একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা অনুসারে ”শত্রবোহপি হিতায়ৈব বিবদন্ড পরস্পরম্ ”-শ্লোকটির তাৎপর্য বিশ্লেষন কর

একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা অনুসারে ”শত্রবোহপি হিতায়ৈব বিবদন্ড পরস্পরম্ ”-শ্লোকটির তাৎপর্য বিশ্লেষন কর। Analysts of the significance of the verse According to the Class XI text .

শত্রবোঅপি হিতায়ৈব বিবদন্ড পরস্পরম্ -শ্লোকটির তাৎপর্য বিশ্লেষন কর।

ভূমিকাঃ-

উদ্ধৃত শ্লোকটি পন্ডিত বিষ্ণুশর্মা রচিত পঞ্চতন্ত্র- এর তৃতীয় তন্ত্র কাকোলূকীয়ম্ – এর অষ্টমকাহিনী ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা- পাঠ‍্যাংশ হতে নেওয়া হয়েছে।

তাৎপর্যঃ- 

শ্লোকটির মূল অর্থ হল -পরস্পর বিবাদকারী শত্রুরা আমাদের মঙ্গল সাধনা করে  থাকে।

যেমন- চোরটি ব্রাহ্মণের জীবন দান করল এবং রাক্ষসটি ব্রাহ্মণের গরুদুটিকে রক্ষা করল।

  মানুষ সমাজবদ্ধ জীব শত্রু-মিত্র সকলের সাথে আমাদের বাস করতে হয়। মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে অপরের অমঙ্গল সাধন করে থাকে। স্বার্থের আঘাতে বন্ধুত্ব হারিয়ে যায় এবং তৃতীয় পক্ষের মঙ্গল সাধন হয়।

  আমাদের পাঠ্যাংশ ব্রহ্ম রাক্ষসটির সাথে চোরের সাক্ষাৎ হয়। চোর যাচ্ছে ব্রাহ্মণের গোরুদুটিকে চুরি করতে।অপরদিকে ব্রহ্মরাক্ষস চলেছে দরিদ্র শীর্ণ ব্রাহ্মণকে ভক্ষণ করতে।

যেহেতু তারা ব্রাহ্মণের ক্ষতি করতে চলেছে সেহেতু তাদের বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়। এরপর রাতে ব্রাহ্মণ ঘুমিয়ে পড়লে রাক্ষসটি তাকে ভক্ষণ করতে চাইলে চোরটি বাধা দেয়। 

এভাবে উভয়েই আপন আপন কর্ম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। তাদের ঝগড়াতে ব্রাহ্মনটি জেগে গিয়ে নিজেকে এবং গোরু দুটিকে থেকে রক্ষা করে।

উপসংহারঃ-

“ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা ” -পাঠ‍্যাংশে চোর ও রাক্ষস পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে দরিদ্র ব্রাহ্মণের জীবন ও তার গোরু দুটিকে রক্ষা করে মূর্খামির পরিচয় দিয়েছে।

তাই বলা হয় থাকে-
“শত্রবোঅপি হিতায়ৈব বিবদন্ত পরস্পরম্।”

1 thought on “একাদশ শ্রেণীর পাঠ্যাংশ ব্রাহ্মণচৌরপিশাচকথা অনুসারে ”শত্রবোহপি হিতায়ৈব বিবদন্ড পরস্পরম্ ”-শ্লোকটির তাৎপর্য বিশ্লেষন কর”

Leave a Comment