ভাস শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর-সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস | Vaas short Question-answer

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস ভাস (দ্বিতীয় খৃষ্টাব্দ, খৃ-২০১) শর্ট প্রশ্ন ও উত্তর নিম্নে দেওয়া হল । ভাসের নাটকের নাম সহ আলোচনা করা হল।

Table of Contents

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

ভাস শর্ট প্রশ্ন ও উত্তরগুলি নিচে দেওয়া হলো –

নাটক উৎসশ্রেনী অংকসংখ্যা
১) প্রতিমানাটকম্ রামায়ণনাটকসাত
২ ) অভিষেকনাটকম্রামায়ণনাটকছয়
৩) কর্ণভারম্ মহাভারতব্যায়োগএক
৪) ঊরভঙ্গম্ মহাভারতব্যায়োগএক
৫) দূতবাক্যম্ মহাভারতব্যায়োগএক
৬) দূতঘটোৎকচম্ মহাভারতএক
৭) পঞ্চরাত্রম্ মহাভারতসমবকারতিন
৮) বালচরিতম্ হরিবংশনাটকপাঁচ
৯) মধ্যম-ব্যায়োগঃ _ মহাভারতব্যায়োগএক
১০)প্রতিজ্ঞা-যৌগন্ধরায়নম্উদয়নকথানাটকচার
১১)স্বপ্নবাসবদত্তম্ উদয়নকথানাটকছয়
১২) অবিমারকঃলোককথানাটকছয়
১৩) চারুদত্ত লোককথানাটক(খন্ডিত)চার অঙ্ক পর্যন্ত প্রাপ্ত
ভাসের তেরোটি নাটক

কাল – (দ্বিতীয় খৃষ্টাব্দ, খৃ-২০১)

১) কালিদাস-পূর্বকালের দুজন সংস্কৃত নাট্যকারের নাম এবং তাঁদের রচিত একটি করে নাটকের নাম উল্লেখ কর।

উঃ – কালিদাস-পূর্বকালের দুজন সংস্কৃত নাট্যকার হলেন অশ্বঘোষ ও ভাস।
   অশ্বঘোষ রচিত নাটক “সারিপুত্রপ্রকরন”, আর ভাস রচিত নাটক “প্রতিমানাটক”।

২) ভাসের নাটকগুলি কে, কোথায়, কবে আবিস্কার করেন ?

উঃ=> পন্ডিতপ্রবর টি.গনপতি শাস্ত্রী ১৯১২-১৯১৫ খৃঃ মধ্যে কেরল প্রদেশের তিরুবন্তপুরম্-এর কাছাকাছি পদ্মনাভপুরম্ অঞ্চলের মনলিক্কের  মঠে  তালপাতার পুঁথিতে লেখা তেরোটি নাটক আবিষ্কার করেন।

৩) গনপতি শাস্ত্রী কর্তৃক আবিস্কৃত নাটকগুলি যে ভাসেরই রচনা তার সপক্ষে অন্তত দুটি কারন উল্লেখ কর।

উঃ=> মহামহোপাধ্যায় গনপতি শাস্ত্রী যে তেরোটি নাটক আবিস্কার করেন, সেগুলির কোনোটিতেই নাট্যকারের নাম ছিল না। শাস্ত্রী মহাশয় যুক্তি সহ একথা প্রমান করতে সচেষ্ট হন যে, উক্ত নাটকগুলির রচয়িতা একই ব্যক্তি এবং তিনি অবশ্যই ভাস। প্রথমতঃ উক্ত নাটকটির মধ্যে প্রাপ্ত “স্বপ্নবাসবদত্তম্” নাটকটির সঙ্গে ভাসের রচনা বলে পূর্বে পরিচিত ও আলংকারিকগন কর্তৃক উল্লেখিত ও উদ্ধৃত অংশের অনেক সাদৃশ্য বিদ্যমান। দ্বিতীয়তঃ নাটকগুলির রচনাশৈলী, নাট্যকলা, ভাষা, ভাব প্রভৃতির মধ্যে বিস্ময়কর সাদৃশ্য ও সমজাতীয়ত্ব পরিলক্ষিত হয়।

৪) সংস্কৃত নাট্যসাহিত্য “ভাসসমস্যা” বলতে কি বোঝ ?

উঃ=> গনপতি শাস্ত্রীমহোদয় যে তেরটি নাটক আবিস্কার করেন ও সেগুলি ভাস রচিত বলে যুক্তিসহ প্রচার করেন-সেই মত সকলে মেনে নেননি। তাঁদেরও বিরোধী যুক্তি ছিল। অতএব আবিস্কৃত নাটকগুলির রচয়িতা সংক্রান্ত এই সমস্যাই “ভাসসমস্যা” নামে পরিচিত।

৫) রামায়ণ অবলম্বনে রচিত ভাসের দুটি নাটকের  নাম কর। এগুলির মধ্যে সাহিত্যগুনে উৎকৃষ্ট নাটক কোনটি ?

উঃ=> রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে ভাস যে দুটি নাটক রচনা করেন তা হল- প্রতিমা ও অভিষেক বা প্রতিমা নাটক ও অভিষেক নাটক।
      এই দুটি নাটকের মধ্যে সাহিত্যগুনে উৎকৃষ্ট নাটক হল- প্রতিমানাটক। যেখানে নাট্যকারের উৎস – অতিক্রমী মৌলিক কল্পনা ও প্রতিভার পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে।

৬) রামায়ণ ও মহাভারত কাহিনী বহির্ভূত ভাস রচিত নাটকগুলির নাটকগুলির নাম উল্লেখ কর এবং সেগুলির উৎস নির্নয় কর ।

উঃ=> ভাসের অধিকাংশ নাটক রামায়ণ ও মহাভারত – কাহিনী অবলম্বনে রচিত। কিন্তু তাঁর চারটি নাটকের কাহিনী অন্য উৎস অবলম্বনে রচিত। সেই নাটকগুলি হল- “স্বপ্নবাসবদত্তম্” , “প্রতিজ্ঞাযৌগন্ধরায়ণম্”, “অবিমারকম্” ও “চারুদত্তম্”।
          তার মধ্যে “স্বপ্নবাসবদত্তম্” ও “প্রতিজ্ঞাযৌগন্ধরায়ণম্” তৎকালে বলুন প্রচলিত উদয়নবৃত্তান্ত অবলম্বনে এবং অবিমারক ও চারুদত্ত প্রচলিত লোককাহিনী অবলম্বনে রচিত।

৭) ভাস যে কালিদাস পূর্বকালের নাট্যকার এবিষয় অন্তত দুটি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ কর।

উঃ=> ভাস নিঃসংশয়ে কালিদাসের পূর্ববর্তী নাট্যকার। প্রথমত, কালিদাস স্বয়ং তাঁর রচনায় (মালবিকাগ্নিমিত্রম্) অন্যান্যদের সঙ্গে ভাসের নামোল্লেখ করেছেন “প্রথিতযশসাং ভাসসৌমিকবিপুত্রাদীনাম্। দ্বিতীয়তঃ ভাসের ব্যবহৃত প্রাকৃতভাষা কালিদাসের ব্যবহৃত প্রাকৃত থেকে প্রাচীনতর ও ভাসের নাট্যভাষায় অপানিনীয় পদপ্রয়োগ।

৮) মহাভারত কাহিনী অবলম্বনে রচিত ভাসের নাটকগুলির নাম উল্লেখ কর।

উঃ=> মহাভারত কাহিনী অবলম্বনে ভাস ছয়টি নাটক রচনা করেন। সেগুলি হল – পঞ্চরাত্রম্, মধ্যমব্যায়োগ, দূতবাক্যম্, দূত-ঘটোৎকচম্, ঊরুভঙ্গম্ এবং কর্ণভারম্।

৯) ভাস রচিত “বালচরিতম্” নাটকের উৎস নির্দেশ কর। এটি কোন্ শ্রেনীর দৃশ্যকাব্য ?

উঃ=> ভাস রচিত “বালচরিতম্”  নাটকের উৎস কৃষণবিষয়ক কতগুলি বিক্ষিপ্ত কাহিনী । আবার অনেকের মতে মহাভারতের পরিশিষ্ট অংশ হরিবংশ । এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা কঠিন। “বালচরিত ” পাঁচ অঙ্কে রচিত নাটক শেনীর দৃশ্যকাব্য।

১০) ভাস রচিত নাটকের সঙ্গে পরবর্তী সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের এক প্রসিদ্ধ নাটকের কাহিনীগত সাদৃশ্য বিদ্যমান ?

উঃ=> ভাসের “চারুদত্তম্” নাটকটি ব্রাহ্মণ চারুদত্ত ও নটী বসন্তসেনার প্রনয় কাহিনী অবলম্বনে রচিত। পরবর্তীকালে শূদ্রক ও এই একই কাহিনী অবলম্বনে “মৃচ্ছকটিকম্” নাটক রচনা করেন।

১১) সংস্কৃত সাহিত্যে একমাত্র বিয়োগান্ত নাটকটির নাম এবং তার রচয়িতার নাম উল্লেখ কর। এই নাটকের অন্য নাম কি ?

উঃ=> সংস্কৃত সাহিত্যে একমাত্র বিয়োগান্ত নাটক হল- ভাস রচিত “ঊরুভঙ্গম্” । এর প্রধান বিষয় – গদাযুদ্ধে ভীমের দ্বারা দুর্যোধনের ঊরুভঙ্গ। এতে রঙ্গমঞ্চে দুর্যোধনের মৃত্যু দেখানো হয়েছে যা সংস্কৃত অলংকার শাস্ত্রের বিধান- বিরোধী।
ঊরুভঙ্গ নাটকটির নামান্তর হল- গদাযুদ্ধম্।

১২) নাট্য রচনায় ভাসের স্বাতন্ত্র্য ব্যাখ্যা কর।

উঃ=> অন্যান্য সংস্কৃত নাট্যকারের মধ্যে ভাস নানাদিক থেকে স্বতন্ত্র । প্রথমত, তিনিই এককভাবে সবচেয়ে বেশি নাটক এবং বিভিন্ন শ্রেনীর দৃশ্যকাব্য রচনা করেছেন। দ্বিতীয়ত, কাহিনী গ্রন্থনায় মৌলিকতার পরিচয় রয়েছে তাঁর দৃশ্যকাব্যে। তৃতীয়ত, ভাসের ভাষা সরল, নাটকের গতি দ্রুত, সংলাপ বাহুল্যবর্জিত এবং চরিত্র জীবন্ত। চতুর্থত, তাঁর অধিকাংশ নাটকই মঞ্চের পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী। পঞ্চমত,তিনিই প্রথম একাংশ নাটকে রচয়িতা।

১৩) অবিমারক নাটকটির রচয়িতা কে ? “অবিমারক” কথাটির অর্থ কি ? এর বিষয়বস্তু উল্লেখ কর।

উঃ=> “অবিমারক” নাটকটির রচয়িতা ভাস । ষষ্ঠ অঙ্ক বিশিষ্ট এই নাটকে ঋষিশাপে চন্ডালত্ব প্রাপ্ত সৌবীর রাজের পুত্র বিষ্ণুসেন ও রাজা কুন্তীভোজের কন্যা কুরঙ্গীর প্রনয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
       “অবি’ অর্থাৎ মেষ, “মারক” অর্থাৎ হত্যাকারী। মেষ রূপকারী অসুরকে বধ করে বিষ্ণুসেন এই উপাধি লাভ করেন।

১৪) রামায়ণ-মহাভারত ছাড়া একই উৎস অবলম্বনে রচিত ভাসের দুটি নাটকের নাম কর।

উঃ=> প্রাচীনকালে প্রচলিত জনপ্রিয় উদয়নকথা অবলম্বনে ভাস স্বপ্নবাসবদত্তম্ ও প্রতিজ্ঞাযৌগন্ধরায়ণম্- এই দুটি নাটক রচনা করেন।

১৫) স্বপ্নবাসবদত্তম্ নাটকের শ্রেষ্টত্ব বিষয়ে আলংকারিক কবি রাজশেখর এর সুপ্রসিদ্ধ উক্তিটি বিবৃত কর।

উঃ=> ভাসের স্বপ্নবাসবদত্তম্ নাটকের শ্রেষ্টত্ব বিষয়ে প্রখ্যাত আলংকারিক রাজশেখর বলেছেন- ভাসের নাটক (সমালোচনার) আস্তনে দগ্ধ হলেও স্বপ্নবাসবদত্তম্ নাটকটি সম্পূর্ণরূপে অক্ষত ছিল-
“ভাসনাটকচক্রেঅপি ছেটকঃক্ষিপ্তে পরীক্ষিতুম্।
স্বপ্নবাসবদত্তস্য দাহকোহভূন্ন পাবকঃ।।”(সুক্তিমুক্তাবলী)।

১৬) “জ্বলনমিত্র” কার উপাধি ? কে কার সম্পর্কে এরূপ উক্তি করেছেন ?

উঃ=> “জ্বলনমিত্র” ভাসের উপাধি। “গউডবহো” নামক প্রাকৃত কাব্যের রচয়িতা বাকপতিরাজ তাঁর কাব্যে ভাসকে “জলনমিত্তে” উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
ভাসের বেশ কয়েকটি নাটক আকস্মিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা দেখে সম্ভবত বাকপতিরাজ এরূপ উক্তি করেছেন।

১৭) কে, কোথায় ভাসকে “সরস্বতী নির্মলহাস্য” রূপে উল্লেখ করেছেন ? এরূপ উল্লেখের কারন কি ?

উঃ=> নাট্যকার জয়দেব তাঁর “প্রসন্নরাঘব” নাটকে ভাসকে “ভাসোহাসঃ” অর্থাৎ সরস্বতীর নির্মল হাস্যরূপে উল্লেখ করেছেন।
ভাসের দীর্ঘ সমাসবর্জিত, জটিল বাক্যরহিত, সরল ও আড়ম্বরহীন রচনারীতির জন্যই তাঁকে “সরস্বতীর নির্মল হাস্য” রূপে উল্লেখ করা হয়েছে। রচনার স্নিগ্ধতাই এরূপ তুলনার কারন।

১৮) গনপতি শাস্ত্রী কর্তৃক আবিস্কৃত ভাসের তেরোটি নাটক কিরকম পুঁথিতে এবং কোন হরফ বা অক্ষরে নিবদ্ধ ছিল ?

উঃ=> গনপতি শাস্ত্রী কর্তৃক আবিস্কৃত ভাসের তেরোটি নাটক তালপাতার পুঁথিতে সংস্কৃত ভাষায়, কিন্তু মালয়ালম্ লিপি বা অক্ষরে বা হরফে নিবদ্ধ ছিল।

১৯) ভাসের এই তেরোটি নাটক সম্পর্কে কে “ভাস-নাটকচক্র” কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন ?

উঃ=> খৃঃ নবম-দশম শতাব্দীর কবি আলংকারিক রাজশেখর তাঁর নামে প্রচলিত “সূক্তিমুক্তাবলী” নামক সংকলনে প্রথম “ভাসনাটকচক্র” কথাটি ব্যবহার করেন- “ভাসনাটকচক্রেঅপি……..” প্রভৃতি শ্লোকে।

২০) গনপতি শাস্ত্রী আবিস্কৃত ভাসের তেরোটি নাটক কোন গ্রন্থমালায় কোন্ সময় প্রকাশিত হয় ?

উঃ=> মহামোহপাধ্যায়টি গনপতি কর্তৃক আবিস্কৃত তেরোটি নাটকের মধ্যে একত্রে পাঁচটি ও পরে অবশিষ্ট গুলি পৃথক পৃথকভাবে Trivandrum Sanskrit Series গ্রন্থমালায় ১৯১২-১৫ খৃষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল।

২১) প্রস্তাবনার পরিবর্তে কোন নাট্যকারের নাটকে “স্থাপনা” কথাটির ব্যবহার দেখা যায় ?

উঃ=> “প্রস্তাবনা”-র পরিবর্তে “স্থাপনা” কথাটি ভাসই তাঁর নাটকে ব্যবহার করেছেন।

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যান্য ছোট প্রশ্ন ও উত্তর গুলি নিচে দেখুন

আরো পড়ুন

ব্যসন কি? মনুসংহিতা অনুসারে আলোচনা কর

মনুসংহিতা- রাজার উৎপত্তির ঐশ্বরিক মতবাদ

VISIT OUR FACEBOOK PAGE





Leave a Comment