(টীকা) হিতোপদেশ – সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের ইতিহাস

সংস্কৃত গল্প সাহিত্যের ইতিহাস এর অন্তর্গত বিষ্ণুশর্মা রচিত হিতোপদেশ সম্পর্কে টীকা হিসাবে তুলে ধরা হল ।

হিতোপদেশ (টীকা)

সূচনা –

গল্প সাহিত্যের পথিকৃৎ হলেন বিষ্ণুশর্মা।
তারই পরে গল্প সাহিত্যে রচনা কাদের মধ্যে নারায়ণশর্মা অগ্রগণ্য।
নারায়ণশর্মা হিতোপদেশ রচনা করে গল্প পিপাসু মানুষের মনের মন্দিরে চিরন্তন স্থান দখল করে নিয়েছেন।


কবি পরিচিতি –

হিতোপদেশ গ্রন্থের শেষে নারায়ণ শর্মা তার সামান্য পরিচয় দিয়েছেন।
নারায়ণ শর্মা ধবল চন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। কবির আবির্ভাব কাল সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়নি, একটি পুঁথিতে উল্লেখ করার তারিখ ও ভাষা থেকে মনে হয় তিনি একাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিরাজমান ছিলেন।

হিতোপদেশ রচনার কারণ –

গ্রন্থটির মুখবন্ধ হতে জানা যায় পাটলিপুত্রের রাজার পুত্রদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে হিতোপদেশ রচিত হয়েছিল।

পণ্ডিত নারায়ণশর্মা ছিলেন রাজা ধবলচন্দ্রের সভাকবি। তিনি পাটলিপুত্রের রাজা সুদর্শনের পুত্রদের বিদ্যা শিক্ষা দেওয়ার জন্য “হিতোপদেশ” গ্রন্থটি রচনা করেন। নারায়ণশর্মা রাজা ধবলচন্দ্রের প্রশংসা করে বলেছেন-

“শ্রীমান্ ধবলচন্দ্রঅসৌ জীয়ন্মান্ডলিকা রিপূন্।
যেনায়াং সংগ্রহো যত্নাল্লেখয়িত্বা প্রচারিত:।।”

হিতোপদেশ এর উৎস –

হিতোপদেশ সাধারণত পঞ্চতন্ত্রের অনুকরণে রচিত। এছাড়া বেতাল পঞ্চবিংশতি , রামায়ণ , মহাভারত হতেও অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন।


হিতোপদেশ এর মূল্যায়ন –


হিতোপদেশ চারটি অধ্যায় বিভক্ত । মিত্রলাভ, সুহৃদ্ ভেদ ,বিগ্রহ ,সন্ধি এই চারটি অধ্যায় 43 টি গল্প আছে । এই গল্পগুলিতে এমন এক জগত সৃষ্টি হয়েছে যে কল্পলোকে শিশুরা পায় পরম পরিতৃপ্তি। গল্পের মধ্যে স্থান ও ব্যক্তিদের নামকরণের চমৎকারিত্ব দেখা যায়।

বিষয়বস্তু :-

“হিতোপদেশ” গ্রন্থটি চারটি অধ্যায়ে মোট ৪৩টি গল্প আছে। “মিত্রলাভ” অধ্যায়টি বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার কারণ আছে। “সুহৃদভেদ”-এ বন্ধুত্ব বিনাশের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। “সন্ধি”-তে আছে পারস্পরিক সহাবস্থানের গল্প। “বিগ্রহ” অধ্যায়টিতে যুদ্ধ এবং উপদেশমূলক নীতিবাক্য স্থান পেয়েছে। “দুর্দান্ত নামে সিংহ”, “মহাতপা নামে মুনি”, “দীর্ঘমুখ নামে বক”, “ফুল্লোৎপল নামে সরোবর প্রভৃতি নামে স্বাদের চিত্তাকর্ষক গল্পগুলি বালক-বালিকাদের মানে আনন্দের শিহরণ জাগায়।

উপসংহার –

পরিশেষে বলা যায় প্রাচীন ভারতের এই গল্প সাহিত্যের বৈচিত্র ও বৈভব শ্রেষ্ঠ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে । এই গ্রন্থের নীতি উপদেশ গুলি দেশের সীমার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে সকল মানবের চলার পথের পাথেয় হয়ে উঠেছে। নারায়ণ শর্মা শুধুমাত্র বালকদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ করেন নি, সমাজের পরিবর্তন হলেও আদিম প্রবৃত্ত যে বর্তমান তা আমরা দৈনন্দিন জীবনে দেখতে পাই। প্রতিটি নীতিবাক্য আজও সমাজে সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক।

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যান্য টীকা গুলি পড়ুন

Join Our Facebook Page

Leave a Comment