কৌটিল্যের মতে দূতের গুনাবলী কি কি? পররাষ্ট্রে দূতের কার্যাবলী

কৌটিল্যের মতে দূতের গুনাবলী কি কি? এ বিষয়ে তার মতে সাথে মনুর বক্তব্য তুলনা মূলক আলোচনা কর? পররাষ্ট্রে দূতের কার্যাবলী কি কি তা বল?


মহাভারতের উদ্যেগপর্ব ও শান্তি পর্বে রাজার দূত নিয়োগের কথা উল্লিখিত হয়েছে। প্রাচীন রাজনীতিতে দূতের ভ‚মিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। এক কথায় দূতই রাজার সুখ ও চোখ। বিশেষ করে পররাষ্ট্র বিষয়ে দূত অপরিহার্য। কারন দূতের মাধ্যমেই রাজাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

এছাড়া দূতের মুখ দিয়ে এক রাজার নিজ বক্তব্য অপর রাজাকে শোনাতেন। তাই বলা হয়েছে ‘‘দূত মুখো হি রাজান:’’ অর্থাৎ দূতই রাজার সুখ।

বিভিন্ন রাজা ও রাজ্যের মধ্যে কি ধরনের সপর্ক স্থাপিত হবে তা সাধারনত দূতের আচার, আচরন ও বক্তব্য উপস্থাপনের উপর নির্ভর করত। দূত আপন কার্যে ব্যর্থ হলে শত্রু রাজার সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠে। এর ফলে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অভাবে স্বরাজ্যের সমূহ ক্ষতি হতে পারে। সূতরাং রাষ্ট্র প্রসাশন ব্যবস্থায় দূতের স্থান ছিল অপরিহার্য এবং তার নিয়োগের প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য।

দূতের গুনাবলী প্রসঙ্গে মহামতি কৌটিল্য বলেন যে,

দূত অমাত্যগুনান্বিত অর্থাৎ সদ্বংশজাত, প্রজ্ঞাবান, সর্বশাস্ত্রবিদ মানসিক দূঢ়তা সম্পন্ন, বিশ্বাস ভাজন এবং রাজার প্রতি ভক্তিমান হওয়া প্রয়োজন।

দূতকে আকার ইঙ্গিতে অভিজ্ঞ হতে হবে। যাতে রাজার মনোভাব ও প্রজাদের রাজার প্রতি মনোভাব বুঝতে সক্ষম হয়।

দূতকে নির্ভিক হতে হবে। প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও দূতকে প্রভ‚রবার্তানির্ভিকভাবে এবং যথাযথ ভাবে উপস্থাপিত করতে হবে।

এছাড়া দূতকে শ্রুতিধর, বাগ্মী ও প্রখর ব্যক্তি সম্পন্ন হওয়া উচিত। যাহাতে রাজার প্রেরীত বার্তা অবিকৃত ভাবে উপস্থাপিত হয় এবং শত্রুরাজার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

এছাড়া দূতকে নির্লোভী ও সংযমী হতে হবে। এখানে কৌটিল্য বর্নিত দূতের গুনাবলীর সঙ্গে মনুর বর্নিত দূতের গুনাবলীর বিষেষ অমিল নেই।

ভগবান মনু মনুসংহিতায় বলেছেন সর্বশাস্ত্রবিদ, আকার, ইঙ্গিত ও আচরন সম্পর্কে অভিজ্ঞ, পবিত্র, চতুর সদ্বংশজাত ব্যক্তিকেই রাজা দূত হিসাবে নিযুক্ত করবেন। এছাড়া বিশ্বস্ত, শুদ্ধ চরিত্র, স্মৃতি শক্তিসম্পন্ন, নির্ভিক, বাগ্মী ও সুন্দর চেহারা যুক্ত দূত বিশেষ প্রশংসনীয়। অতএব দেখা যাচ্ছে মনুবর্নিত দূতের সঙ্গে আচার্য কৌটিল্য বর্নিত দূতের মধ্যে ভেদ নেই।

Leave a Comment