রঘুবংশম্: গঙ্গা যমুনা সঙ্গমের অপূর্ব চিত্র

রঘুবংশম্ হতে গঙ্গা যমুনা সঙ্গমের যে অপূর্ব চিত্রটি মহাকবি কালিদাস বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করা হল।

গঙ্গা যমুনা সঙ্গমের যে অপূর্ব চিত্রটি মহাকবি কালিদাস রঘুবংশম্ মহাকাব্যে বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখ


উঃ- ভূমিকাঃ- মহাকবি কালিদাস  রচিত রঘুবংশম্ মহাকাব্যটি রামায়ণ -এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এই মহাকাব্যের ত্রয়োদশ সর্গে লঙ্কা থেকে অযোধ্যা কান্ড পর্যন্ত পথের বর্ণনা কবি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এখানে কবি রামচন্দ্রের মুখ দিয়ে সীতাকে বর্ণনাগুলি শুনিয়েছেন।

পূর্বপ্রসঙ্গঃ-

রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করে পুষ্পক বিমানে চড়ে আকাশ পথে সীতা চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে বিমানের নীচে দর্শনীয় স্থান সমূহের বর্ণনা দিতে চলেছেন। এই সমস্ত প্রশ্ন গুলির মধ্যে অন্যতম হল গঙ্গা ও যমুনা নদীর মিলনস্থল, যা গঙ্গা-যমুনা সংগম নামে বর্ণিত। বর্তমানে এটি এলাহাবাদের প্রয়াগ অবস্থিত।

গঙ্গা-যমুনা সঙ্গম বর্ণনাঃ-

রামচন্দ্র সীতার কাছে উপস্থাপিত করলেন যে, শুভ্র সলিলা গঙ্গা মিলিত হয়েছে নীল সলিলা যমুনার সঙ্গে। অর্থাৎ যেখানে চলছে সাদা ও নীলের খেলা। কবি কালিদাস তাই উপমার  সাহায্যে বলেছেন-

“ক্বচিৎ প্রভালেপিরিন্দ্রনীলৈর্মুক্তাময়ী ষষ্ঠীরিবানুবিদ্ধা
অন‍্যত মালা সিতপঙ্কজানো মিন্দীবরৈকত খচিতান্ডরের।।”

অর্থাৎ কোথায় ইন্দ্রনীল মনি গুলিতে খচিত মুক্তাহারের মতো আবার কোথাও নীল পদ্ম গুলির দ্বারা মধ্যে মধ্যে খচিত শ্বেতপদ্মের মালার মতো শোভা পাচ্ছে।

এছাড়া কালিদাস উপমা প্রয়োগের মাধ্যমে গঙ্গা-যমুনা সংগম বর্ণনা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন মানস সরোবর যেতে ইচ্ছুক রাজহংসরা মিলিত হয়েছে নীল হংসদের সাথে। এছাড়া শুভ্র চন্দ্রকিরণে যেমন একটুকরো পাতার দ্বারা অন্ধকার সৃষ্টি হয়, তেমনি যমুনার নীল জল যেন ছায়ারূপ অলংকার এই অপূর্ব সৌন্দর্য মহাদেবের ভস্ম শোভিত মূর্তি বলে মনে হচ্ছে।

রামচন্দ্র সীতাকে বলেছেন সমুদ্রের এই দুই পেত্নী গঙ্গা ও যমুনার মিলনস্থলে স্নান করলে, আত্মা পবিত্র হয়। পুরাণে আছে গঙ্গা-যমুনা সঙ্গমস্থলে স্নানের মাধ্যমে তথ্য জ্ঞান ছাড়া ব্রহ্মকে লাভ করা যায় না। বেদান্ত শাস্ত্রে আছে এই সঙ্গমস্থলে স্নান করলে মুক্তি লাভ করা যায়। সুতরাং সঙ্গমস্থলের স্নানের ফলে সেই ব্যক্তিকে দেহত্যাগের পর পুনরায় শরীর ধারণ করতে হয় না।

উপসংহারঃ-

গঙ্গা-যমুনা সঙ্গমের বর্ণনায় মহাকবি কালিদাস রঙের খেলায় মত্ত ছিলেন, মনে হচ্ছে যেন বহুদিন দুঃখ ভোগেরর পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে তার হৃদয় যেন উল্লাসিত।স্বল্প পরিসরে সীমিত শ্লোকে প্রকৃতির এক অপূর্ব বর্ণনা তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ গঙ্গা – যমুনার সঙ্গমের বর্ণনায় রচনাশৈলিতে ঘটেছে ভাব ও ভাষার অপূর্ব মিলন। তাই এই বর্ণনা পড়ার সময় পাঠকেরা ভূত-ভবিষ্যৎ ভুলিয়া আত্মহারা হয়ে পড়ে।

আরো পড়ুন

Leave a Comment