বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটক (টীকা) সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা

বিক্রমোর্বশীয়ম্ (টীকা)- মহাকবি কালিদাস রচিত বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটক সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হল নোটস এর আকারে । বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটক এর বিষয়বস্তু আলোচনা করা হল।

বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটক (টীকা)

নাটক সুচনা

সংস্কৃত কাব্যকাননে নাট্যকার রূপে মহাকবি কালিদাস যেন প্রস্ফুটিত পরিজাত। কী কাব্যে, কী বিক্রমোর্বশীয়ম্ ” একাধারে তিনি সব্যসাচী। তাঁর রচিত তিনখানি নাটক সংস্কৃত সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ” বিক্রমোর্বশীয়ম্ ” মহাকবি কালিদাসের পাঁচ অঙ্কে রচিত ত্রোটক জাতীয়রূপক।

বিক্রমোর্বশীয়ম নাটক এর নামককরণ 

এই নাটকের নায়ক বীর বিক্রম রাজা পুরূরবা এবং নায়িকা স্বর্গের অপ্সরা ঊর্বশী। পুরূরবা প্রবল বিক্রমের সঙ্গে যুদ্ধ করে কেশী দানবের হাত থেকে ঊর্বশীকে উদ্ধার করেছিলেন।

তাই নাটকের ” বিক্রমোর্বশীয়ম্ ” নামকরনটি যথার্থ স্বার্থক হয়েছে।

বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটক এর বিষয়বস্তু

স্বর্গের অপ্সরা ঊর্বশীর সঙ্গে মর্ত্যের রাজা পুরূরবার প্রণয়কাহিনীকে অবলম্বন করে নাটকটি রচিত।

কেশী নামক অসূর ঊর্বশীকে অপহরন করার চেষ্টা করলে পুরূরবা তাঁকে উদ্ধার করেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দর্শনে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন।

এরপর পুরূরবা ঊর্বশীকে নিয়ে মর্ত্যলোকে আসেন। কিছুদিন পর দেবরাজ ইন্দ্রের আহ্বানে “লক্ষ্মীস্বয়ম্বর ” নাটকে অভিনয় করতে ঊর্বশীকে চলে আসতে হয় স্বর্গে ।

সেখানে অভিনয় কালে – “তুমি কাকে ভালোবাসা ?”– মেনকার এই প্রশ্নর উত্তরে ঊর্বশী “পুরুষোত্তম”-এর জায়গায় ভুল করে বলে ফেলেন “পুরূরবা”।

নাট্যাচার্য ভরতমুনির অভিশাপে ঊর্বশীকে স্বর্গভূমি ত্যাগ করে চলে আসতে হয় মর্ত্যে। ভরতমুনির এই অভিশাপ ঊর্বশীর পক্ষে হল আশীর্বাদ। ইন্দ্র ঊর্বশীকে পুত্রমুখ না দেখা পর্যন্ত মর্ত্যে থাকার অনুমতি দিলেন।

ঘটনাক্রমে তাঁদের পুত্র আয়ুর জন্ম হল। তাই রাজা পুরুরবা যখন পত্নী বিচ্ছেদের আশঙ্কায় চিন্তিত, এমন সময় দেবর্ষী নারদ এসে বার্তা নিমেদন করলেন-

দেবাসূরের যুদ্ধে ইন্দ্রের প্রধান সহায় পুরুরবার জয়ের পুরস্কার স্বরূপ তিনি ঊর্বশীকে কাছে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। নাটকটি শেষ হল নায়ক-নায়িকার অভীষ্ট লাভের মধ্য দিয়ে।

মূল্যায়ন:- 

কবিকূল চূড়ামনি মহাকবি কালিদাস তাঁর বিক্রমোর্বশীয়ম্ নাটকে ঊর্বশীর বিরহে প্রেমোন্মত্ত রাজা পুরুরবার মর্মস্পর্শী বিলোপের যে কাব্যরূপ তুলে ধরেছেন, তা সকলের হৃদয়কে স্পর্শ করে।

প্রকৃতির বর্ণনাও চমৎকার । কবির সুতীক্ষ্ন দৃষ্টিতে নাটকের প্রধান-অপ্রধান সমস্ত চরিত্র গুলিই যেন প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে।

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যান্য টীকা গুলি পড়ুন

Join Our Facebook Page

Leave a Comment