রঘুবংশম্: ত্রয়োদশ সর্গ হতে ছোট প্রশ্ন উত্তর

রঘুবংশম্ মহাকাব্যের ত্রয়োদশ সর্গ হতে ছোট প্রশ্ন উত্তর গুলি নিম্নে দেওয়া হল ।

রঘুবংশম্ মহাকাব্যের ত্রয়োদশ সর্গ হতে ছোট প্রশ্ন ও উত্তর

১) রঘুবংশম্ মহাকাব্যের উৎস কি?
উঃ- রঘুবংশম্ মহাকাব্যটির উৎস হল বাল্মিকী প্রণীত রামায়ণ।

২) রঘুবংশম্ মহাকাব্যটিতে কতগুলি সর্গ আছে?
উঃ-ঊনিশটি সর্গ আছে।

৩) রঘুবংশম্ মহাকাব্যের মূল বিষয় কি?
উঃ-রঘুবংশম্ মহাকাব্যের মূল বিষয় হল- রামচন্দ্র সীতাকে নিয়ে আকাশ পথে পুষ্পক রথে করে দণ্ডকারণ্য থেকে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন এই সর্গের মূল বিষয়।

৪) বৈদেহি কে?
উঃ- বৈদিহি হল জনক নন্দিনী সীতা দেবী। রামচন্দ্র তাকে বৈদেহি বলেছেন।

৫) রামচন্দ্র আকাশ পথে যাওয়ার সময় সীতাদেবীকে কি দেখতে বলেছেন?
উঃ- মলয় পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত আমার নির্মিত সেতু দ্বারা বিভক্ত ছায়াপথ শরতের সমাগমে নির্মল উজ্জ্বল তারা মন্ডলির ন‍্যায় ফেনিল জলরাশি অর্থাৎ সমুদ্রকে দেখতে বলেছেন।

৬) কার যজ্ঞীয় অশ্বকে কপিলমুনি কোথায় স্থাপন করেছিল?
উঃ- যজ্ঞাভিলাষী পিতার যজ্ঞীয় অশ্বকে কপিলমুনি পাতালে স্থাপন করেছিলেন। তার জন্য রামচন্দ্রের পূর্বপুরুষেরা পৃথিবীর খনন করতে কপিলমুনিকে বর্ধিত করেছিলেন।

৭) গর্ভং দধত‍্যকর্মরীচয়ো অস্মাদ্ – কোন প্রসঙ্গে কার উদ্দেশ্যে কার উক্তি?
উঃ- কালিদাসের রচিত রঘুবংশম্ মহাকাব্য থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে।
সমুদ্রের মাহাত্ম্য বর্ণনা প্রসঙ্গে সীতা দেবীর উদ্দেশ্যে রামচন্দ্রের উক্তি।

৮) পৃথিবীকে কে রসাতল থেকে উদ্ধার করেন?
উঃ- পৃথিবীকে আদিপুরুষ অর্থাৎ বিষ্ণু রসাতল থেকে উদ্ধার করেছিলেন। তখন সমুদ্রের প্রলয়প্রবৃদ্ধ স্বচ্ছ জলরাশি ক্ষনকালের জন্য বিষ্ণুর মুখের অবগুন্ঠন হয়েছিল।

৯) ব্রহ্মার আবির্ভাব কোথায়?
উঃ- বিষ্ণুর নাভিপদ্মে।

১০) সমুদ্রের তিমি সকলে কি করছে?
উঃ- সমুদ্রের তিমি সকল মুখ উন্মোচনপূর্বক নদীমুখ থেকে জলরাশি গ্রহণ করে মুখ বন্ধ করে ছিদ্রযুক্ত মাথা দিয়ে জল প্রবাহকে ঊর্ধ্বে বের করছে।

১১)সমুদ্রের বেলাভূমিতে নির্গত সাপ অর্থাৎ অজগরেরা কী করছে?
উঃ- সমুদ্রের বেলাভূমিতে বায়োভক্ষনের জন‍্য নির্গত বিশাল তুরঙ্গ তুল‍্য সাপ গুলি সূর্যকিরণের সংস্পর্শে দীপ্তপ্রভ ফনাস্থিত মনির দ্বারা জ্ঞাত হচ্ছে।

১২) প্রবাল সমুদ্রের উপর শঙ্খের দল কেমনভাবে অপসৃত হচ্ছে?
উঃ- প্রবাল সমুদ্রের উপর হঠাৎ তরঙ্গ বেগে প্রক্ষিপ্ত শঙ্খের দল মুখে প্রবালাঙ্কুর বিদ্ধ হওয়ার বহুক্লেশে কোনো রূপে অপসৃত হচ্ছে।

১৩) রঘুবংশম্ মহাকাব্যে কয়েকজন টীকাকারের নাম লেখ। তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ টীকাকার কে? তার টীকার নাম কি?
উঃ- রঘুবংশ মহাকাব্যের কয়েকজন টীকাকার হলেন ভরত মল্লিক, চরিত্রবর্ধন, হিমাদ্রি, ভরতদেবমিশ্র এবং মল্লিনাথ।
এদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ টীকাকার হলেন মল্লিনাথ এবং এর টিকার নাম হল সঞ্জীবনী।

১৪) রঘুবংশ মহাকাব্যের শ্লোকগুলি কোন ছন্দে রচিত?
উঃ- রঘুবংশম্ মহাকাব্যের ত্রয়োদশ সর্গের শ্লোক গুলি উপজাতি ছন্দে রচিত।

১৫) অথাত্মনঃ শব্দগুনংগুনজ্ঞ- এখানে কাকে গুণজ্ঞ বলা হয়েছে এবং কেন?শব্দগুনম্ কথাটির অর্থ কি?
উঃ- মহাকবি কালিদাস রামচন্দ্র কে গুনজ্ঞ বলেছেন।
শব্দগুনম্ শব্দটি বিশ্লেষণ করলে অর্থ হয় শব্দগুন আছে যার অর্থাৎ শব্দ হল আকাশের গুন। ভাষা পরিচ্ছেদে শব্দকে আকাশের বৈশেষিক গুন বলা হয়েছে।

১৬) বৈদেহীপষ‍্য- কে কাকে বৈদেহী বলে সম্বোধন করেছে? বৈদিহী কে
? বক্তা বৈদেহীকে কি দেখালেন? তাকে কোন ঋতুতে নিয়ে ফিরছিলেন?তার প্রমাণ কি?
উঃ- রামচন্দ্র বিধেয় রাজকন্যা সীতাকে বৈদেহী বলে সম্বোধন করেছেন।
বৈদেহী হলো রাজা জনকের কন্যা জানকী সীতা।
রামচন্দ্র সীতাকে তার দ্বারা নির্মিত সেতু দ্বারা মলয় পর্বত পর্যন্ত বিভক্ত ফেনাযুক্ত সমুদ্রকে দেখালেন।
রামচন্দ্র সীতাকে নিয়ে শরৎ ঋতুতে ফিরছিলেন।
তার বর্ণনা রামচন্দ্রের বর্ণনাতে। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন শরতকালের নক্ষত্রখচিত ছায়াপথ সমগ্র আকাশকে দ্বিধা বিভক্ত করেছে।

৭) হরিরিতু বাচ- হরি কে? তিনি কোথা থেকে কি দেখে কাকে বলেছিলেন?
উঃ- হরি হলেন রাম নামক ব্যক্তি।
রামচন্দ্র পুষ্পক রথে সমুদ্রকে দেখে বলেছিলেন।

১৮) রামচন্দ্র সীতা কে প্রথম কি দেখেছিলেন? তার মধ্যে বিশেষ দর্শনীয় কি?
উঃ- রামচন্দ্র সীতাকে সমুদ্র দেখেছিলেন।
তার মধ্যে বিশেষ দর্শনীয় হল রামচন্দ্র কর্তৃক নির্মিত সেতুটি।

১৯) ছায়াপথেনেবশরৎপ্রসন্নম্ – ছায়াপথ কি? কার সঙ্গে ছায়াপথের তুলনা করা হয়েছে?
উঃ- শরতের রাত্রির আকাশে অনেক তারা জ্যোতি দিয়ে তৈরি যে উজ্জ্বল পথ দেখা যায় তাকে ছায়াপথ বলে।এটি আবার আকাশ গঙ্গা নামে পরিচিত।
সমুদ্রের সেতুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। সমুদ্রের বুকে সেতু যেমন নীল জলরাশি কে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়। তেমনি এই ছায়াপথ নীল আকাশকে দুই ভাগে ভাগ করে।

২০) গুরোর্যিযক্ষোঃ কপিলেন মেধ‍্যয়- এখানে গুরোঃ পদে কাকে বোঝানো হয়েছে? কপিল কে? তার আশ্রম কোথায় ছিল?
উঃ- এখানে গুরো পদে রামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ সগর রাজার কথা বলা হয়েছে।
তেজস্বী ঋষি কপিলমুনি সাংখ্য দর্শনের রচয়িতা। তার আশ্রম ছিল পাতালে।

২১) গর্ভং দধর্ত‍্য কর্মরীচয়ো অস্মাৎ- একথা কে কার উদ্দেশ্যে বলেছেন এবং কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
উঃ- লংকা থেকে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন কালে আকাশপথে পুষ্পরথ হতে রামচন্দ্র সমুদ্রকে দেখিয়ে সীতাকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলেছিলেন।
পুষ্পক বিমান হতে সীমাহীন জলপূর্ণ সমুদ্রকে দেখে সমুদ্র মাহাত্ম্য বর্ণনা প্রসঙ্গে একথা বলেছিলেন। সূর্যের তাপে জলবাষ্পে পরিণত হয়ে মেঘের সৃষ্টি হয়। মেঘ বৃষ্টিরূপে পৃথিবীর বুকে নেমে আসে। ফলে পৃথিবী হয় শস‍্যশ‍্যামলা। এর দ্বারা সমুদ্র পরোপকার করে থাকে।

২২) সমুদ্র থেকে কার উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে?
উঃ- সমুদ্রের সূর্য রশ্মি পতিত হয়ে বাষ্পরূপী মেঘের সৃষ্টি হয়। আবার এই সমুদ্রে নানাপ্রকার রত্নেরও সৃষ্টি হয়। কথিত আছে চন্দ্রের উদ্ভব এই সমুদ্র থেকে।

২৩) অবিন্ধনঃ বহ্নিমসৌ বিভর্তি- এখানে অবিন্ধন শব্দে কী বোঝানো হয়েছে? এরূপ নামকরণের কারণ কি? এখানে কোন বহ্নির কথা বলা হয়েছে? তাকে অবিন্ধন বলা হয়েছে কেন? কোন প্রসঙ্গে এই বহ্নির উল্লেখ?
উঃ- অবিন্ধন শব্দে অপ্ অর্থাৎ জল, ইন্ধং অর্থাৎ জ্বালানি শক্তি।
ইন্ধং পেলেই অগ্নি জ্বলে ওঠে। যদিও জল অগ্নির শত্রু তবুও সমুদ্রের জলে আগুনের সৃষ্টি হয়। এই আগুন বা বহ্নি বাড়বানল নামে পরিচিত।যেহেতু এই বাড়বানল অগ্নি ইন্ধন জল,তাই এর বিশেষণ রূপে অবিন্ধনং পদটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সমুদ্রের মাহাত্ম‍্য বর্ণনা প্রসঙ্গে রামচন্দ্র অগ্নির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন সমুদ্র এতই মহান যে জলের শত্রু আগুনকে শুধুমাত্র জন্ম দেয় না, আশ্রয়ও দেয়।

২৪) পক্ষচ্ছিদা গোত্রভিদাত্তগন্ধা শরণ‍্যমেনং শতশো মহীধ্রাঃ- পক্ষচ্ছিদা,গোত্রভিদা,মহীধ্রাঃ পদগুলির অর্থ কী? গোত্রভিদা কাকে বলা হয়েছে? এরূপ বলার কারন কী? অথবা, এখানে উল্লেখিত পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করো। অথবা পর্বতেরা সমুদ্রে আশ্রয় নিয়েছিল কেন?
উঃ- পক্ষচ্ছিদা- পক্ষকে ছেদন করেন যিনি।তিনি পক্ষচ্ছিদা অর্থাৎ ইন্দ্র।
গোত্রভিদা- গোত্রকে ছিন্ন ভিন্ন করেন যিনি তিনি গোত্রভিদা। অর্থাৎ ইন্দ্র(গোত্র-পর্বত)।
মহীধ্রা- মহীকে ধরে রাখে যারা তারা মহীদ্রা অর্থাৎ পর্বত সমূহ।
একসময় পর্বতের ডানা ছিল। তারা বিভিন্ন জনপদে এখানে সেখানে উড়ে বেড়াতো। ফলে তারা যেসব জনপদে বসবাস করত, তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। তখন প্রাণীকূলের আর্ত আবেদনে ইন্দ্র পর্বতদের ডানা কাটতে শুরু করেন, তখন তারা ভীত হয়ে সমুদ্রে আশ্রয় নিয়েছিল।

আরো পড়ুন

Leave a Comment