উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প –প্রকল্পের শিরোনাম জ্যোতির্বিদ্যা ও গনিত। higher secondary twelfth class sanskrit project work.

উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প- জ্যোতির্বিদ্যা ও গনিত

higher secondary twelfth class Sanskrit project work

দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-1)

কৃতজ্ঞতা স্বীকার


পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদপ্রবর্তিত পাঠক্রমে দ্বাদশ শ্রেণীর চূড়ন্ত পরীক্ষার জন্য প্রকল্পনির্বাচিত হয়েছে। পাঠক্রমে থাকা পকল্পগুলির মধ্যে বৈজ্ঞানিক সাহিত্য রূপে জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত আমার ভালো লাগে সামান্য অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবং শিক্ষক মহাশয়েরসঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্পের বিষয় স্থির করে; আমার প্রকল্পের শিরোনাম জ্যোতির্বিদ্যা ও গনিত’।

আমার প্রিয় শিক্ষক ………….(শিক্ষকের নাম) ………….. কে .আমি হার্দিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি । তিনি এই পরিকল্পনা রূপায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন এবং প্রজেক্ট তৈরি ও তথ্য সংগ্রহ সহ বহু মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এর জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-2)

ভূমিকা


কোন সময় কোন জনপদের সাহিত্যের উদ্ভব তা আজও অজানা । তবে একথা স্বীকার করা যায় পৃথিবীর প্রথম লিখিত সাহিত্য বেদ । বেদ নির্ভর ছিল জ্ঞান যজ্ঞের এর উপর । এই কারণে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান তিথি রাশি প্রভৃতি প্রয়োজনীয়তা থেকে বেদাঙ্গ জ্যোতিষের সৃষ্টি । তবে এই জ্যোতিষ বিদ্যা দুই প্রকার ফলিত জ্যোতিষ ও গণিত জ্যোতিষ ।
ফলিত জ্যোতিষ হলো গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানভেদে পৃথিবীর উপর তাদের প্রভাব এবং গণিত হলো তাদের হিসেব-নিকেশ । জ্যোতিষ বিদ্যা ও গণিতবিদ্যা আলাদা কোন সাহিত্য নয় এরা একে অপরের পরিপূরক । সুতরাং গণিত হলো জ্যোতিষবিদ্যার অংশবিশেষ ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-3)


প্রকল্পের বিষয়


প্রাচীন ভারতে জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে আলোচনায় এই প্রকল্পটির বিষয়বস্তু ।

প্রকল্পটির গুরুত্ব


বর্তমান যুগের বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান অর্থাৎ চন্দ্রগ্রহণ সূর্যগ্রহণ রাত্রি বিভাগ বৎসর মাস গণনা এসব প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা হতে পাওয়া যায় । এমনকি ত্রিকোণমিতির সূত্র দশমিক ও শূন্যের ব্যবহার প্রাচীন সাহিত্য গুলিতে পাওয়া যায় । প্রাচীন ভারতের জ্যোতির্বিদ্যার সম্পর্কে কৌতূহল অনেকের এ কারণে প্রকল্পটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-4)


প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য


এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো জ্যোতিষশাস্ত্র যে শুধুমাত্র হস্তরেখা বিচার এই ভ্রান্ত ধারণা দূর করা । জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান ও বিভিন্ন কাল নির্ধারণ আজ যে অনুষ্ঠিত উপস্থাপিত হবে । এছাড়া প্রাচীন ভারতের সমাজ ব্যবস্থার চিত্র সকলের মানসপটে ভেসে উঠবে । অর্থাৎ প্রকল্পের উদ্দেশ্য গুলি হল –

  • 1) প্রকল্পটির মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বে জ্যোতিষ বিদ্যা সম্পর্কে ধারণা স্বচ্ছ হবে ।
  • 2) এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে ।
  • 3) জ্যোতিষ বিদ্যা সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়বে ।
  • 4 ) পরবর্তীকালে ছাত্রছাত্রীরা অনুপ্রাণিত হয়ে উচ্চ শিক্ষার বিষয় হিসেবে জ্যোতিষ বিদ্যা কে গ্রহণ করবে ।

দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-5)

পরিকল্পনা


জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের উপর প্রকল্প রূপায়ণ করতে হলে প্রথমে আর্যভট্ট বরাহমিহির এর জীবনী জানতে হবে । এবং তারা কি কি সাহিত্য রচনা করেছে তা অনুসন্ধান করতে হবে । এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে সাহিত্যের ইতিহাসে আর্যভট্ট বরাহমিহির এর সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য লিপিবদ্ধ আছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ করতে হবে । এছাড়া ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে হবে ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-6)


তথ্য সংগ্রহ


আর্যভট্ট


ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম আর্যভট্ট । আর্যভট্ট হলেন জ্যোতির্বিদ্যার জনক তিনি 476 খ্রিস্টাব্দে পাটলিপুত্রে জন্মগ্রহণ করেন আর্যভট্ট জ্যোতিষের উপর তিন খানা গ্রন্থ রচনা করেন ।


আর্যভট্টিয়


এই গ্রন্থে আর্য ভট্ট প্রথম প্রকাশ করেন পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে । এছাড়া এই গ্রন্থে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ এর প্রকৃত কারণ বছর মাস দিন বিভাগ আলোচিত হয়েছে । এমনকি গণিতের অনেক নিয়ম সুন্দরভাবে সমাধান করা হয়েছে । যেমন – সুদকষা বর্গমূল ঘনমূল দ্বিঘাত সমীকরণ প্রভৃতি ।


আর্যাষ্টশতক


এই গ্রন্থে বর্ষ বিভাগ লিপ্ত আছে যেমন ১২ মাসে ১ বছর ও ৩০ দিনে ১ মাস প্রভৃতি ।


দশগীতিকা সূত্র


এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু মহাকাশ পর্যবেক্ষণ অর্থাৎ বিভিন্ন গ্রহের আবর্তন পথ আলোচিত হয়েছে ।


গণিতে আর্যভট্টের অবদান


দশমিকের ব্যবহার ও শূন্যের ব্যবহার করেন স্বয়ং আর্যভট্ট ত্রিকোণমিতির অনেক আধুনিক সূত্র আর্য ভট্ট ব্যবহার করেন । যেমন সহিন ভার সহিন প্রভৃতি । আর্য ভট্ট গ্রন্থের এর মান নির্ণয় করা আছে ।


জ্যোতির্বিদ্যার আর্যভট্টের অবদান


পৃথিবীর পরিধি আবিষ্কার । যেটা বের করেছিলেন তা প্রায় নির্ভুল সৌরজগতের সূর্য কেন্দ্রীয় বাকি অন্যান্য গ্রহ গুলি তাকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার পথে ভ্রমণ করেছে । এছাড়া চন্দ্রগ্রহণ সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তিনি প্রথম দিয়েছিলেন ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-7)


বরাহমিহির


বরাহমিহির গুপ্তযুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গাণিতিক । তিনি বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় অন্যতম ছিলেন তাঁর রচিত গ্রন্থ গুলি হল পঞ্চসিদ্ধান্তিকা ,বৃহৎসংহিতা বৃহজ্জাতক , লঘুজাতক প্রভৃতি ।


জ্যোতিষ বিদ্যায় বরাহমিহির এর অবদান


বরাহমিহির সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের আবর্তন সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ এর সময় কাল নির্ণয় পদ্ধতি আবিষ্কার করেন । এছাড়া বছরকে ৩৬৬ দিনে বিভক্ত করেন ।
অর্থাৎ তিনি প্রথমে নির্ণয় করেন সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘুরতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ।


গণিত শাস্ত্রে অবদান


তিনি কয়েকটি ত্রিকোণমিতির সূত্র আবিষ্কার করেন ।

  • i) sin2 x + cos2 x =1
  • ii ) sin x = cos (x\2 – x )
  • iii ) 1 – cos 2x sin2 x2


এছাড়া আর্যভট্ট এর প্রদত্ত sin সরণি গুলি উন্নতি সাধন করে


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-8)


তথ্য বিশ্লেষণ


আর্যভট্ট বরাহমিহির এর জীবন ইতিহাস থেকে শুরু করে তাদের আবিষ্কার ও সাহিত্যের দিনগুলো খোঁজে বিভিন্ন প্রশ্ন এর মাধ্যমে উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে এছাড়া প্রাচীন মানচিত্র এবং সেই সময়কার ভৌগোলিক অবস্থান সংগ্রহ করা হয়েছে । এইভাবে সমস্ত তথ্য গুলি বিশ্লেষণ করে ঘটনা পরস্পর সাজানো যাবে । এমনকি তৎকালীন মানুষের ধর্ম বিশ্বাস বিশ্লেষণ করা আবশ্যক ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-9)


সিদ্ধান্ত


আর্যভট্ট ও বরাহমিহিরের সাহিত্যিক বিষয় গুলি বিশ্লেষণ করে কিংবা প্রাপ্ত উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে বর্তমান ভারত তথা পৃথিবীর সংস্কৃতির ধারক ও বাহক আমাদের প্রাচীন সাহিত্যে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । ভারতবর্ষের ছিল ধর্মীয় সংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র । সে যুগে বিজ্ঞান ও ধর্ম ওতপ্রোত যুক্ত ছিল ।


দ্বাদশ শ্রেণীর সংস্কৃত প্রকল্প (Page-10)


প্রকল্প রূপায়ণ এর সীমাবদ্ধতা


কোন প্রকল্প রূপায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রয়োজন হল সেই বিষয়ের উপর যথেষ্ট জ্ঞান । এই জ্ঞান আছে আধেক তথ্যের উপর নির্ভর করে । যেহেতু আর্য ভট্ট বরাহমিহির এর উপর রচিত সাহিত্য আমাদের হাতে নেই । সেহেতু প্রকল্প রূপায়ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে । অর্থাৎ জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিষয়ে অধিক তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ।


উপকরণ


(i) প্রকল্প রূপায়ণ খাতা (ii) কলম (iii) পেন্সিল (iv) ছুরি (v) কাঁচি (vi) রাবার (vii) আঠা (viii) চিত্র ।


Leave a Comment