বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা

Table of Contents

বৈদিক বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ১) অগ্নিমীলে ইতি সূক্তং প্রাতরনুবাক আগ্নেয়ে ক্রতৌ বিনিযুক্তম্।।

অনুবাদ:- অগ্নিমীলে ইত‍্যাদি নয়টি ঋকসমন্বিত সম্পূর্ণ সূক্তটি প্রাতরনুবাকের অন্তর্গত আগ্নেয়ক্রতুতে পাঠ করতে হবে।

টীকা:- প্রাতরনুবাক:- অগ্নিষ্টোম সোমযাগের পঞ্চম দিনে সোমলতা থেকে রস নিষ্কাশন করে সেই রস দেবতাদের উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হয়। উক্ত দিবসের নাম সুত্যাদিবস। সেই সুত‍্যাদিবসের পূর্বরাত্রির শেষার্ধে পাখি ডাকিবার পূর্বেই হোতা মন্ত্রপাঠ করে যে স্তুতি করেন, তার নাম প্রাতরনুবাক। এই সময় অগ্নি,ঊষা ও অশ্বিদ্বয় – এই তিন দেবতার উদ্দেশ‍্যে স্তুতি পাঠ করা হয়।

আগ্নেয়ক্রতু:- এই অনুষ্ঠানে প্রত‍্যেক দেবতার উদ্দেশ‍্যে গায়ত্রী প্রভৃতি সপ্তছন্দোযুক্ত অনেক মন্ত্রপাঠের বিধান আছে এবং অগ্নির স্তুতিতে যে মন্ত্রগুলি পঠিত হয় সেই মন্ত্রগুলি আগ্নেয়ক্রতু নামে প্রসিদ্ধ। ক্রতু শব্দটি এখানে স্তববাচক যজ্ঞবাচক নয়।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ২) অগ্নীষোমপ্রণয়ন উপত্বাগ্নে ইত‍্যাদিকোঅনুবচনীয়স্তৃচঃ।

অনুবাদ:- অগ্নীষোমপ্রণয়ন করার সময় উপত্বাগ্নে ইত‍্যাদি তৃচ (পরপর তিনটি ঋক বা মন্ত্র) অনুবচনীয় রূপে পাঠ করতে হয়।

টীকা:- অগ্নীষোমপ্রণয়ন:- অগ্নিষ্টোম সোমযাগে পঞ্চদিন সাধ‍্য। পঞ্চমদিনেই আসল অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু তাহার পূর্বে চারদিন ধরে আরও অন‍্যান‍্য অনুষ্ঠান চলতে থাকে। চতুর্থদিনে অগ্নীষোমপ্রণয়ন কর্মের অনুষ্ঠান হয়। দ্বিতীয় দিনে সোম ক্রয় করে সোমের জন‍্য নির্দিষ্ট আসনে সোমকে রাখা হয়। চতুর্থদিনে ঐ সোমকে ঐষ্ঠিক বেদিতে এবং আহ্বণীয় থেকে অগ্নি এনে আগ্রনীধ‍্রীয় ধিষ্ণ‍্যে স্থাপন করার নাম অগ্নীষোমপ্রণয়ন।

তৃচ:- পরপর তিনটি ঋক্ বা মন্ত্রকে একত্রে তৃচ বলা হয়।
অধ্বর্যু যখন এই অগ্নি ও সোমকে আনয়ন করেন। তখন অধ্বর্যু হোতাকে মন্ত্রপাঠ করার নির্দেশ দেন। হোতা তখন অধ্বর্যুর পশ্চাতে পশ্চাতে গমন করে ‘উপত্বাগ্নে’ থেকে আরম্ভ করে পরপর তিনটি ঋক্ অনুবচনরূপে পাঠ করেন।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৩) আশ্বিনস্তৃচঃ প্রাতরনুবাকস‍্য আশ্বিনে ক্রতৌ বিনিযুক্তঃ।

অনুবাদ:- অশ্বিনা ইত‍্যাদি থেকে শুরু করে পরপর তিনটি বাক অশ্বিদয়ের উদ্দেশ‍্যে প্রাতরনুবাকের আশ্বিনক্রতুতে পাঠ করতে হবে।

টীকা:- প্রাতরনুবাক:- অগ্নিষ্টোম সোমযাগের পঞ্চম দিনে সোমলতা থেকে রস নিষ্কাশন করে সেই রস দেবতাদের উদ্দেশ্যে আহুতি দেওয়া হয়। উক্ত দিবসের নাম সুত‍্যাদিবস। সুত‍্যাদিবসের পূর্বরাত্রির শেষার্ধে পাখি ডাকিবার পূর্বে হোতা মন্ত্র পাঠ করে যে স্তুতি করেন তার নাম প্রাতরনুবাদ। এই সময় অগ্নি, ঊষা ও অশ্বিদ্বয় -এই তিন দেবতার উদ্দেশ্যে স্তুতি পাঠ করা হয়।

আশ্বিনক্রতু :- এই অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দেবতার উদ্দেশ্যে গায়ত্রী প্রভৃতি সপ্তছন্দোযুক্ত অনেক মন্ত্রপাঠের বিধান আছে এবং অশ্বিদ্বয়ের স্তুতিতে মন্ত্রগুলি পঠিত হয়, সেই মন্ত্র গুলি আশ্বিনক্রতু নামে প্রসিদ্ধ। ক্রতু শব্দটি এখানে স্তুতিবাচক, যজ্ঞবাচক নয়।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৪) অগ্নিষ্টোমে বৈশ্বদেবশস্ত্রে সুরূপকৃত্নুমৃতয় ইতি ধায‍্যা।

অনুবাদ:- সুরূপকৃত্নমৃতয়ে ইত‍্যাদি মন্ত্রটি বা ঋকটি অগ্নিষ্টোমযাগে বৈশ্বদেবশস্ত্রে ধায‍্যা রূপে পঠিত হয়।

টীকা:- অগ্নিষ্টোম :- সকল সোমযাগের প্রকৃতি অগ্নিষ্টোম, একে জ‍্যোতিষ্টোমও বলা হয়। সোমযাগে সোমলতার রসই মুখ‍্য আহুতি দ্রব‍্য। সোমযাগে যে বারটি স্তোত্র গীত হয়, তার শেষ স্তোত্রটির নাম অগ্নিষ্টোম।

বৈশ্বদেবশস্ত্র:- ঋকমন্ত্রের আবৃতির মাধ্যমে কোন দেবতার স্তুতিকে শস্ত্র বলা হয়। এই মন্ত্র কেবল আবৃত্তি করা হয়, গান করা হয় না। অগ্নিষ্টোম বা জ‍্যোতিষ্টোম যাগে ১২টি স্তোত্র ও ১২টি শস্ত্র নিবেদিত হয়। প্রাতঃসবনে ৫টি, মাধ‍্যন্দিনসবনে ৫টি ও তৃতীয়সবনে ২টি শস্ত্র মিলিত হয়ে ১২টি শস্ত্র হয়। তৃতীয়সবনে যে দুটি শস্ত্র থাকে তাদের মধ্যে একটি হল বৈশ্বদেবশস্ত্র এবং অন্যটি হলো অগ্নিমারুত শস্ত্র।

ধায‍্যা:- ধ‍্যাযা শব্দটির বুৎপত্তি হল -‘ধায়তে স্থাপ‍্যতে অনয়া ইতি ধায‍্যা, প্রক্ষেপনীয় ইতি অর্থঃ’ । অর্থাৎ, দুটি সূক্তের মধ‍্যে পাঠ‍্যঋককে ধায‍্যা বলা হয়। বৈশ্বদেবশস্ত্রমধ‍্যে এই ঋকটি ধায‍্যারূপে পঠিত হয়।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৫) ” অভিপ্লবষড়অস‍্য মধ‍্যবর্তিষৃকথ‍্যেষু তৃতীয়সবনে মৈত্রাবরুণস‍্যাগ্নে যং যজ্ঞমিত‍্যাদিকো বৈকল্পিকোঅনুরূপস্তৃচঃ।।”

অনুবাদ:- অভিপ্লবষড়অযাগের মধ‍্যবর্তী উক্থ‍্যসমূহে তৃতীয়সবনে ‘অগ্নে যং যজ্ঞম্’ ইত‍্যাদি তৃচ মৈত্রাবরুন নামক ঋত্বিক্ বিকল্পে অনুরূপরূপে পাঠ করবেন।

টীকা:- অভিপ্লবষড়হ:- ছয়দিন ধরে যে সোমযাগের অনুষ্ঠান করা হয় তার নাম ষড়হ যাগ। এই যাগ প্রধানত দ্বিবিধ অভিপ্লবষড়হ ও পূষধ‍্যষড়হ। ষড়হযাগগুলি অহীননামক সত্রযাগের অন্তর্ভুক্ত। দুর্দিন থেকে বারদিনের মধ‍্যে যে সোমযাগগুলি অহীন বলা হয়। অভিপ্লবষড়হযাগে প্রথম দিনে অগ্নিষ্টোমসংস্থাক জ‍্যোতিষ্টোম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে যথাক্রমে উকথ‍্যসংস্থাক- গোষ্টোম, আয়ুষ্টোম এবং অন্তিমদিনে আবার অগ্নিষ্টোম সংস্থাক জ‍্যোতিষ্টোমযাগের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

উক্থ‍্যস্তোত্রের দ্বারা যে সোমযাগের সমাপ্তি ঘটে, তার নাম উক্থ‍্যসংস্থাক সোমযাগ।
উক্থ‍্যসংস্থাক অনুষ্ঠানসমূহের তৃতীয়সবনে পাঁচটি শস্ত্র পঠিত হয়। তাদের মধ‍্যে আবার মধ‍্যে আবার একটি শস্ত্র মৈত্রাবরুন পাঠ করেন।
যখন একাধিক দিবস ধরে সোমযাগ অনুষ্ঠিত হয় তখন পূর্বাপর দিবসগুলিতে অনুষ্ঠেয় ক্রিয়াসমূহের ধারা রক্ষা করবার জন‍্য অনুরূপ তৃচ্ পাঠ করা হয়। সেই আগামী দিবসের পাঠ‍্য স্তোত্রিয় তৃচকে অদ্য অনুরূপ তৃচ্ বলা হয়। স্তোত্রিয়ের সদৃশ বলে, এর নাম অনুরূপ তৃচ্।

মৈত্রাবরুন:- বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে হোতা, উদগাতা, অধ্বর্যু এবং ব্রহ্মা এই চারজন প্রধান পুরোহিতের হোতার সহকারী ঋত্বিক। ইনি সোমযাগে নির্দিষ্ট শস্ত্র পাঠ করেন।

সবন:- সোমযাগের পঞ্চমদিনে সোমরস নিষ্কাশন করে সোমরসের যে আহুতি দেওয়া হয়, তার নাম সবন। এই অনুষ্ঠান ঐদিন তিনবার অনুষ্ঠিত হয়। প্রাতঃকালে যে সবনের অনুষ্ঠান হয়। তার নাম মাধ‍্যন্দিন সবন বা সবন এবং তৃতীয়সবন।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৬) মিত্রং হুবে ইতি মৈত্রাবরুণস্তৃচো গবাময়ন আরম্ভনীয়ে চতুর্বিংশেঅনানি প্রাতঃসবনে মৈত্রাবরুনস‍্য স্তোত্রিয়ঃ।

অনুবাদ:- মিত্রংহুবে ইত‍্যাদি মিত্রাবরুণ দেবতা  সম্বন্ধীয় তৃচ গবাময়ন সত্রযাগের আরম্ভনীয় চতুর্বিংশ দিবসে প্রাতঃসবনে মৈত্রাবরুন নামক ঋত্বিক্ স্তোত্রিয়রূপে পাঠ করবেন।

টীকা:- গবাময়ন:- সত্রনামক সোমযাগসমূহের প্রকৃতি গবাময়ন। এই গবাময়ন সত্র ৩৬১ দিনে (১৮০+১+১৮০) সম্পন্ন হয় বলে, একে সাংবৎসরিক সত্রও বলা হয়। এই গবাময়ন সত্র তিনটি পক্ষে বিভক্ত- পূর্বপক্ষ(১৮০ দিন), উত্তরপক্ষ (১৮০ দিন) ও মধ‍্যবর্তী (১দিন) দিনটির নাম বিষুবদিবস। পূর্বপক্ষের ১৮০ দিনে যে পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানক্রমে অনুষ্ঠিত হয়, উত্তরপক্ষের ১৮০ দিনে তার বিপরীতক্রমে অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে।

চতুর্বিংশদিবস:- সংবৎসরসাধ‍্য সত্রযাগে দ্বিতীয় দিন। ঐ দিন সোমপ্রয়োগে চতুর্বিংশস্তোম গীত হয় বলে ঐদিনের অনুষ্ঠানের নাম চতুর্বিংশ। চতুর্বিংশ দিবসে হোত্রকগন ষড়হস্তোত্রিয় তৃচ পাঠ করেন। মিত্রংহুবে- ইত‍্যাদি তৃচ্ ষড়হস্তোত্রিয়ে মৈত্রাবরুন নামক ঋত্বিক পাঠ করেন।

প্রাতঃসবন:- সোমযাগের পঞ্চমদিনে সোমরস নিষ্কাশন করে সোমরসের যে আহুতি দেওয়া হয়,তার নাম সবন। এই অনুষ্ঠানে ঐদিন তিনবার অনুষ্ঠিত হয়। প্রাতঃকালে যে সবনের অনুষ্ঠান হয়, তার নাম প্রাতঃসবন।

মৈত্রাবরুন:- বৈদিক যজ্ঞানুষ্ঠানে হোতা, উদগাতা, অধ্বর্যু এবং ব্রহ্মা – এই চারজন প্রধান পুরোহিতের প্রত‍্যেকের তিনজন করে সহকারী থাকে। মৈত্রাবরুন হোতার সহকারী ঋত্বিক্। ইনি সোমযাগে নির্দিষ্ট শস্ত্র পাঠ করেন।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৭) বায়ব‍্য তৃচে প্রথমা গ্রহায‍্যনদ্রবায়বস‍্যৈকা পুরোঅনুবাক‍্যা।

অনুবাদ:- যাগ-যজ্ঞাদি ক্রিয়ার সঙ্গে (ঋগ্বেদের) মন্ত্রের সম্বন্ধকে বলা হয় বিনিয়োগ। বিনিয়োগ তিন প্রকার-
i) সূক্ত বিনিয়োগ ( একটি সমগ্র সূক্তের বিনিয়োগ),
ii) তৃচাদি বিনিয়োগ (পরপর তিনটি ঋকমন্ত্রের বিনিয়োগ),
iii) ঋক বিনিয়োগ (একটি ঋকের বিনিয়োগ)। আচার্য সায়ন ‘পাবকা নঃ সরস্বতী’ ইত্যাদি মন্ত্রের বিনিয়োগে উপরিউক্ত বাক্যটি বলেছেন।

অনুবাদ:- বায়ব‍্য তৃচের মধ‍্যে ” বায়বায়াহি দর্শতে” ইত‍্যাদি প্রথম বাক‍্যটি বায়ু দেবতার উদ্দেশ‍্যে পুরোঅনুবাক‍্যা মন্ত্ররূপে পাঠ করা হয়।

টীকা:- বায়ব‍্যতৃচ:- পরপর তিনটি ঋক বা মন্ত্র কে একত্রে তৃচ বলা হয়। বায়ু দেবতার উদ্দেশ্যে যে তিনটি ঋক্ পাঠ  করা হয়,  তাদেরকে একত্রে বায়ব‍্য তৃচ্ বলা হয়।

পুরোঅনুবাক‍্যা:- যাগীয় দেবতাকে অনুকূল করবার জন‍্য যে মন্ত্রসমূহ পঠিত হয় সেই মন্ত্রসমূহকে অনুবাক‍্যা মন্ত্র বলা হয়। এর অপর নাম পুরোঅনুবাক‍্যা। অধ্বর্যু দ্বারা প্রেরিত হয়ে হোতা আহুতি দেওয়ার পূর্বে এই অনুবাক‍্যা মন্ত্র পাঠ করেন।

বিনিয়োগ ব‍্যাখ‍্যা ৮) সারস্বতে তৃচে বা প্রথমা সান্বারম্ভনীয়েষ্টৌ সরস্বত‍্যাঃ পুরোঅনুবাক‍্যা।

অনুবাদ:- অন্বারম্ভনীয়েষ্টি যাগে সারস্বত তৃচের মধ‍্যে ‘পাবকা নঃ সরস্বতী’ ইত‍্যাদি প্রথম ঋকটি চরু আহুতি দেওয়ার সময়ে সরস্বতী দেবীর উদ্দেশ‍্যে পুরোঅনুবাক‍্যা মন্ত্ররূপে পাঠ করা হয়।

টীকা:- সারস্বততৃচ:- পরপর তিনটি ঋক্ বা মন্ত্রকে একত্রে তৃচ্ বলা হয়। সরস্বতী দেবীর উদ্দেশ‍্যে যে তিনটি ঋক্ পাঠ করা হয়। তাদেরকে একত্রে সারস্বত তৃচ বলা হয়।

পুরোঅনুবাক‍্যা:- যাগীয় দেবতাকে অনুকূল করবার জন্য যে মন্ত্রসমূহ পঠিত হয়, সেই মন্ত্র সমূহকে অনুবাক‍্যা মন্ত্র বলা হয়।  এর অপর নাম পুরোঅনুবাক‍্যা। অধ্বর্যু  দ্বারা প্রেরিত হয়ে হোতা আহুতি  দেওয়ার পূর্বে এই অনুবাক‍্যা মন্ত্র পাঠ করেন।

Leave a Comment