প্রহসন কি? প্রহসন সম্পর্কে সাধারন তথ‍্য আলোচনা

দৃশ্যকাব্য বা রূপকের দশটি ভাগের মধ্যে প্রহসন অন্যতম। প্রহসন সম্পর্কে সাধারন তথ‍্য তুলে ধরা হল । প্রহসন কি? প্রহসন কয় প্রকার ?

প্রহসন সম্পর্কে সাধারন তথ‍্য

দৃশ্যকাব্য বা রূপকের দশটি ভাগের মধ্যে প্রহসন অন্যতম।প্রহসন হস‍্যতে ইতি প্রহসনম্ অর্থাৎ উৎকৃষ্ট প্রভূত হাসির বিষয় যে দৃশ্য কাব্যে থাকে তাকে প্রহসন বলে এর প্রধান রস হল হাস‍্য এবং চরিত্রগুলি নিম্নশ্রেণির ভন্ড,পাষন্ড,নাস্তিক, অধঃপতিত সন্ন্যাসী,পতিত ব্রাহ্মণ, ধূর্ত, চেট,ক্লীব,গনিকা,কুট্রনী,ভট প্রভৃতি।

প্রহসন কি?

হাস্যরসাত্মক নাটককে প্রহসন বলা হয় । এর উদ্দেশ্য হল হাস্যরস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের আড়ালে অতিরঞ্জিত, অসংযত ও অভাবনীয় অবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন প্রদান করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়াদি, যেমন – অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ চিত্রিত হয়ে থাকে।

প্রহসন কয় প্রকার ?

শুদ্ধ সংকীর্ণ ও বিকৃত ভেদে প্রহসন তিন প্রকার।

সংস্কৃত প্রহসনগুলির মধ‍্যে প্রাচীনতম রচনা কোনটি তার রচয়িতার নাম কি?


সংস্কৃত প্রহসন গুলির মধ্যে মত্তবিলাসম্ প্রাচীনতম রচনা। এর রচয়িতা পল্লব রাজ সিংহবিষ্ণু বর্মার পুত্র মহেন্দ্র বিক্রম।

মত্তবিলাসম্ প্রহসন এর বিষয়বস্তু উল্লেখ করো ?


প্রহসন কার মহেন্দ্র বিক্রম এই প্রহসনের মধ্যে হাস্য পরিহাস পূর্ণ উক্তিটির মাধ্যমে কাপালিক পাশুপত বৌদ্ধ প্রভৃতি ধর্মসম্প্রদায়ের অধঃপতন ভণ্ডামি ও পারস্পরিক বিদ্বেষ ও কলুষতার সার্থক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

ভগবদজ্জুকীয়ম্ প্রহসনটির রচয়িতা নাম করো ?


ভগবদজ্জুকীয়ম্ প্রহসনটির রচয়িতা নাম হল অজ্ঞাত এই প্রহসনের জৈনক টীকাকার বোধায়ন নামক এক কবিকে এর রচয়িতা রূপে উল্লেখ করেছেন

কিন্তু বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে বোধায়ন কে এই প্রহসনের রচয়িতারূপে মেনে নেওয়া যায় না।

ভাগবদজ্জুকীয়ম্ এরূপ নামের অর্থ কি ? এই প্রহসনে কয়টি অঙ্ক আছে?


ভগবান ও আজ্জুকা অর্থাৎ গুরু ও গনিকা। ভগবান স্বরূপ গুরু ও আজ্জুকা অর্থাৎ গণিকার কাহিনী এতে পরিবেশিত হয়েছে এই প্রহসনের চারটি অংক আছে

প্রহসনগুলির মধ্যে এটি উচ্চস্তরের সাহিত্যকৃতি। রুচি বিকৃতির ছাপ নেই- যা অধিকাংশ প্রহসনে থাকে।

হাস‍্যার্নবঃ গ্রন্থটি কোন শ্রেণীর রচনা এর রচয়িতা কে ?


হাস‍্যার্নব সংস্কৃত দৃশ্য কাব্যের অন্তর্গত প্রহসন স্থানীয়। এতে দুটি অংক আছে।
এর রচয়িতা জগদীশ্বর এর আনুমানিক রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব দ্বাদশ শতাব্দী।

হাস‍্যার্নবঃ প্রহসনের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে উল্লেখ করো ?


হাস‍্যার্নবঃ এর কাহিনী এরূপ কুট্টনী বদ্ধুরার কিশোরী কন্যা বারাঙ্গনা মৃগাঙ্কলেখার যৌবনের আকর্ষনে সমাজের নানা স্তরের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত গণিকার অধিকার নিয়ে রাজপুরোহিত ও অন্য আচার্য মদাগ্ধ মিশ্রের মধ্যে বিরোধ বাধে এবং অবশেষে অভয়েই তরুণী গণিকাকে লাভ করলে বিরোধ মিটে যায।

প্রহসন হিসেবে হাসার্নবঃ কতটা সার্থক ?


হাসার্নব নিম্ন শ্রেণীর রচনা।এর ভাব ও ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই অশ্লীল এবং সুরুচির বিপরীত। তাই শ্রদ্ধেয়দে ও দাশগুপ্ত বলেন “The work…can not in any sense be regarded as an attractive production.”

প্রহসন কি?

হাস্যরসাত্মক নাটককে প্রহসন বলা হয় ।

প্রহসন কয় প্রকার ?

প্রহসন তিন প্রকার। শুদ্ধ সংকীর্ণ ও বিকৃত।

সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট গুলি দেখুন

Leave a Comment