অভিজ্ঞানশকুন্তলম্: বিদূষকের চরিত্র

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকে বিদূষকের চরিত্র আলোচনা কর।

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকে বিদূষকের চরিত্র

বিদূষকের নাম মাধব‍্য
বিদূষকের অর্থ নাট্যে নায়কের রসিক সহচর বা ভাঁড়
মঞ্চে উপস্থিত দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ অঙ্কে
ঞ্চম অঙ্কে ক্ষণিকের জন‍্য

উ:- মহাকবি কালিদাস প্রণীত অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকের বিদূষক মাধব‍্য একটি   উল্লেখযোগ্য চরিত্র। নাটকের হাস্যরস পরিবেশনের জন্য এবং নায়ক-নায়িকার মিলনকে ত্বরান্বিত করার জন্য এই চরিত্রটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাটকের তিনটি অংকে বিদ্যুৎ একমঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ অঙ্কে প্রধানভাবে এবং পঞ্চম অঙ্কে ক্ষণিকের জন‍্য বিদূষকের উপস্থিতি লক্ষ‍্য করা যায়। মহারাজ দুষ‍্যন্তের পার্শ্ব সহচর রূপে এবং জীবনবোধের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষক রূপে  নাটকে বিদূষকের ভূমিকা অতুলনীয়। অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ নাটকে মাধব‍্যের যে সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট‍্যগুলি লেখক আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, সেগুলি হল-

  • প্রথমত, নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে মৃগানুসরণকারী দুষ‍্যন্তের সঙ্গে থেকেও অনবরত মৃগের পশ্চাৎ ধাবনে বিদূষকের অনীহা চোখে পড়ে। কারন, সে ছিল বিশ্রামপ্রিয় তথা শ্রববিমুখ।
  • দ্বিতীয়ত, বিদূষক ছিলেন ভোজন বিলাসী। তিনি রাজাকে বলেছেন- ” কিং মোদক খাদিকায়াম্? তেন হি সুগৃহীতোঅয়ং জনঃ।” বিদূষক  ছিলেন দুষ‍্যন্তের  প্রিয় পাত্র এবং  বিশ্বস্ত অনুচর। তাই দূষ‍্যন্ত বিদূষকের কাছে নিঃসঙ্কোচে যে শকুন্তলা সৌন্দর্যের বর্ণনা  করেছেন। শকুন্তলার প্রেমকে তিনি রসিকতা মনে করে ভুলে গিয়েছেন।
  • তৃতীয়ত, নাটকের পঞ্চম অঙ্কে বিরহিনী হংসপদিকাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বিদূষকের উপস্থিতি দেখা যায়।
  • চতুর্থত, দুষ‍্যন্ত বিদূষককে সম্পূর্ণ  বিশ্বাস করতে পারতেন না। কারণ, বিদূষক ছিলেন সরল বুদ্ধির মানুষ।  তিনি অন্তঃপুরে গিয়ে সুস্বাদু আহার পেয়ে যদি অন্যান্য অন্তপুরিকাদের শকুন্তলা বিষয়ে বলে দেন, তাহলে দুষ‍্যন্তের সমূহ বিপদ। তাই দুষ‍্যন্ত‍ মাধব‍্যকে সাবধান করে বলেছেন – শকুন্তলার সঙ্গে তার পরিচয় ক্ষণিকের জন্য।
  • পঞ্চমত, ষষ্ঠ অঙ্কে বিদূষককে রাজার প্রকৃত বন্ধুরূপে পাওয়া যায়। এই অঙ্কে আমরা দেখি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতোই বিদূষক রাজাকে নানাভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন। প্রত্যাখ্যাতা শকুন্তলার জন্য অনুতপ্ত দুষ‍্যন্তের শোক অবদমনে বিদূষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
  • ষষ্ঠত, ইন্দ্রের সারথী মাতলি বিদূষককে অদৃশ‍্য অবস্থায় তুলে নিয়ে যান। ফলে তাঁকে বাঁচাতে দুষ‍্যন্তের ক্ষত্রিয় তেজ ফিরে আসে  এবং স্বর্গে গিয়ে যথাযথ কর্তব‍্য সমাপনের পর ফেরার পথে মারীচ মুনির আশ্রমে সপুত্রক শকুন্তলার সঙ্গে রাজা মিলিত হতে পেরেছেন।

পরিশেষে বলা যে, মঞ্চে উপস্থিত বিদূষকের থেকেও মঞ্চে অনুপস্থিত বিদূষকের ভূমিকা  নাটকে অধিক প্রভাবশালী হয়েছে। ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকের বিদূষক অন‍্যান‍্য নাটকের বিদূষকদের মতো কেবলমাত্র হাস‍্যরস পরিবেশনের জন‍্যই চিত্রিত হননি, নাট‍্য কাহিনী বিস্তারের জন‍্য নাট‍্যকার নানাভাবে বিদূষককে ব‍্যবহার করেছেন। সংস্কৃত নাটকের চিরাচরিত প্রথা বহির্ভূত এই বিদূষক অপেক্ষা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল।

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকে বিদূষকের নাম কি ?

মাধব‍্য

বিদূষক কাকে বলে?

নাট‍্য কাহিনী বিস্তারের জন‍্য যে হাস‍্যরস পরিবেশন করে ।

Leave a Comment