অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অনুসারে শকুন্তলার চরিত্র বিশ্লেষন কর | Analyst the character of Shakuntala

মহাকবি কালিদাস রচিত অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটক অনুসারে শকুন্তলার চরিত্র বিশ্লেষণ কর । অভিজ্ঞান শকুন্তলম এর শকুন্তলা কাহিনী পিডিএফ দেওয়া হল । Abhigyan Shakuntalam Pdf Analyst the character of Shakuntala

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটক অনুসারে শকুন্তলার চরিত্র বিশ্লেষণকর।

সংস্কৃত কাব‍্য কাননে নাট‍্যকার রূপে কালিদাস যেন প্রস্ফুটিত পারিজাত। তিনি তার অমর সৃষ্টি তারা সংস্কৃত সাহিত্য কে বিশ্ব সাহিত্যের ইতিহাসে এক সম্মানজনক প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেছেন।তাঁর রচিত তিনখানি নাটক সংস্কৃত সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

তাদের মধ্যে অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ কালিদাস এর সর্বস্ব গ্রন্থ- কালিদাসস‍্য সর্বস্বমভিজ্ঞানশকুন্তলম্। 

দুষ্মন্ত শকুন্তলার প্রণয় নাটকটির বিষয়বস্তু। এই শকুন্তলা মহাভারতে বর্ণিত নয়। এই শকুন্তলা কালিদাস- এর মানস প্রতিমা।

 মহর্ষি বিশ্বামিত্রের ঔরসে এবং স্বর্গের অপ্সরা মেনকার গর্ভে শকুন্তলার জন্ম হয়। মাতা মেনকার দ্বারা পরিত্যক্ত শকুন্তলাকে মহর্ষি কন্ব সন্তানস্নেহে লালন-পালন করেন এই শকুন্তলা’ হরিণীর মতো চঞ্চলা এবং প্রকৃতিকন্যার মতো সরলা।

অভিজ্ঞানশকুন্তলম নাটকে মহাকবি কালিদাস শকুন্তলার চরিত্রের যে অসামান্য বৈশিষ্ট্য গুলি   আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।শকুন্তলার চরিত্র বিশ্লেষণ নিম্নে করা হল –

 অনুপম সৌন্দর্য‍্য মণ্ডিত শকুন্তলা

রূপ ও লাবণ্য শকুন্তলার সহজাত। ষোড়শ -সপ্তদশ বর্ষীয় অনুপম সুন্দরী শকুন্তলার যৌবন ও তার স্বভাব শকুন্তলার লাবন‍্যকে  যেন আরও বর্ধিত করেছে।

হস্তিনাপুরাধিস দুষ‍্যন্ত প্রথম দর্শনেই শকুন্তলার রূপে মুগ্ধ হয়েছেন। তার অধর কচি পাতার মতো রক্তিম,বাহুযুগল লতার মতো কোমল এবং সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে আছে কুসুমের মতো যৌবন- “কুসুমম্ ইব লভনীয়ং যৌবনমঙ্গে।”

মুগ্ধ নায়িকা শকুন্তলা

শকুন্তলা ছিলেন মুগ্ধ নায়িকা।  দুষ‍্যন্ত তাই বলেছেন- “মুগ্ধাসু তপস্বী কন‍্যাসু”।  

তার মনে যেমন সারল্যের সচ্ছলতা,চোখে তেমন স্বপ্নের কিরণ। তিনি বিশ্বাসের মানদন্ডে সকলকে ভালবাসেন। 

তাই তো তিনি অতি সহজেই দুষ‍্যন্তের প্রণয়পাশে আবদ্ধ হয়েছেন।  কিন্তু কখনোই শকুন্তলার মানসিক পবিত্রতা  ক্ষুন্ন হয়নি।

গুরুজনদের প্রতি শকুন্তলার ভক্তি 

শকুন্তলা গুরুজনদের প্রতি সর্বদা সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।  দুষ্মন্তের প্রতিও তিনি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেছেন। 

তাই দুষ‍্যন্তের উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছেন- “আঃ কুরোভাগিনী কিমিদং স্বাতন্ত্র‍্যম্ বলম্বসে”?

সংকোচপরায়না

  শকুন্তলা অতি সংকোচপরায়ণা ও মুগ্ধা নায়িকা। তিনি অত্যন্ত বিরহী হয়েও প্রিয় বান্ধবী অনুসূয়া ও প্রিয়ংবদা কাছে মনের অনুরাগের কথা বলতে পারেননি। অনেক পীড়াপীড়ের পর সে খুবই সংকচের সঙ্গে মনের কথাটি বলেছেন।

প্রকৃতিপ্রেমী শকুন্তলা

শকুন্তলার চরিত্র প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রকৃতির প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা।

তার স্নেহ রসে সমগ্র তপোবন যেন প্লাবিত। তরুলতার জলসেচন না করে তিনি কখনো জল পান করতেন না। সহকার তরুর সঙ্গে বনজোৎস্না লতার বিবাহ দিয়ে শকুন্তলা পরম তৃপ্তি লাভ করেছিলেন। গাছে ফুল ফোটার সময় আনন্দের সীমা থাকে না।

হরিণ সাবকগুলিকে তিনি মাতৃস্নেহে লালন-পালন করতেন। তাইতো পতিগৃহে যাত্রাকালে আশমের সামান‍্য বৃক্ষলতা থেকে শুরু করে ময়ূর-ময়ূরী, এমনকি মাতৃহারা হরিণ শিশুটিও তার আঁচল ধরে টেনেছিল-


“উদগলিত  দর্ভকবলা মৃগাঃ পরিত‍্যক্তনর্তনাময়ূরাঃ।
অপসৃতপান্ডুপত্রা মুঞ্চন্ত‍্যশ্রূনীবলতা।।”

         কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বলেছেন-  

লতার সাথে ফুলের যেমন সম্বন্ধ,প্রকৃতির সাথে শকুন্তলার তেমনই সম্বন্ধ।

পতিপ্রেম

শকুন্তলা’ ছিলেন পতিগত প্রাণ। স্বামীর চিন্তায় বিভোর থেকে তাকে দুর্বাসার অভিশাপ ভোগ করতে হয়েছে।

পতির সঙ্গে মিলনের আশায় তিনি বিরহের দুঃখকে বরণ করেছেন। 

তিনি সমস্ত দুঃখকে ভাগ‍্যের বিরম্বনা বলে স্বীকার করেছেন । দুষ‍্যন্তও পরিশেষে বলেছেন-” বসনে পরিধূসরে বসলঃ  শুদ্ধশীলা মং দীঘং বিরহব্রতং বিভর্তি।”

আত্মসম্মানবোধ

কোমল,সরলা, লজ্জাশীলা শকুন্তলার দৃঢ় চেতনার প্রতীক। গান্ধর্ব বিবাহকে দুষ‍্যন্ত অস্বীকার করেছেন। দুষ‍্যন্তের কথাগুলি শকুন্তলার জ্বলন্ত আগুনের মতো মনে হয়েছে। 

শকুন্তলা নারীত্বের এই অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে দুষ‍্যন্তকে -ধনকঞ্চুক,অনার্য, তৃণাচ্ছন্ন,কৃপ ইত্যাদি বলে তিরস্কার করেছেন।

এখানে শকুন্তলার চারিত্রিক দৃঢ়তা,নারীত্বের প্রতি আস্থা,  আত্মসম্মানবোধ প্রভৃতি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে উঠেছে।

পরিশেষে শকুন্তলার চরিত্র বিশ্লেষণ সম্পর্কে বলা যায় যে মহাকবি কালিদাসের প্রতিভা স্পর্শে শকুন্তলার চরিত্রটি নারীত্বের অপূর্ব গৌরব মহিমায় মন্ডিত হয়ে ভারতীয় আদর্শ নারী চরিত্রে পরিণত হয়েছে

(FAQ) শকুন্তলা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য

শকুন্তলা স্বামীর নাম কি ?

শকুন্তলা স্বামীর নাম রাজা দূষ্যন্ত .।

শকুন্তলা পুত্রের নাম কি ?

শকুন্তলা পুত্রের নাম সর্বাদমন । যে পরবর্তীকালে ভরত নামে পরিচিত হয়েছিল ।

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ পিডিএফ / শকুন্তলার কাহিনী pdf

আরো পড়ুন –

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকের অন্য ভাবসম্প্রসারণগুলি

আরো পড়ুন-

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটক-এর অন্যান্য বিষয়গুলি –

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ নাটকের শ্লোকগুলির সংস্কৃত বাখ্যা

আরো পড়ুন – মহাকবি কালিদাস

Leave a Comment