সিদ্ধান্তক‍ৌমুদী: পরিভাষা ব‍্যাখ‍্যা – অসিদ্ধং বহিরঙ্গম্ অন্তরঙ্গে

সিদ্ধান্তক‍ৌমুদী হতে পরিভাষা ব‍্যাখ‍্যা অসিদ্ধং বহিরঙ্গম্ অন্তরঙ্গে।

সিদ্ধান্তক‍ৌমুদী হতে পরিভাষা ব‍্যাখ‍্যা – অসিদ্ধং বহিরঙ্গম্ অন্তরঙ্গে


উৎস:- আচার্য ভট্টোজি দীক্ষিত বিরচিত সিদ্ধান্তক‍ৌমুদী গ্রন্থের পূর্বার্ধে আলোচ‍্য দীক্ষিত পরিভাষাটি বিদ‍্যমান।

প্রসঙ্গ:- সিদ্ধান্তকৌমুদী -তে পরিভাষা প্রকরণের শেষে দীক্ষিত তিনটি বিশেষ পরিভাষার উল্লেখ করেছেন। এই পরিভাষা গুলি পাণিনীয় সূত্র নয়। তবে এগুলি বৈয়াকরণ সমাজে বিশেষভাবে স্বীকৃত এবং এদের মর্যাদা সূত্রের সমতুল‍্য বলা বলে। এগুলি সাধারণত ন‍্যায়সিদ্ধ বা জ্ঞাপকসিদ্ধ। দীক্ষিত এখানে যে তিনটি পরিভাষার উল্লেখ করেছেন তাদের প্রত‍্যেকটি সূত্রের বলাবল সংক্রান্ত। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কোন্ সূত্র কোন সূত্র অপেক্ষা বলবান হবে সে বিষয়ে এই পরিভাষাগুলিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি পরিভাষার মধ‍্যে এটি একটি।

বৃত্তিটির অর্থ:- অন্তরঙ্গের বিষয়ে বহিরঙ্গ অসিদ্ধ হয়।

পরিভাষা ব‍্যাখ‍্যা – অসিদ্ধং বহিরঙ্গম্ অন্তরঙ্গে

বহিরঙ্গ অন্তরঙ্গ দুটি স্থলেই অঙ্গ শব্দের অর্থ নিমিত্ত। অল্পাপেক্ষ অন্তরঙ্গ এবং বহুপেক্ষ বহিরঙ্গ। অন্থরঙ্গ দুইপ্রকার -যুগপৎ প্রবর্ত্তমান ও পশ্চাৎ প্রবর্ত্তমান। বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ দুটি বিধির যদি এককালে প্রবৃত্তি হয়, তাহলে প্রথম প্রকারের অন্তরঙ্গ। আর বহিরঙ্গ প্রবৃত্ত হবার সময় দ্বিতীয় প্রকার অন্তরঙ্গের প্রবৃত্তির কোনো কারণ না থাকায় তখন প্রবৃত্ত হতে পারেনা, কিন্তু বহিরঙ্গ বিধি প্রবৃত্ত হবার পর অন্তরঙ্গ প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয় প্রকারের অন্তরঙ্গ প্রবৃত্ত হতে পারে।

প্রথম প্রকারের অন্তরঙ্গ বহিরঙ্গভাবের উদাহরণ শিবেহি। দ্বিতীয় প্রকারের অন্তরঙ্গ বহিরঙ্গভাবের উদাহরণ পচাবেদম্। যুগপৎ প্রবর্ত্তমান বহিরঙ্গ যে অন্তরঙ্গের দৃষ্টিতে অসিদ্ধ হয় সেটি লোকন‍্যায়সিদ্ধ। ভাষ‍্যকার এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করেছেন-মানুষ প্রাতঃকালে উঠে প্রথমে মুখ প্রক্ষালণাদি শারীরিক কার্য‍্য সম্পন্ন করেন। পরে সুহৃদবর্গের এবং তারও পরে সম্বন্ধিবর্গের প্রয়োজন মেটায়। ঠিক তেমনি অন্তরঙ্গ কার্যটি আগে হওয়ার কথা।

Leave a Comment