যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা: ব‍্যবহারাধ‍্যায় – সাধারন ব‍্যবহার মাতৃকা প্রকরণম্

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক গুলির অনুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হল।

Table of Contents

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক গুলির অনুবাদ

অথ সাধারণ ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-1

শ্লোক নং -১ (রাজাই প্রধান বিচার)

” ব‍্যবহারান্নৃপঃ পশ‍্যেদ্ বিদ্বদ্ভিঃ ব্রাহ্মণৈঃ সহ।
ধর্মশাস্ত্রানুসারেণ ক্রোধলোভবিবর্জিতঃ।।”

অনুবাদ:- বিভিন্ন শাস্ত্রে সুপণ্ডিত বিদ্বান্ ব্রাহ্মণগণের সহিত ধর্ম শাস্ত্রের বিধান অনুসারে রাজা ক্রোধ ও লোভ বিসর্জন দিয়ে ব্যবহার দর্শন অর্থাৎ বিবাদের বিচার করবেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-2

শ্লোক নং-২( বিচার সভার সদস‍্যবিন্দ)

” শ্রুতাধ‍্যয়নসম্পন্না ধর্মজ্ঞাঃ সত‍্যবাদিনঃ।
রাজ্ঞা সভাসদঃ কার্যা রিপৌ মিত্রে চ যে মাঃ।।

অনুবাদ:- রাজা মীমাংসা ব্যাকরণাদি শাস্ত্র শ্রবণকারী, বেদাদ অধ্যায়ন সম্পন্ন ধর্মশাস্ত্রবিদ্, সত্যবাদী এবং শত্রু ও মিত্রের প্রতি সমমনোভাবাপন্ন সভাসদ্ নিযুক্ত করবেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-3

শ্লোক নং -৩ (বিচার সভায় একজন ব্রাহ্মণের নিযুক্তি )

” অপশ‍্যতা কার্যবশাদ্ ব‍্যবহারান্ নৃপেন তু।
সভ‍্যৈঃ সহ নিযোক্তব‍্যো ব্রাহ্মণঃ সর্বধর্মবিৎ।।”

অনুবাদ:- অন‍্য কার্যে ব‍্যস্ত থাকার জন‍্য স্বয়ং ব‍্যবহারদর্শনে অসমর্থ রাজা সভ‍্যগণের সঙ্গে একজন সর্বধর্মবেত্তা ব্রাহ্মণকে বিচারক রূপে নিযুক্ত করবেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-4

শ্লোক নং :- ৪ (প্রাড্ বিবাক পক্ষপাতদুষ্ট হলে রাজার কর্ত্তব‍্য বলা হচ্ছে)

“রাগাল্লোভাদ্ভয়াদ্বাপি স্মৃত‍্যপেতাদিকারিণঃ।
সভ‍্যাঃ পৃথক্ পৃথক্ দন্ড‍্যা বিবাদাদ্ দিগুনং দমম্।।”

অনুবাদ:-  অত‍্যধিক স্নেহ, লোভ বা ভয়বশতঃ  যদি উক্ত সভাসদগন স্মৃতিশাস্ত্র অথবা লোকাচার বিরুদ্ধ কর্ম করেন তবে রাজা তাদের প্রত‍্যেককে পৃথক্ পৃথক্ ভাবে বিবদমান বিষয়ের দ্বিগুণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করবেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-5

শ্লোক নং:- ৫ (এখন বিচার্য বিষয় সম্পর্কে বলা হচ্ছে)

” স্মৃত‍্যাচার ব‍্যপেতেন মার্গেনাধর্ষিতঃ পরৈঃ।
আবেদয়তি চেদ্রাজ্ঞে ব‍্যবহার পদং হি তৎ।।”

অনুবাদ :- স্মৃতি ও লোকাচার বিরোধী উপায়ে  অপরের  দ্বারা নিপীড়িত হয়ে যদি কোন কোন ব‍্যাক্তি (প্রতিকারের জন‍্য) রাজার নিকট আবেদন জানায় তবে সেই আবেদনটি বিচারের বিষয় হয়।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-6

শ্লোক নং -৬( লেখক বা মুদ্রকারী দ্বারা আহূত হয়ে বিবাদী উপস্থিত হলে কি করতে হবে, সে সম্বন্ধে বলা হচ্ছে)

” প্রত‍্যর্থিনোঅগ্রতো লেখ‍্যং যথাবেদিতমর্থিনা।
সমামাসতদর্ধাহর্নামজাত‍্যাদিচিহ্নিতম্।।”

অনুবাদ:- অর্থী অর্থাৎ বাদী যেভাবে আবেদন করেছে, প্রত‍্যর্থী বা বিবাদীর সামনে সেই সমূহ বক্তব‍্য বৎসর, মাস, পক্ষ, দিন, নাম, জাতি প্রভৃতি উল্লেখ করে লিখতে হবে।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-7

শ্লোক নং -৭( প্রত‍্যর্থীর জবাব শুনে অর্থীর করণীয় সম্পর্কে বলা হচ্ছে)

” শ্রুতার্থস‍্যোত্তরং  লেখং পূর্বাবেদকসন্নিধৌ।
ততোঅর্থী লেখয়েৎ সদ‍্যঃ প্রতিজ্ঞাতার্থ সাধনম্।।”

অনুবাদ:- অর্থীর আবেদন শুনে প্রত‍্যর্থীর জবাবটি অর্থীর সামনেই লিখতে হবে। অর্থীও তৎক্ষণাৎ আবেদনের স্বপক্ষে প্রমাণ লেখাবেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-8

শ্লোক নং -৮(প্রমান লেখাবার পর কি হবে তাই বলা হচ্ছে)

” তৎ সিদ্ধৌ সিদ্ধিমাপ্নোতি বিপরীতমতোঅন‍‍্যথা।
চতুষ্পাদ্ ব‍্যবহারোঅয়ং বিবাদেষু প্রদর্শিতঃ।।

অনুবাদ:- আবেদনকারীর (অর্থীর ) অভিযোগ বা পক্ষটি প্রমাণাদির দ্বারা প্রমাণিত হলে অর্থী জয়লাভ করে আর সেটি প্রমাণ করতে না পারলে বিবাদ বিষয়ের (ঋনাদানাদি অষ্টাদশ বিবাদক্ষেত্রে) চারটি পাদ বা অংশরূপ বিচার পদ্ধতি বা ব‍্যবহার বিধি।

অথ অসাধারণব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-9

শ্লোক নং -৯ (সাধারন বিচারবিধি বলার পর এখন বিশেষ বিচার বিধি বলা হচ্ছে)

” অভিযোগমনিস্তীর্য নৈনং প্রত‍্যভিযোজয়েৎ।
অভিযুক্তশ্চ নান‍্যেন নোক্তং বিপ্রকৃতিং ণয়েৎ।।”

অনুবাদ :- অর্থীর উত্থাপিত অভিযোগটির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রত‍্যর্থী অর্থীর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তুলতে পারবে না। অন‍্য কোনো ব‍্যাক্তিও ঐ একই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করতে পারবে না। অর্থীর অভিযোগ যা যা বলা হয়েছে ভাষাকালে অর্থাৎ লেখবার সময়ও তাই লেখাতে হবে, কোনোরকম পরিবর্তন করা যাবে না।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-10

শ্লোক নং -১০(অভিযোগমনিস্তীর্য ইত‍্যাদি পূর্বশ্লোকের অপবাদ অর্থাৎ বিপরীত রূপে নিম্নশ্লোকের অবতারনা করা হয়েছে।

“কুর্যাৎ প্রত‍্যভিযোগং চ কলহে সাহসেষু চ।
উভয়োঃ প্রতিভূর্গ্রাহ‍্যঃ সমর্থঃ কার্যনির্ণয়ে।।”

অনুবাদ:- বাক্ পারুষ‍্যাদি ঝগড়ায় এবং বিষ ও অস্ত্রাদি দ্বারা প্রাণনাশে সাহসের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রত্যভিযোগে অর্থাৎ পালটা অভিযোগ করতে পারে। তখন বাদী ও প্রতিবাদী এই উভয় পক্ষের দন্ডাদি নির্ণয়ে সক্ষম প্রতিভু অর্থাৎ জামিনদার রাজা গ্রহণ বা নিযুক্ত করতে পারেন।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-11

শ্লোক নং-১১ (অর্থী ও প্রত‍্যর্থীর সেই নির্ণয়াত্মক কাজটি কি যার জন‍্য প্রতিভূর প্রয়োজন? তাই বলা হচ্ছে)

“নিহ্নবে ভাবিতো দ‍দ‍্যাৎধনং রাজ্ঞে চ তৎসমম্।
মিথ‍্যাভিযোগী দ্বিগুনম্ অভিযোগাদ্ ধনং হরেৎ।।”

অনুবাদ :- অর্থীর উত্থাপিত অভিযোগটি প্রত্যর্থী যদি অপলাপ বা অস্বীকার করে তবে সাক্ষী প্রভৃতির দ্বারা পরে অঙ্গীকৃত বা  স্বীকৃত হলে প্রত‍্যর্থী অর্থীকে অভিযুক্ত ধন দেবে এবং রাজাকে তার সমান পরিমাণ অর্থও দেবে। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগকারী অভিযুক্ত অর্থের দ্বিগুণ ধন রাজাকে দণ্ডরূপ দেবে।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-12

শ্লোক নং -১২(প্রত‍্যর্থীর উত্তর লিখতে কিছুটা সময় লাগলেও কোন্ ক্ষেত্রে অর্থীর প্রমাণ লেখাতে সময় দেওয়া যাবে না, তা বলা হচ্ছে।)

” সাহসস্তেয় পারুষ‍্যগোঅভিশাপাত‍্যয়ে স্ত্রিয়াম্।
বিবাদয়েৎ সদ‍্য এব কালোঅন‍্যত্রেচ্ছয়া স্মৃতঃ।।”

অনুবাদ:- সাহস অর্থাৎ বিষ ও অস্ত্রাদি দ্বারা হত্যার চেষ্টায় চৌর্যবৃত্তিতে, রূঢ় বাক‍্য প্রয়োগে, গাভী পাপজনক কার্যে বা অভিশাপে, ধন ও প্রাণ নাশের বিষয়ে, কুলস্ত্রী ও দাসীর বিবাদে রাজা সময় না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদীকে উত্তর দেওয়াবেন। অন‍্যান‍্য অভিযোগের বিষয়ে উত্তর দেওয়ার জন‍্য অর্থী, প্রত‍্যর্থী ও সভাসদগণের ইচ্ছানুসারে সময় নির্ধারিত হবে।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-13,14,15

শ্লোক নং -১৩,১৪,১৫( এখন দোষীদের বিকারচিহ্ন বর্ণনা করা হচ্ছে)।

“দেশাদ্ দেশান্তরং যাতি সৃক্কিনী পরিলেঢ়ি চ।
ললাটং স্বিদ‍্যতে চাস‍্য মুখং বৈবর্ণ‍্যমেতি চ।।” ১৩

“পরিশুষ‍্যৎস্খলবাক‍্যো বিরূদ্ধং বহু ভাষতে।
বাক্ চক্ষুঃ পূজয়তি নো তথাষ্ঠৌ নির্ভুজত‍্যপি।। “১৪

” স্বভাবাদ্বিকৃতিং গচ্ছেন্মনোবাক্কায়কর্মভিঃ।
অভিযোগেঅথ সাক্ষ‍্যে বা দুষ্টঃ স পরিকীর্ত্তিতঃ।।”১৫

অনুবাদ:- যে লোক বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ায়, ওষ্টপ্রান্ত জিহ্বা দ্বারা লেহন করে, যার কপাল স্বতঃ ঘর্মাক্ত হয়,  মুখ বিবর্ণ হয়ে যায়, কন্ঠ শুকিয়ে যায়, বাক্য স্খলিত হওয়ায় বহু প্রকার বিরোধী কথা বলে, পরের কথায় কোন উত্তর দেয় না, ভালোভাবে কারো দিকে তাকায় না, নিজের ঠোঁট বাঁকিয়ে রাখে,মন বাক্য শরীর ও কাজের মধ্যে স্বাভাবিক বিকৃতি প্রকাশ করে সেই ব্যক্তিকে বাদী অথবা সাক্ষী রূপে দোষী স্থির করা হয় অর্থাৎ সে অভিযোগ করার বা সাক্ষ্য দেওয়ার অনুপযোগী।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-16

শ্লোক নং -১৬( দণ্ডার্হ সম্পর্কে বলা হচ্ছে)

” সন্দিগ্ধার্থংস্বতন্ত্রো যঃ সাধয়েৎ যশ্চ নিষ্পতেৎ।
ন চাহূতো বদেৎ কিঞ্চিৎহীনো দণ্ড‍্যশ্চ স স্মৃতঃ।।”

অনুবাদ:- যে বিচারক বা সভ্য সাক্ষ্য প্রমাণাদি প্রমাণ না নিয়ে অর্থাৎ সম‍্যক বিচার না করে অধমর্ন দ্বারা অস্বীকৃত বিষয়কে সত্য বলে নির্ণয় করে, যে প্রতিবাদী প্রমাণিত অর্থ না দিয়ে পলায়ন করে, যে ব্যক্তি বিচার সভায় আহত হয়েও কিছু বলে না, এরা প্রত্যেকেই হীন ও দন্ডণীয় রূপে কথিত।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-17

শ্লোক নং-১৭ (যদি দুজন বিচার প্রার্থী একই অভিযোগ করে তাহলে কি করণীয়, তাই বলা হচ্ছে।)

” সাক্ষিষুভয়তঃ সৎসু সাক্ষিণঃ পূর্ববাদিনঃ।
পূর্বে পক্ষেঅধরীভূতে ভবন্তুত্তরবাদিনঃ।।” ১৭

অনুবাদ:- একই দাবি নিয়ে দুজন একই সঙ্গে বিচার প্রার্থী হলে প্রথমে জমিটি যার ছিল তারই সাক্ষী গনকে প্রথমে জিজ্ঞাসা করতে হবে। প্রথম পক্ষের সাক্ষী দুর্বল হলে দ্বিতীয় পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-18

শ্লোক নং -১৮ (এখন বাজী রেখে বিবাদের বিচার সম্পর্কে বলা হচ্ছে)

” সপনশ্চেদ্ বিবাদঃ স‍্যাৎ তত্র হীনং তু দাপয়েৎ।
দণ্ডং চ স্বপনং চৈব ধনিশে ধনমেব চ।।”

অনুবাদ:- যদি মামলাটি বাজী বা পণ রেখে দায়ের করা হয়, তাহলে রাজা বা বিচারকহীন অর্থাৎ পরাজিত প্রত্যর্থীকে নিজের পণের সমান অর্থ দেওয়াবেন এবং সেও পণের সম অর্থ রাজাকে দন্ড হিসেবে দেবে এবং অর্থীকে  পণের অর্থ দেবে।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-19

শ্লোক নং- ১৯ (নিরপেক্ষ বিচার প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে)

” ছলং নিরস‍্য ভূতেন ব‍্যবহারান্নয়েন্নৃপঃ।
ভূতমপ‍্যনুপন‍্যস্তং হীয়তে ব‍্যবহারতঃ।।”

অনুবাদ:- প্রতারণা, ছলাদি দূর করে রাজা প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে বিচারের নিষ্পত্তি করবেন। যদি বিচারে প্রকৃত সত‍্যটি প্রকাশিত না হয় তাহলে সেটি বিচার্য বিষয় হবে না।

যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা ব‍্যবহারাধ‍্যায় সাধারন ব‍্যবহারমাতৃকা প্রকরণম্ হতে শ্লোক-20

শ্লোক নং -২০ ( উপরোক্ত সিদ্ধান্তের উদাহরণ বলা হচ্ছে)

” নিহ্নুতে লিখিতং নৈকম্ একদেশে বিভাবিতঃ।
দাপ‍্যঃ সর্বং নৃপেণার্থং ন গ্রাহ‍্যস্ত্বনিবেদিতঃ।।”

অনুবাদ:- ভাষাকালে অর্থীর লিখিত সকল অভিযোগ যদি প্রত‍্যর্থী অস্বীকার করে এবং পড়ে সাক্ষ্য প্রমাণাদি দ্বারা যদি অভিযোগের একাংশও সত্যরূপে প্রবাণিত হয় তবে রাজা অর্থীর অভিযোগে উল্লিখিত সকল বিষয়ই প্রত‍্যর্থীকে দিয়ে দেওয়াবেন।  কিন্তু অভিযোগ অনুল্লিখিত অর্থ আবেদনে যেটি লেখা হয়নি সেগুলোকে রাজা গ্রহণ করবেন না।


যাজ্ঞবল্ক‍্যসংহিতা: ব‍্যবহারাধ‍্যায় – সাধারন ব‍্যবহার মাতৃকা প্রকরণম্ হতে প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment