ + ইব = পিতেবঃ (স নঃ পিতেবঃ)

vii) ন-ণ এবং স- ষ তে রূপান্তরিত

বৈদিক সন্ধিতে ন-ণ এবং স- ষ তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন-

  • ঊরান্ + অস‍ৌ = ঊরূণসৌ(ন-ণ তে পরিণত)
  • ইমাঃ উ ইতি সু = ইমাঃ উ ইতি ষু।

viii) পঞ্চমীর বিসর্গের পর পরি শব্দ

পঞ্চমীর বিসর্গের পর পরি শব্দ থাকলে বিসর্গস্থানে  স কার হয়।
যেমন-

  • দিবঃ + পরি = দিবস্পরি।

ix) বৃষন্ শব্দের পর বসু অথবা অশ্ব

  বৃষন্ শব্দের পর বসু অথবা অশ্ব থাকলে অ কার লোপ পায়।
যেমন-

  • ‘বৃষন্+ বস্তু= বৃষণ্বসু। ( বৃষণশ্বস‍্য)

Leave a Comment