বাসস্তিকস্বপ্নম্ নাট্যাংশ: ইন্দুশর্মার চরিত্র

বাসস্তিকস্বপ্নম্’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ইন্দুশর্মার চরিত্রের পরিচয় দাও।

বাসস্তিকস্বপ্নম্ নাট্যাংশ অবলম্বনে ইন্দুশর্মার চরিত্রের পরিচয় দাও

শ্রীকৃষ্ণমাচার্য প্রণীত বাসস্তিকস্বপ্নম্ -এর নির্বাচিত অংশ আমরা পাঠ্যরূপে গৃহীত হয়েছে । বাসস্তিকস্বপ্নম্ নাট্যাংশে রাজা ইন্দ্রবর্মার রাজ্যবাসী বৃদ্ধ ইন্দুশর্মা। ইন্দুশর্মার চরিত্রের বিশেষ দিক গুলি এখানে প্রকাশিত হয়েছে ।

ইন্দুশর্মার চরিত্রের চারিত্রিক গুণ গুলি হল –

ইন্দুশর্মার চরিত্রের বিশেষ গুণ দূরদর্শী পিতা

বৃদ্ধ ইন্দুশর্মার কন্যা তরুণী কৌমুদী বসন্ত নামক যুবককে ভালোবাসে। এদিকে পিতা মকরন্দকে কন্যার ভাবী স্বামী হিসেবে বিবেচিত করে বসেছেন। এতে কন্যার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে রাজ্যেরনিয়মানুসারে। তাই রাজার দ্বারস্থ হল কন্যাকে বাঁচানোর জন্য। এতে ইন্দুশর্মার দূরদর্শী পিতার গুণটি প্রকাশিতহয়েছে।

ইন্দুশর্মা হলেন প্রকৃত পিতৃসত্তা

কন্যার পছন্দের পত্র বসন্ত সম্বন্ধে ইন্দুশর্মার ধারণা ভালো নয়। তাই ইন্দুশর্মা অপছন্দের পাত্রের হাতে কন্যাকে তুলে দিতে চান না । প্রত্যেক পিতাই চান তাঁর কন্যাকে সৎপাত্রে তুলে দিতে। এতে ইন্দুশর্মার চরিত্রের প্রকৃত পিতৃসত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

ইন্দুশর্মা প্রকৃত রাজ্যবাসী

রাজা ইন্দ্রবর্মার রাজ্যের নিয়ম হল পিতার আদেশ মতো সন্তানদিগকে বিবাহ করতে হবে, না হলে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে অথবা সারা জীবন বিবাহ না করে থাকতে হবে । কিন্তু এখানে কন্যা কৌমুদী তা মানতে চায় না । পিতা ইন্দুশর্মা হলেন প্রকৃত রাজ্যবাসী, তার মতে রাজার নিয়মকানুনকে পালন করাই উচিত, তিনি শুধু সেই নিয়মকেই অনুসরণ করতে চান—ইন্দুশর্মার চরিত্রের এই দিকটি পরিচয় হয়েছে।

প্রকৃত রাজ্যবাসী বা প্রজা হলেন ইন্দুশর্মা

পিতার কর্তব্য অবশ্যই সৎপাত্রে তাঁর কন্যাকে বিবাহ দেওয়া। কিন্তু কন্যা সেই বিবাহে সহমত পোষণ করছে না—এই দিকটিতেও পিতার দৃষ্টিপাত করা উচিত। কিন্তু দেশাচার বা দেশের বা রাজার নিয়মকে অগ্রাহ্য করে চলাও ঠিক নয়। তাই পিতা হিসেবে উভয় সংকটে পড়ে রাজার শরণাপন্ন হয়েছেন। এতে ইন্দুশর্মাকে প্রকৃত রাজ্যবাসী বা প্রজা হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।

ইন্দুশর্মার চরিত্রের মূল্যায়ন

সুতরাং, ইন্দুশর্মা একজন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ যেন প্রাচীন সমস্ত সদগুণগুলির এক মূর্ত প্রতীক। এইভাবে সগুণেরসমন্বয়ে বৃদ্ধ পিতা ইন্দুশর্মার চরিত্র এক অসাধারণতার রূপ পেয়েছে।

Leave a Comment