শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্ : বিষয়বস্তু

শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্ বিষয়বস্তু আলোচনা করা হল ।

শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্ এর বিষয়বস্তু আলোচনা

হিন্দু জনজীবন আন্দোলিত হয়ে ওঠে গঙ্গার নাম মাহাত্ম্যে , গঙ্গা মাহাত্ম্যে। অষ্টম শতাব্দীর একজন বিখ্যাত দার্শনিক ও অদ্বৈত বেদাস্তের প্রধান প্রবস্তা শ্রীশংকরাচার্য দিব্যদৃষ্টিতে গঙ্গার মূল্যায়ন সঠিকভাবে করেছেন পজ্ঝটিকা ছন্দে “শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্”-এ।

শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্ এর বিষয়বস্তু শ্লোক অনুসারে আলোচনা

  • (১) গঙ্গার উদ্দেশ্যে তিনি প্রার্থনা করে বলেছেন – হে দেবতাদের দেবী , ভগবতী, স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল এই তিন লোকের পবিত্রকারিণী, তরল তরঙ্গযুক্তা, মহাদেবের মস্তকে বাসকারিণী, নির্মলা, দেবী গঙ্গা তোমার পাদপদ্মে আমার চিত্ত বা ভক্তি নিবিষ্ট হোক।
  • (২) ভাগীরথী, সুখদায়িনী মা, তোমার জলের মহিমা নিগমে (বেদাদিতে) খ্যাত বা প্রসিদ্ধ। আমি (শংকর) গঙ্গার মহিমা জানি না । হে কৃপাময়ী জ্ঞানহীন আমাকে ত্রাণ করুন।
  • (৩) শ্রী হরির চরণপদ্ম থেকে তরঙ্গাকারে নির্গতা, হিম বা ভূষার, চন্দ্র ও মুক্তার মতো শুভ্র তরঙ্গযুক্তা। গঙ্গা শংকরাচার্যের দুষ্কর্মের ভার দূর করুন এবং কৃপা করে সকলের মতো শংকরকে ভব-সাগর থেকে উদ্ধার করুন।
  • (8) গঙ্গার নির্মল জল যে পান করছে সে সর্বশ্রেষ্ঠ ধাম প্রাপ্ত হয়েছে। যে গঙ্গার ভক্ত তাকে যমরাজ নিশ্চয় স্পর্শ করে না অর্থাৎ সে অমরত্ব লাভ করে ।
  • (৫) পতিতকে উদ্ধারকারণী, জাহলী, ভগ্নপ্রস্তরখণ্ডের দ্বারা যাঁর তরঙ্গশোভিত, ভীষ্মজননী, জহুমুনির কন্যা, পতিত-নিবারণী গঙ্গাহলেন ত্রিভুবনের কন্যা।
  • (৬) সমুদ্র-বিহারিণী, দেববধূগণ যাঁর দিকে চঞ্চল দৃষ্টিপাত থাকে, পৃথিবী কল্পলতার মতো ফলদানকারী গঙ্গাকে যে প্রণাম করেসে শোকে পতিত হয় না।
  • (৭) নরক বিনাশকারিণী, পাপকে ধ্বংসকারী স্বমহিমায় অতি শ্রেষ্ঠা জাহ্নবী গঙ্গা, যদি কৃপাবসত গঙ্গাস্রোতে স্নান করলে, তিনি পুনরায় মাতৃগর্ভে প্রবেশ বা জন্মগ্রহণ করেন না।
  • (৮) উজ্জ্বল অঙ্গবিশিষ্টা, পবিত্র তরঙ্গা, কৃপা দৃষ্টিময়ী, তাঁর চরণ দেবরাজ ইন্দ্রের মুকুটে অবস্থিত মণির উদ্ভাসিত অর্থাৎ ইন্দ্র তাঁর চরণে প্রণাম করেন। এমন সুখদায়িনী, মঙ্গল প্রদানকারী, সেবকদের আশ্রয়দাত্রী জাহ্নবীর জয় হোক।
  • (৯) শংকরাচার্য প্রার্থনা করছেন গঙ্গা যেন তাঁর রোগ, শোক, পাপ, তাপ দুষ্টবুদ্ধিগুলি দূর করেন। ত্রিভুবন শ্রেষ্ঠা, পৃথিবীর কণ্ঠহারস্বরূপা গঙ্গা নিশ্চয়ই শংকরাচার্যের একমাত্র গতি।
  • (১০) গঙ্গা স্বর্গপুরীর আনন্দদানকারী, পরম আনন্দস্বরূপিণী, কাতর বা দীনজনের দ্বারা বন্দিতা (পূজিতা), গঙ্গা যেন শংকরের প্রতি করুণা করেন। শংকরাচার্যের বিশ্বাস গঙ্গাতটে বা গঙ্গার কাছে যাঁরা বাস করেন তাঁরা যেন বৈকুণ্ঠেই বাস করছেন।

গঙ্গাস্তোত্রম বিষয়বস্তু হতে জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১. গঙ্গাস্তোত্রম কে লিখেছিলেন?

শংকরাচার্য

২. গঙ্গাস্তোত্রম কোন ছন্দে রচিত?

পজ্ঝটিকা ছন্দে

শ্রী গঙ্গাস্তোত্রম্ হতে অন্যান্য পোস্টগুলি

Comments