ভাষাতত্ত্ব: মূর্ধন‍্যীভবন

ভাষাতত্ত্ব হতে মূর্ধন‍্যীভবন সম্পর্কে আলোচনা বা টিকা রচনা করা হল ।

ভাষাতত্ত্ব হতে মূর্ধন‍্যীভবন টিকা

ভাষার ক্ষেত্রে এমন কতকগুলি ব‍্যাকরণগত পরিবর্তন আছে যে গুলি ধ্বনি বিজ্ঞানের সূত্র মেনে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনগুলি অর্থাৎ ধ্বনির গঠনগুলি বিভিন্ন প্রকারের। এই ধ্বনি গঠনের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে তাদের বিভিন্ন নামকরণ করা হয়েছে। এদের মধ‍্যে কোন কোন পরিবর্তন ভারতীয় আর্যভাষার উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। এই পরিবর্তনগুলির মধ‍্যে অন‍্যতম হল মূর্ধণীভবন।

        যখন কোন একটি ধ্বনি বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বা কাছাকাছি অবস্থিত কোনো দণ্ড ধ্বনি  ঋ্, র্, ষ্ ( r,r,s) এবং ট,ঠ, ড প্রভৃতি মূধর্ণ‍্য ধ্বনির প্রভাবে মূর্ধণ‍্য ধ্বনিতে পরিণত হয়। তাহলে দণ্ড ধ্বনির মূর্ধণ‍্য ধ্বনিতে পরিণত  হওয়াই হল মূর্ধণ‍্যীভবন।

     ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষা পরিবার থেকে আর্যভাষার পরিবর্তন লক্ষ‍্য করে যেমন ভাষাতত্ত্ব বিধগন মূর্ধন‍্যীভবন ইত‍্যাদি সংজ্ঞা বিধান করেছেন তেমনি পাণিনীব‍্যাকরণে ণত্ব ও ষত্ব বিধানও করা হয়েছে। সেখানে ণত্ব বিধানের সূত্র হল – রসাভ‍্যাম্ ণো ণঃ সমানুপাতিক।

যেমন-

I.E * O.I.A-astau
        অক্তৌ > অষ্টৌ।

(সংস্কৃত) বিকৃত > (বৈদিক) বিকট।

    কখনো কখনো এই পরিবর্তন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেও হয়ে থাকে। যেমন-

√স্থা > তিষ্ঠতি।
√ মুহ > মূঢ়।

আবার কখনো কখনো মূর্ধণ‍্য ধ্বনির প্রভাব ছাড়াই কোন দণ্ড ধ্বনি মূর্ধণ‍্য ধ্বনিতে পরিণত হয়ে যায়। এই প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনকে সত্বমূর্ধন‍্যীভবণ বলা হয়।
যেমন-

(বৈদিক) অটতি > (সংস্কৃত) অততি।
(সংস্কৃত) পততি > ( প্রাকৃত) পড়ই > (বাংলা) পড়ে।

Leave a Comment