উপায় কয়টি ও কী কী

উপায় কয়টি ও কী কী? ব‍্যাখ‍্যা কর।অথবা, সাম কাকে  বলে? সাম কয়প্রকার ও কী কী? ব‍্যাখ‍্যা কর। অর্থ শাস্ত্র অনুসারে বাখ্যা করো ।

উপায় কয়টি ও কী কী? ব‍্যাখ‍্যা কর।
অথবা, সাম কাকে  বলে? সাম কয়প্রকার ও কী কী? ব‍্যাখ‍্যা কর।


উঃ-

a) সামঃ-

সাম বলতে এককথায় মধুর বচনকে বোঝায়।

তবে উপায় চতুষ্টয়ের মধ‍্যে যে উপায়ের প্রকারন্তরে একাধিক নৃপতিগন পারস্পরিক সমতা বিধান করেন,তাকে সাম নামক উপায় বলা হয়।

সাম পাঁচপ্রকার হয়। যথাক্রমে-


i) গুন সংকীর্তনঃ-

  যে সাম প্রয়োগে কোন ব্যক্তির বংশ শরীর কার্যসিদ্ধি শাস্ত্র সংস্কার প্রভৃতি দ্রব্যাদির গুণের প্রতি যথার্থ মর্যাদা ও স্তুতি করা হয় তার নাম গুন সংকীর্তন।


ii) সম্বন্ধ-উপাখ‍্যানঃ-

যে সাম প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্বন্ধ, যেমন বিবাহ সম্বন্ধ, শনু সম্বন্ধ,জন্ম সম্বন্ধকে প্রকাশ করে তার নাম সম্বন্ধ উপাখ্যান।


iii) পরস্পরের উপকার প্রদর্শনঃ- 

যে সাম প্রয়োগের মধ্য দিয়ে রাজার আত্মপক্ষ ও বিরুদ্ধ পক্ষের উভয়ের উপকার প্রদর্শিত হয় এবং তার উল্লেখ থাকে তাকে পরস্পরের উপকার প্রদর্শন বলে।

iv)আয়াতি প্রদর্শনঃ-

উভয়ের শুভফলের দ্বারা যে আশার সৃষ্টি হয় সাম প্রয়োগের দ্বারা তার নাম আয়াতি-প্রদর্শন।


v) আত্ম-উপনিধানঃ-

যে সাম প্রয়োগের মধ‍্যে দিয়ে আত্মসমর্পনকে বোঝায়। অর্থাৎ, আমার যে দ্রব্য আপনারও সেই দ্রব্য আমিও যে আপনিও সে এইরূপ আত্মসমর্পণ মূলক বক্তব্যের দ্বারা যে সাম  প্রযুক্ত হয় তার নাম আত্ম উপনিধান।

b)দানঃ-

সাম নামক প্রথম প্রকার উপায় প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হলে দান নামক দ্বিতীয় প্রকার উপায় প্রযুক্ত করা বাঞ্ছনীয়

অর্থশাস্ত্রকার কৌটিল্য বলেছেন-“উপপ্রদানমর্থোপকারঃ’। অর্থাৎ,বিজিগীষু রাজারা যখন বিপক্ষীয় রাজার কাছ থেকে অর্থ হিরন‍্যাদি ইত্যাদি প্রদানের দ্বারা উপকার প্রদর্শনের নাম দান।

অথবা  বিজিগীষু রাজারা যখন বিপক্ষীয় দুর্বল নিরীহ শান্তিপ্রিয় প্রজাগণকে গুপ্তচরের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য করে তাদের স্ববশে রাখতে চেষ্টা করেন।

c) ভেদঃ-

অর্থশাস্ত্র কার কৌটিল্যের মতে সাম ও দান নামক প্রথম দুই প্রকার উপায় প্রয়োগে ব্যর্থ হলে তৃতীয় প্রকার উপায় হিসাবে ভেদ প্রযুক্ত করা বাঞ্ছনীয় শত্রু রাজার মিত্র মন্ডলের  মধ্যে পারস্পরিক মতপার্থক্য জনিত কারণে বিরাগভাজন তৈরি করে তাকে নিঃসঙ্গ ও হীন বল করে পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি করাই হল ভেদ।


ভেদ আবার দ্বিবিধ হয।

  • প্রথমত,বল প্রদর্শন করে বা গুপ্তচরের দ্বারা রাজার পরাক্রম ও বল প্রাচুর্যাদি  শুনিয়ে শত্রুর মনে আশঙ্কা তৈরি করা।
  • দ্বিতীয়ত, নির্ভৎসন, অর্থাৎ  শত্রুর মিত্র পক্ষকে হত্যা বা  অপকার করব এই বলে ভৎসনা করা বা ভয় দেখানো।

d) দন্ডঃ-

দন্ড হলো উপায় চতুষ্টয় এর মধ্যে সর্বশেষ ও উৎকৃষ্ট উপায় মহামতি কৌটিল্যের মতে কোন রাজা সাম দাম ও ভেদ নামক প্রথম তিন প্রকার উপায় প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হলে দন্ড নামক চতুর্থ উপায় করা দন্ড বলতে বোঝায় যেখানে রাজা স্বয়ং অস্ত্র হস্তে বিপক্ষ রাজাদের প্রতি নিজস্ব বল ও শক্তি প্রদর্শন করেন।


দন্ড আবার ত্রিবিধ হয় যথাক্রমে-


*বধ বা হত‍্যাঃ-

যখন বিপক্ষ পরাজিত রাজাকে ক্ষমা না করে সরাসরি বধ বা হত্যা করেন।


*বন্ধন-তাড়নাদি পীড়াঃ-

যখন বিপক্ষ রাজাকে পরাজিত হলে কারাগারে বন্দি করে নানাভাবে পীড়া প্রয়োগ করা হয।


*অর্থের- অপহরনঃ-

যখন শত্রু পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ না করে সৈন্য প্রেরণ করে শত্রুপক্ষীয় রাজার অর্থ লুন্ঠন বা ধনসম্পত্তি লুঠ করা হয়।

Leave a Comment