সরস্বতী দেবীর স্বরূপ

ঋক সংহিতার প্রথম মন্ডলের প্রথম অনুবাকের তৃতীয় সূক্তকে অবলম্বন করে সরস্বতী দেবীর স্বরূপ প্রদর্শন কর।

সরস্বতী দেবীর স্বরূপ

অবস্থান ঋক সংহিতার প্রথম মন্ডলের প্রথম অনুবাকের তৃতীয় সূক্ত
ঋষি   বিশ্বামিত্রের পুত্র মধুচ্ছন্দা
ছন্দ গায়ত্রী
দেবতা   সরস্বতী
মন্ত্রসংখ‍্যা১২ টি
সবিতা দেবীর স্বরূপ


ভূমিকা:- ঋকবেদে স্ত্রীদেবতার সংখ্যা খুব কম নয়। তাঁদের মধ‍্যে ঊষা, পৃথিবী, রাত্রি,অরণ‍্যানী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঋকবেদে সরস্বতী স্থান অতিগুরুত্বপূর্ণ। একদিকে পবিত্রকারিণী, স্রোতস্বিনী এবং বুদ্ধিপ্রদয়িনী মাধ্যমিকা দেবী বাক। পৃথিবীর সর্বত্রই এই দেবীর অবাধ গতি।

সরস্বতী দেবী সূক্তের ঋষি, দেবতা ছন্দ:-

ঋক সংহিতার প্রথম মন্ডলের প্রথম অনুবাকের তৃতীয় সূক্তটি দ্বাদশ মন্ত্রের সমাহার। এই সূক্তের ঋষি হলেন বিশবামিত্রের পুত্র মধুচ্ছন্দা। প্রতিটি মন্ত্রের ছন্দ হল গায়ত্রী এবং শেষ তিনটিমন্ত্রের দেবতা হলেন সরস্বতী।

সরস্বতী দেবীর স্বরূপ :-

সরস্বতী দেবী সূক্তের তিনটি মন্ত্রে (১০,১১,১২) সরস্বতী দেবীর স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে, তা নিম্নে বর্ণিত হল-

শোধয়িত্রী, অন্নবতী, কর্মফলদাত্রী :-

এই সরস্বতী দেবী হলেন শোধয়ত্রী, তিনি হলেন অন্নবতী। তিনি যজ্ঞমানকে তাঁর প্রাপ‍্য অন্নদান করেন। সরস্বতী দেবী হলেন বুদ্ধির দ্বারা প্রাপ‍্যধনের নিমিত্তস্বরূপা। সরস্বতী দেবী হলেন কর্মফলদাত্রীহ সরস্বতী আমাদের যজ্ঞকামনা করুন।

ঋষির দৃষ্টিতে-

পাবকা নঃ সরস্বতী বাজেভিবাজিনীবতী।
যজ্ঞং বষ্টু ধিয়াবসুঃ।।”

সরস্বতী দেবী বাগদেবী,যজ্ঞধারিকা,শুভকর্মের প্রেরিকা:-

সরস্বতী হলেন বাগদেবী। সরস্বতী যজ্ঞকে ধারণ করেছিলেন।প্রিয় ও সত্য বাক্য বলতে মানুষ সহজে প্রবৃত্ত হয়না। সরস্বতী মনুষ্যকে সত্র ও প্রিয় বাক্য বলার জন্য প্রেরণা দেন, মনে শক্তির সঞ্চার করেন। সরস্বতী মনুষ‍্যের শুভ চেতনাকে জাগ্রত করে তাকে শুভকর্মে প্রেরিত করেন। ঋষির দৃষ্টিতে-

” চোদয়িত্রী সূনৃতানাং চেতন্তী সুমতীনাম্।
যজ্ঞং দধে সরস্বতী।।”

নদীরূপা ও জ্ঞানরূপা সরস্বতী দেবী:-

সরস্বতী নদীরূপে দুরন্তবেগে বয়ে চলেছে। তাঁর দুরন্তগতির মধ্যে দিয়ে গভীর জলরাশি চতুর্দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। সরস্বতী বাগদেবীরূপে সকলের বুদ্ধি ও জ্ঞানকে বিশেষভাবে প্রকাশিত করেন। ঋষির দৃষ্টিতে-

” মহো অর্ণঃ সরস্বতী প্র চেতয়তি কেতুনা।
ধিয়ো বিশ্বা বি রাজতি।।”

উপসংহার:- নদী সমূহের মধ্যে সরস্বতী সর্বাপেক্ষা বলবতী। সরস্বতী শুভ্রবর্ণা। তিনি মরুৎগনের সখী। তিনি অন্তরিক্ষ হতে জল বর্ষণ করেন। সেইহেতু তিনি অন্নবতী। তিনি আমাদের অকল্যাণকর কর্ম হতে নিবৃত্ত করে কল্যাণকর কর্মে প্রেরিত করেন। সরস্বতী যেরূপ দূরন্ত বেগে প্রবাহিত হয়ে চারিদিকে জলরাশিকে বিস্তৃত করেন। সেইরূপ অপরদিকে বাগদেবী রূপে আমাদের অজ্ঞানান্ধকার দূরীভূত করে আমাদের মধ্যে দিব‍্যচেতনার উন্মেষ ঘটান।

আরো পড়ুন –

Leave a Comment