সাধারণ ব্যাকরণ পদ প্রকরণ

পদ প্রকরণ সাধারণ ব্যাকরণ – পদ কাকে বলে ? বিশেষ্যপদ কাকে বলে ? সর্বনাম কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কিকি ? ক্রিয়াপদ কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কি কি?

পদ প্রকরণ সাধারণ ব্যাকরণ – পদ কাকে বলে? বিশেষ্যপদ কাকে বলে ? সর্বনাম কাকে বলে? কয় প্রকার ও কিকি? ক্রিয়াপদ কাকে বলে? কয় প্রকার ও কি কি?

১)পদ কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কিকি?


সুপ্ ও তিঙ্ বিভক্তি যুক্ত শব্দকে বলা হয় পদ
এই পদ মূলতঃ দুই প্রকার সুবন্ত পদ (নামপদ) এবং তিঙন্ত পদ ( ক্রিয়াপদ) নামপদের অন্তর্ভুক্ত বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়। এবং তিঙন্তের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ক্রিয়া।


১.ক) বিশেষ্যপদ কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কিকি?

(গুণাদিভিস্তু যদ্ভেদ্যং তদ্বিশেষ্যমুদাহৃতম্)


যে পদের দ্বারা কোন ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি,গুণ, অবস্থা ও ক্রিয়ার বোধ জন্মায় তাকে বলে বিশেষ্যপদ।

এই বিশেষ্যপদ আট প্রকার
১) সংজ্ঞাবাচক = রাম, শ্যাম, সীতা
২) বস্তুবাচক = পুস্তক, টিভি, ফোন
৩) স্থানবাচক = কলিকাতা, দিল্লি,
৪) জাতিবাচক = মনুষ্য,গৌ,নারী
৫) গুণবাচক = দয়া,ক্ষমা, ঘৃণা
৬) অবস্থাবাচক = যৌনবম্,দারিদ্রম্,
৭) ক্রিয়াবাচক = গমনম্, ভোজনম্, দর্শনম্
৮) কালবাচক = গ্রীষ্মকালঃ, শীতকালঃ


( বস্তুতঃ সকল বিশেষ্যপদ ই সংজ্ঞাবাচক হয় , এবং পরে সেটি বস্তুবাচক, জাতিবাচক,গুণবাচক ইত্যাদি বিভাগানুসারে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়)


খ) বিশেষণ কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কিকি?

বিশেষ্যতে অনেনেতি বিশেষণম্
যে পদের দ্বারা বিশেষ্যের দোষগুণাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় বিশেষণ।

এই বিশেষণ পাঁচ প্রকার প্রকার

১) বিশেষ্যের বিশেষণ,

২) বিশেষণের বিশেষণ,

৩) ক্রিয়ার বিশেষণ

৪) অব্যয়ের বিশেষণ

৫) সর্বনামের বিশেষণ


১) বিশেষ্যের বিশেষণ= যে পদের দ্বারা বিশেষ্যের দোষগুণাদি প্রকাশিত হয়,সেটি বিশেষ্যের বিশেষণ।

যথা = সুশীলঃ বালকঃ এখানে বালকটি বিশেষ্যপদ , বালকটি কেমন ?? বালকটি সুশীল এখানে সুশীল হচ্ছে বালকের বিশেষণ, তাই এটি বিশেষ্যের বিশেষণ। আবার কখনো কখনো সর্বনাম বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হয়,

যথা “সঃ উত্তমঃ” “এষা উত্তমা” ইত্যাদি। মূলতঃ সর্বনাম বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু প্রয়োগানুসারে বিশেষ্যরূপেও প্রযুক্ত হয়।
( উল্লেখ্যঃ বিশেষণের বিশেষণ, অব্যয়ের বিশেষণ,এবং ক্রিয়ার বিশেষণ হচ্ছে ক্লীব লিঙ্গে এবং একবচনে ব্যবহৃত হয়।। )


২) বিশেষণের বিশেষণ= যে পদের মাধ্যমে বিশেষণ বিশেষিত হয়, তাকে বলে বিশেষ্যের বিশেষণ। যথা “অত্যন্তম্ মধুরম্ বাক্যম্” এখানে বাক্য হচ্ছে বিশেষ্যপদ, বাক্যটি কেমন ?

মধুর। কেমন মধুর? উঃ= অত্যন্তম্ মধুরম্। এখানে বাক্যম্ এর বিশেষণ মধুরম্, মধুরম্ এর বিশেষণ অত্যন্তম্। এখানে অত্যন্তম্ হচ্ছে বিশেষণের বিশেষণ।।


৩) ক্রিয়ার বিশেষণ= যে পদের দ্বারা ক্রিয়ার অবস্থা বর্ণিত হয়, তাকে ক্রিয়ার বিশেষণ বলে।


যথা = সঃ উত্তমম্ গায়তি এখানে সে কেমন গান করে ভাল গান করে, তাই ভাল এর পর্যায়বাচী উত্তম পদটি গায়তি ক্রিয়ার বিশেষণ। উল্লেখ্য কিছু কিছু অব্যয় ও ক্রিয়ার বিশেষণরূপে প্রযুক্ত হতে পারে, যথা =সঃ শনৈঃ শনৈঃ গচ্ছতি এখানে সে কেমন যাচ্ছে ??

উঃ= ধীরে ধীরে ।

এখানে “শনৈঃ শনৈঃ” অর্থাৎ ধীরে ধীরে পদটি গমন ক্রিয়ার বিশেষণ।

ক্রিয়াবিশেষণানাং কর্মত্বম্ একত্বম্ নপুংসকত্বম্ চ

ক্রিয়াবিশেষণ


৪)অব্যয়ের বিশেষণ = যে সকল পদের দ্বারা অব্যয়ের অবস্থা বোঝান হয়, তাকে বলে অব্যয়ের বিশেষণ।। যেমন “প্রাতঃ মনোহরম্” প্রাতঃকালটি কেমন?

উঃ= মনোহরম্ । এখানে “মনোহরম্” এই পদটি “প্রাতঃ” এই অব্যয়ের বিশেষণ।।

৫) সর্বনামের বিশেষণ= যে পদের দ্বারা সর্বনামের দোষগুণাদি প্রকাশিত হয়, তাকে বলে সর্বনামের বিশেষণ। যথা = সঃ উত্তমঃ। সা উত্তমা। তৎ সমীচিনম্।


গ) সর্বনাম কাকে বলে ? কয় প্রকার ও কিকি? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও?

উ= যে সকল পদ বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ্যের অর্থকেই দ্যোতিত করে
তাকে বলে সর্বনাম ।

এই সর্বনাম পাঁচ প্রকার

সর্বাদীনি সর্বনামানি


১)সর্বাদি।
২)অন্যাদি
৩)পূর্বাদি
৪)ইদমাদি
৫) যদাদি


ঘ) অব্যয় কাকে বলে ?

যে সমস্ত পদ তিনটি বচন, লিঙ্গ,সকল বিভক্তি তে একইরকম থাকে অর্থাৎ যে সকল পদের কোন পরিবর্তন হয় না তাকে বলে অব্যয়।

(সদৃশং ত্রিষু লিঙ্গেষু সর্বাসু চ বিভক্তিষু
বচনেষু চ সর্বেষু যন্ন ব্যেতি তদব্যয়ম্)

যথা= দিবা সূর্যোদয়ঃ ভবতি
দিবা হচ্ছে অব্যয় পদ।।

উল্লেখ্য ক্ত্বাচ্,ল্যপ্ ,তুমুন্,ণমুল, ত্রল,তসিল ইত্যাদি প্রত্যয়নিষ্পন্ন পদ সমূহ এবং অব্যয়ীভাব সমাস নিষ্পন্ন পদ হচ্ছে অব্যয়।


৫) ক্রিয়াপদ কাকে বলে? কয় প্রকার ও কি কি?

যার দ্বারা কোন কাজ করাকে বোঝায় তাকে বলে ক্রিয়াপদ।

এই ক্রিয়াপদ সাত প্রকার-
১) সমাপিকা ক্রিয়া
২) অসমাপিকা ক্রিয়া
৩) সকর্মক ক্রিয়া
৪) অকর্মক ক্রিয়া
৫) দ্বিকর্মক ক্রিয়া
৬) অবিবক্ষিত ক্রিয়া।
৭) গত্যর্থক ক্রিয়া
৮) ক্রিয়ার্থা ক্রিয়া।

অব্যয়ীভাব সমাস- দ্বিতীয় পর্ব

Leave a Comment