বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত (Harshacharita) গদ্য কাব্য (টীকা)

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস হতে বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত (Harshacharita) গদ্য কাব্যের টীকা রচনা করা হল । বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত গদ্য কাব্য আলোচনা করা হল।

হর্ষচরিত(Harshacharita) গদ্য কাব্য (টীকা)

বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত গদ্য কাব্যের টীকা

হর্ষচরিত গদ্য কাব্য

সংস্কৃত সাহিত্যের নিপুণ শিল্পী বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত আখ্যায়িকা শ্রেণীর গদ্য কাব্য। ইতিহাসের নায়ক অবলম্বনে রচিত হর্ষচরিত তাঁর প্রথম গ্রন্থ হলেও কাব্যগুনই এখানে প্রধান।

গ্রন্থের শুরুতে কতকগুলি শ্লোকে তিনি পূর্ববর্তী ভাস,কালিদাস প্রমুখ আদর্শ কবিদের প্রশস্তি রচনা করেছেন-

ক)”সপাতকৈর্যশো লেভে ভাসো দেবকুলৈরিব।।”

হর্ষচরিত গদ্য কাব্য

খ)”নির্গতাসু ন বা কস‍্য/কালিদাসস‍্য সূক্তিষু।
প্রীতিমধুরমার্দ্রাসু/মঞ্জরীষ্বিব জায়তে।।”

হর্ষচরিত গদ্য কাব্য

হর্ষচরিত গদ্য কাব্যের নামকরণ

এই ‘হর্ষচরিত’ আটটি উচ্ছ্বাসে বিভক্ত ঐতিহাসিক গদ্য কাব্য রচনা। এতে ইতিহাস প্রসিদ্ধ সম্রাট (খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী) হর্ষবর্ধনের জন্ম বৃত্তান্ত, রাজনৈতিক অভিযান প্রভৃতি বর্ণিত হয়েছে। এই গ্রন্থে আটটি উচ্ছ্বাসের মধ‍্যে ছয়টিতে হর্ষবর্ধনকে কেন্দ্র করে গ্রন্থটি আবর্তিত হয়েছে বলেই আখ্যায়িকা ধর্মী গদ‍্যকাব‍্যের নামকরণ ‘হর্ষচরিত’ যুক্তিসঙ্গত হয়েছে।

হর্ষচরিত গদ্য কাব্যের বিষয়বস্তু

প্রথম উচ্ছ্বাস

‘হর্ষচরিত’ -এ প্রথম উচ্ছ্বাসে বানভট্ট নিজের বংশবলীর পরিচয় দিয়েছেন। কবির যৌবন কাল পর্যন্ত কার্যকলাপও এই অংশে রয়েছে।

দ্বিতীয় উচ্ছ্বাস

দ্বিতীয় উচ্ছ্বাসে হর্ষবর্ধনের আদেশে তার সভায় বাণভট্টের আগমন কথা।

তৃতীয় উচ্ছ্বাস

তৃতীয় উচ্ছ্বাসে জানা যায় বানভট্টের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের আগমন কথা। ঘরে ফিরে নিজের আত্মীয় স্বজনদের কাছে রাজা হর্ষবর্ধনের ও স্থানেশ্বরের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বানভট্ট।

চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ উচ্ছ্বাস

চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ উচ্ছ্বাসে একে একে বর্ণিত হয়েছে পুষ্যভূতি রাজা থেকে মহান রাজ বংশের উদ্ভব, থানেশ্বর রাজ প্রভাকরবর্ধনের কার্যাবলী, তার দুই পুত্র রাজ্যবর্ধন ও হর্ষবর্ধন এবং কন্যা রাজশ্রীর জন্মকথা, রাজশ্রীর সঙ্গে গ্রহবর্মার বিবাহ, হূনদের বিরুদ্ধে রাজ‍্যবর্ধনের অভিযান, প্রভাকরের মৃত্যু, মালবরাজের সঙ্গে গ্রহবর্মার যুদ্ধ, গৌর রাজ্যের হাতে রাজ্যবর্ধনের মৃত্যু প্রভৃতি।

সপ্তম উচ্ছ্বাস

সপ্তম উচ্ছ্বাসে গৌড় রাজ্যের বিরুদ্ধে হর্ষবর্ধনের যুদ্ধযাত্রা।

অষ্টম উচ্ছ্বাস

অষ্টম উচ্ছ্বাসে আশ্রমে সমবেত অশেষ ধর্ম সম্প্রদায়ের ভাবগম্ভীর সমাবেশ এবং সত্য, সাম‍্য ও অহিংসার দিব্য পরিবেশের বর্ণনা বড়ই সুন্দর। সেখানে দিবাকর মিত্র হর্ষবর্ধনকে রাজশ্রীর খোঁজ দেন। রাজশ্রীকে নিয়ে হর্ষবর্ধন তার শিবিরে ফিরে আসেন। এখানেই ক্রমশ সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যার অন্ধকারে কাব্যটিরও যবনিকা পড়ে।

হর্ষচরিত গদ্য কাব্যের রচনাশৈলী

ঐতিহাসিক কাহিনীকে অবলম্বন করে ‘হর্ষচরিত’- এই প্রথম গদ্য রচনার প্রয়াস দেখতে পাওয়া যায়। এদিক দিয়ে গ্রন্থটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এই গ্রন্থে আমরা সমকালীন দেশ, জাতি ও সমাজের ছবি দেখতে পায়।

অবশ্য তা সত্ত্বেও এটিকে যথার্থ ঐতিহাসিক কাব্য বলা যায় না। কারণ হর্ষচরিতে ঐতিহাসিক তথ্যের পাশাপাশি কল্পনারও যথেষ্ট আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কাব্যগুণ বেশি মাত্রায় দেখা যায়। শেষে বলা যায় শব্দের ঝংকারে, বর্ণনার বাস্তবতায় ও কল্পনার সরিমায় বানভট্টের গ্রন্থ সংস্কৃত গদ‍্য সাহিত্যে পরিশেষ উল্লেখযোগ্য।

হর্ষচরিত (Harshacharita) গদ্য কাব্যের গুরুত্ব বা মূল‍্যায়ণ

বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’ ইতিহাসের পটভূমিকায় নির্মিত গদ্যশিল্পে অলংকৃত এটি একটি অনবদ্য কাব্যগ্রন্থ। এখানে রয়েছে গদ্যের প্রাণ সমাসবহুল ওজঃ গুনের সম্পর্ক।

আবার শান্ত সমাহিত বিষয়ের বর্ণনায় সরল। প্রাঞ্জল ও স্নিগ্ধ ভাষার সুন্দর আবেদন। ভাষার বৈভবে, ঐশ্বর্যে, শব্দের গাম্ভীর্যে, প্রকৃতির লীলাবৈচিত্র‍্যে, চিত্রন ও বিচিত্র চরিত্র চিত্রণের কারুশিল্পে, ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে কবি কল্পনার সুন্দর ও সাবলীলা সংমিশ্রণে গদ্যকাব্যটি সংস্কৃত সাহিত্যের সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

বানভট্ট রচিত হর্ষচরিত গদ্য কাব্য আলোচনা করা হল।নিম্নের এই পোস্ট গুলি আপনি দেখ তে পারেন

Leave a Comment